বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:১৬ অপরাহ্ন

রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা বিল পাস

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৪ বার
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধের কারণে রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের একটি দ্বিদলীয় বিল পাস করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদ। বুধবার ২৬২-১৫৯ ভোটে বিলটি পাস হয়। এক বছরের বেশি সময় ধরে নানা বিলম্ব ও বাধার পর বিলটি এখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে পাঠানো হয়েছে। এর আগে বিলটি সিনেটেও পাস হয়। বিলটির প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন সাউথ ক্যারোলাইনার প্রয়াত রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম। জুলাইয়ে আকস্মিক মৃত্যুর পর তার নামে বিলটির নামকরণ করা হয়। মৃত্যুর আগে গ্রাহাম বিলটির প্রতি ট্রাম্পের সমর্থন আদায়ে ভূমিকা রাখেন। বিলটি আইনে পরিণত হলে রাশিয়া থেকে জ্বালানি আমদানি করা চীন ও ভারতের মতো দেশের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ক্ষমতা পাবেন প্রেসিডেন্ট। এর মাধ্যমে মস্কোতে অর্থের প্রবাহ কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বিলে রাশিয়ার কর্মকর্তা, ব্যাংক ও রুশ জ্বালানি পরিবহনে ব্যবহৃত ‘শ্যাডো ফ্লিট’ ট্যাংকারের ওপর নিষেধাজ্ঞার বিধানও রাখা হয়েছে। বিলটি পাসের জন্য দীর্ঘদিন ধরে চাপ দিয়ে আসছিলেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। গত মাসে সিনেটে বিলটি পাসের আগে তিনি সিনেটরদের প্রতি সরাসরি আহ্বান জানান। দলীয় নেতৃত্বের অবস্থানের বিপরীতে বিলটির পক্ষে ভোট দেন ৫৮ জন ডেমোক্র্যাট। তাদের সঙ্গে সংখ্যাগরিষ্ঠ রিপাবলিকান সদস্যও বিলটির পক্ষে ভোট দেন।

ডেমোক্র্যাটিক পার্টি ইউক্রেনকে ব্যাপকভাবে সমর্থন করে আসছে। তবে প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফরিস বিলটির বিরোধিতা করেন। তার মতে, হোয়াইট হাউসকে দেওয়া নতুন শুল্ক আরোপের ক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হতে পারে।

প্রতিনিধি পরিষদে জেফরিস বলেন, ‘বিলটি যেভাবে লেখা হয়েছে, তাতে প্রেসিডেন্টের জন্য রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ বাধ্যতামূলক নয়। এতে এত বেশি ফাঁক রাখা হয়েছে যে, আইনে থাকা নিষেধাজ্ঞার বিধানগুলো বাস্তবে কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।’

দুই বছরের বেশি সময় পর এই প্রথম ইউক্রেনকে সমর্থন করে কোনো আইন পাস করল মার্কিন কংগ্রেস।

বিলটি পাসকে স্বাগত জানিয়েছেন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসন। তিনি বলেন, এটি রাশিয়ার ‘যুদ্ধযন্ত্রের ওপর সর্বোচ্চ চাপ’ তৈরি করবে। এর আওতায় দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও থাকবেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে জনসন বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে পুতিন এমন দেশগুলোর কাছ থেকে অর্থ ও সম্পদ পেয়েছেন, যারা চোখ ফিরিয়ে নিতে প্রস্তুত ছিল। আজ তার অবসান হলো। এই বিল আমেরিকার ঐক্যের শক্তিশালী বার্তা দিচ্ছে। যুদ্ধের ন্যায্য অবসান ঘটাতে প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের হাতিয়ারও দিচ্ছে। বিলটি প্রেসিডেন্টের কাছে পাঠাতে পেরে আমরা গর্বিত।’

ভোটের পর প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের রিপাবলিকান-ডেমোক্র্যাট সদস্যরা বিরল এক দ্বিদলীয় সংবাদ সম্মেলনে বিলটির পাস উদ্‌যাপন করেন।

কানেকটিকাটের ডেমোক্র্যাট সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল গ্রাহামের সঙ্গে বিলটি প্রণয়নে কাজ করেছেন। তিনি আশা করেন, নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে পুতিনকে আলোচনার টেবিলে বসতে বাধ্য করা যাবে। এতে যুদ্ধের অবসান সম্ভব হবে।

ব্লুমেনথাল বলেন, ‘ভ্লাদিমির পুতিনকে বলছি, আমরা আপনার গতিবিধি জানি। আর ইউক্রেনকে বলছি, আপনারা একা নন।’
ট্রাম্প বিলটিতে স্বাক্ষর করে সেটিকে আইনে পরিণত করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।


এ জাতীয় আরো খবর...