শিরোনামঃ
সরকারের বড় সাফল্য স্বাস্থ্য খাতের ওপর নির্ভর করছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী ৮১তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী উচ্চশিক্ষার আড়ালে নীরব মেধাপাচার: বিদেশ গিয়ে আর ফেরেন না শিক্ষকরা জ্বালানির দাম বাড়ানো ছাড়া বিকল্প ছিল না: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী তৃণমূলের আধিপত্য বিস্তারে মুখোমুখি বিএনপি ও জামায়াত হাসপাতাল ঘুরতে ঘুরতে চলেই গেল ছোট্ট তনুশ্রী বেরিয়ে এলো অপ্রতিম হত্যার আসল কারণ আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা: এমপি নজরুল ৪ ও প্রথম স্ত্রী ১ দিনের রিমান্ডে ইট’স অ্যান অর্ডার ‘নিজেকে শেষ করার’ আগে চিরকুটে কষ্টের কথা লিখে গেছেন মরিয়ম
মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:০২ পূর্বাহ্ন

যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে রুশ ভিন্নমতাবলম্বীকে হত্যার ছক: উন্মোচিত হলো পুতিনের গুপ্তচরদের বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক / ১১ বার
প্রকাশ: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে আশ্রিত পুতিনবিরোধীদের কি এবার সরাসরি হত্যার ছক কষছে রাশিয়া? মার্কিন বিচার বিভাগের নতুন একটি চাঞ্চল্যকর অভিযোগপত্র প্রকাশের পর বিশ্বজুড়ে এই প্রশ্নই এখন জোরালোভাবে উচ্চারিত হচ্ছে। সম্প্রতি মার্কিন বিচার বিভাগ রাশিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা ফেডারেল সিকিউরিটি সার্ভিসের (এফএসবি) সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পাঁচজনের বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে গুপ্তহত্যা ও নাশকতার ষড়যন্ত্রের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ এনেছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও মার্কিন আদালতের নথিপত্র থেকে জানা যায়, এই চক্রটি খোদ ওয়াশিংটন ডিসিতে এক রুশ ভিন্নমতাবলম্বীকে হত্যার সুদূরপ্রসারী জাল বিস্তার করেছিল।
গুপ্তচরবৃত্তির মূল হোতা খ্রামেয়েভ পিতা-পুত্র
মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত পাঁচজনের মধ্যে মূল হোতা হলেন রাশিয়ার গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক কর্নেল ৬৩ বছর বয়সী ইউরি খ্রামেয়েভ এবং তার ২৭ বছর বয়সী ছেলে কিরিল খ্রামেয়েভ, যিনি বর্তমানে এফএসবির একজন সক্রিয় কর্মকর্তা। এই দুই রুশ গোয়েন্দা কর্মকর্তার পাশাপাশি এই নেটওয়ার্কে যুক্ত আছেন দুই কিউবান এবং এক ভেনেজুয়েলার নাগরিক। মূলত এই পাঁচজন মিলে ২০২৪ সাল থেকে ইউরোপ এবং যুক্তরাষ্ট্রে ক্রেমলিনের সমালোচকদের ওপর নজরদারি, গুপ্তহত্যা এবং ইউক্রেনকে সহায়তাকারী দেশগুলোতে নাশকতার একটি সংঘবদ্ধ চক্র চালিয়ে আসছিলেন।
৪০ হাজার ডলার ও ‘নির্মাণ’ সাংকেতিক কোড
অভিযোগপত্রে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে হত্যার যে ষড়যন্ত্রের কথা বলা হয়েছে, তা রীতিমতো চাঞ্চল্যকর। জানা গেছে, ওয়াশিংটন ডিসি এলাকায় বসবাসরত একজন বিশিষ্ট রুশ ভিন্নমতাবলম্বীকে হত্যার জন্য এই নেটওয়ার্ক কাজ করছিল। চলতি বছরের জুলাই-আগস্ট মাসে তারা যুক্তরাষ্ট্রের ব্রুকলিনে বসবাসরত এক ব্যক্তিকে নজরদারির জন্য ১,০০০ থেকে ১,৫০০ ডলারের বিনিময়ে নিয়োগের চেষ্টা করে। এনক্রিপ্টেড অ্যাপে স্প্যানিশ ভাষায় আদান-প্রদান করা বার্তায় দেখা যায়, নজরদারির পর ওই ভিন্নমতাবলম্বীকে ‘চিরতরে সরিয়ে দেওয়ার’ জন্য ৪০ হাজার ডলারের প্রস্তাব দেওয়া হয়। নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তি হত্যা করতে অস্বীকৃতি জানালে রুশ এজেন্টরা তার কাছে জানতে চায়, সে এমন কাউকে চেনে কি না যে ‘নির্মাণ’ বা কনস্ট্রাকশনের কাজ করতে আগ্রহী। মার্কিন গোয়েন্দাদের মতে, স্প্যানিশ ভাষার এই ‘নির্মাণ’ শব্দটি মূলত গুপ্তহত্যার সাংকেতিক কোড হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল।
ইউরোপেও নাশকতার জাল
শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই নয়, ইউরোপেও তারা একই ধরনের নাশকতার জাল বিস্তার করেছিল। ২০২৫ সালে লিথুয়ানিয়ার রাজধানী ভিলনিয়াসে অবস্থানরত আরেক রুশ সমালোচককে হত্যার ছক কষেছিল খ্রামেয়েভ পিতা-পুত্র। সেখানে তারা একজন মার্কিন নাগরিককে প্রথমে ২০০ ডলারের বিনিময়ে নজরদারির কাজে লাগায় এবং পরে ২৫ হাজার ডলারের বিনিময়ে ওই সমালোচককে পেট্রোল বোমা বা ছুরি ব্যবহার করে হত্যার প্রস্তাব দেয়। তিনি যখন এতে রাজি হননি, তখন তাকে দিয়ে একটি গুদাম বা বৈদ্যুতিক সাবস্টেশনে আগুন লাগানোর মতো সহজ নাশকতার প্রস্তাব দেওয়া হয়। এছাড়া চেক প্রজাতন্ত্রে বাসে অগ্নিসংযোগ এবং ইউক্রেনে রেডিও সরঞ্জাম সরবরাহকারী লিথুয়ানিয়ার একটি স্থাপনায় নাশকতার চেষ্টার সঙ্গেও এই চক্রটি সরাসরি জড়িত। বর্তমানে অভিযুক্ত এই পাঁচজনই পলাতক রয়েছেন এবং ধারণা করা হচ্ছে তারা রাশিয়ায় অবস্থান করছেন। তাদের সবার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদে অর্থায়নের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে, যার সর্বোচ্চ শাস্তি ২০ বছরের কারাদণ্ড।
শীতল যুদ্ধের অলিখিত নিয়ম কি ভেঙে যাচ্ছে?
বিদেশে রুশ ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর হামলার অভিযোগ একেবারেই নতুন নয়। ২০০৬ সালে লন্ডনে আলেক্সান্ডার লিতভিনেঙ্কোকে বিষ প্রয়োগ, ২০১৮ সালে সের্গেই স্ক্রিপালের ওপর নার্ভ এজেন্ট হামলা কিংবা ২০২৪ সালে আলেক্সেই নাভালনির মৃত্যু—সবই ক্রেমলিনের দীর্ঘ ছায়ার প্রমাণ। কিন্তু এই ঘটনাগুলোর প্রায় সবই রাশিয়া বা ইউরোপের মাটিতে ঘটেছে। ওয়াশিংটনের আন্তর্জাতিক গুপ্তচর জাদুঘরের নির্বাহী পরিচালক ও সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা ক্রিস কোস্তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে এমন হত্যার পরিকল্পনা একেবারেই বিরল।
শীতল যুদ্ধের সময়ও যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে গুপ্তচরবৃত্তি চললেও একে অপরের ভূখণ্ডে সরাসরি হত্যাকাণ্ড চালানোর ক্ষেত্রে একটি অলিখিত সীমা ছিল। এখন যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে এই ধরনের ছক প্রমাণিত হলে তা প্রচলিত গুপ্তচরবৃত্তির সেই পুরোনো সীমাকে চরমভাবে লঙ্ঘন করবে। রুশ সাংবাদিক রোমান দব্রোখোতভ যেমনটি বলেছেন, “আজ থেকে আমেরিকায় নিয়ম বদলে গেছে বলে মনে হচ্ছে। আমাদের আচরণও বদলাতে হবে, কারণ এখন আর কোথাও নিরাপদ নয়।”


এ জাতীয় আরো খবর...