বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:০৬ অপরাহ্ন

সীমান্তে চীন-পাকিস্তানের নতুন উদ্যোগ, ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ভারতের

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৬ বার
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

অভিন্ন সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা অনুযায়ী যৌথ সীমান্ত কমিশন চালু করেছে পাকিস্তান ও চীন। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ইসলামাবাদে কমিশনের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, যৌথ জরিপ, বাণিজ্য ও দুই দেশের মানুষের যোগাযোগ বাড়াতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পাকিস্তান। তবে কমিশন চালুর শুরুতেই এর বিরোধিতা করেছে ভারত। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তর এক বিবৃতিতে জানায়, বুধবার ইসলামাবাদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যৌথ সীমান্ত কমিশনের প্রথম বৈঠক হয়। এতে যৌথভাবে সভাপতিত্ব করেন চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সীমান্ত ও সমুদ্রবিষয়ক বিভাগের উপমহাপরিচালক লি ইয়া এবং পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তরের চীনবিষয়ক মহাপরিচালক বিলাল মাহমুদ চৌধুরী।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তর কমিশন চালুর ঘটনাকে পাকিস্তান-চীন সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেছে। তাদের ভাষ্য, এর মাধ্যমে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, যৌথভাবে সীমান্ত জরিপ, বাণিজ্য চলাচল এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর ক্ষেত্রে সহযোগিতার সুযোগ তৈরি হবে। দ্য ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৩ সালে স্বাক্ষরিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত চুক্তির ভিত্তিতে নতুন এই কমিশন গঠিত হয়েছে। তৎকালীন চীনা প্রধানমন্ত্রী লি কেছিয়াংয়ের ইসলামাবাদ সফরের সময় চুক্তিটি সই হয়। চুক্তির ৪৫ নম্বর অনুচ্ছেদে সীমান্ত ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলো বাস্তবায়নের তদারকির জন্য একটি যৌথ কমিশন গঠনের কথা বলা হয়েছিল।

কমিশনের আওতায় সীমান্ত রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিদর্শন, যৌথ জরিপ, সীমান্ত চিহ্ন নিয়ে সমস্যা, সীমান্ত পারাপারের বিভিন্ন স্থাপনা ও সুবিধা ব্যবস্থাপনা এবং সীমান্তসংক্রান্ত বিভিন্ন ঘটনা মোকাবিলার মতো বিষয় থাকবে। এ ব্যবস্থার মাধ্যমে দুই দেশের সীমান্ত নিয়ে নিয়মিত সমন্বয়ের সুযোগ তৈরি হবে। গুরুত্বপূর্ণ খুনজেরাব সীমান্তপথ এবং চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোরের (সিপিইসি) সঙ্গে যুক্ত বাণিজ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থাও এর আওতায় রয়েছে।

তবে নতুন এই কমিশন ১৯৬৩ সালের ২ মার্চ স্বাক্ষরিত চীন-পাকিস্তান সীমান্ত চুক্তির আওতায় গঠিত তৎকালীন যৌথ সীমান্ত নির্ধারণ কমিশন থেকে আলাদা। আগের কমিশনের দায়িত্ব ছিল সীমান্ত জরিপ, সীমান্ত চিহ্ন স্থাপন, বিস্তারিত মানচিত্র তৈরি এবং সীমান্তরেখা নির্ধারণ করা। এসব কাজ শেষ হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট প্রটোকল ও মানচিত্রে স্বাক্ষরের মাধ্যমে ওই কমিশনের কার্যক্রম শেষ হয়।

অন্যদিকে ২০১৩ সালের চুক্তির মাধ্যমে ইতোমধ্যে নির্ধারিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনার জন্য একটি স্থায়ী কাঠামো তৈরি হয়। এতে সীমান্ত চিহ্ন ও সীমান্তবর্তী অবকাঠামো নিয়ে বিভিন্ন বিষয় মোকাবিলার বিধান রয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, কোনো সীমান্তচিহ্ন আগের স্থানে পুনঃস্থাপন সম্ভব না হলে যৌথ কমিশন এর জন্য অন্য উপযুক্ত স্থান নির্ধারণ করতে পারবে। তবে এতে সীমান্তরেখার কোনো পরিবর্তন করা যাবে না।

নতুন কমিশনের বিরোধিতা করেছে ভারত। ১৯৬৩ সালের চীন-পাকিস্তান সীমান্ত চুক্তির বৈধতা নিয়েও ভারতের আপত্তি রয়েছে। ওই চুক্তির আওতাভুক্ত অঞ্চলকে ভারত জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখের অংশ হিসেবে দাবি করে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, পাকিস্তান ও চীনের মধ্যে কোনো সীমান্ত নেই বলে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট ও ধারাবাহিক। তিনি তথাকথিত যৌথ কমিশনকে প্রত্যাখ্যান করে বলেন, এর কোনো আইনি ভিত্তি নেই।

ভারতের অভিযোগ, ১৯৪৭-৪৮ সালের যুদ্ধের পর পাকিস্তান তৎকালীন জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যের কিছু এলাকা নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। একই সঙ্গে আকসাই চিন ও শাকসগাম উপত্যকার মতো অঞ্চল পাকিস্তান চীনের কাছে হস্তান্তর করেছে বলেও দাবি করে নয়াদিল্লি।

চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোরেরও বিরোধিতা করে ভারত। এর একটি অংশ পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের মধ্য দিয়ে গেছে বলে দাবি করে নয়াদিল্লি।

জয়সওয়াল বলেন, জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখের পুরো অঞ্চল ভারতের অংশ ছিল, আছে এবং থাকবে—এটাই ভারতের অবস্থান। এসব অঞ্চলের অবস্থান পরিবর্তন বা দখলকে বৈধতা দেওয়ার যেকোনো প্রচেষ্টার বিরোধিতা করে ভারত।

চীন ও পাকিস্তানের মধ্যে ভারতীয় ভূখণ্ড নিয়ে যেকোনো ধরনের সীমান্ত সহযোগিতাও ভারতের কাছে গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। ভারতের মতে, এ ধরনের কোনো উদ্যোগ সংশ্লিষ্ট অঞ্চলগুলোর ওপর ভারতের দাবির অবস্থান পরিবর্তন করতে পারবে না।

 


এ জাতীয় আরো খবর...