কলকাতার উত্তর প্রান্তের জ্যোতি কলোনিতে পানির সংকট আজও অপরিবর্তিত। চিৎপুরের এই কলোনিতে বসবাসকারী মানুষের অধিকাংশই মুসলিম। গত ২৯ জুলাই রাত থেকে বন্ধ থাকা পানীয় জলের সরবরাহ দীর্ঘ ৪৯ দিন পরেও চালু হয়নি। সাড়ে তিন হাজার বাসিন্দার এই বসতিতে পানি সরবরাহ না থাকায় নেমে এসেছে এক অমানুষিক ও দুর্বিষহ জীবনযাত্রা। প্রায় এক মাস আগে এই কলোনিতে পরিস্থিতির খোঁজ নিতে এসে চিত্রটি তুলে ধরা হয়েছিল। দীর্ঘ এক মাস পর আবারও পরিস্থিতি পরিদর্শনে দেখা গেল, সেখানকার দুর্দশা ঠিক একই জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে।
বাসিন্দাদের সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ জুলাই রাতে কলোনির পানি ও বিদ্যুৎ-উভয় সংযোগই বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছিল। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও নেতাদের দরজায় বারবার কড়া নাড়ার পর বিদ্যুৎ সংযোগ কিছুটা ফিরলেও, পানির লাইন এখনও সম্পূর্ণ সচল করা হয়নি। পানি না থাকায় রান্নাবান্না থেকে শুরু করে দৈনন্দিন নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রতিটি কাজের জন্য বাসিন্দাদের নির্ভর করতে হচ্ছে বিকল্প ব্যবস্থার ওপর। স্বল্প আয়ের এই মানুষগুলোর জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। বাধ্য হয়ে কাউকে চড়া দামে পানি কিনতে হচ্ছে, আবার কেউ ১ কিলোমিটার দূরের পাশের পাড়ার সরকারি কল কিংবা বাধ্য হয়ে গঙ্গার নোংরা পানির ওপর ভরসা করছেন।
স্থানীয় গণমাধ্যম থেকে শুরু করে একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে এই কলোনির দুরবস্থার খবর প্রকাশিত হলেও টনক নড়েনি প্রশাসনের। দিনের পর দিন একটি জনবসতিতে এভাবে পানীয় জলের সরবরাহ বন্ধ থাকায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন এলাকাবাসী। তাদের একটাই দাবি-দ্রুত এই সংকটের স্থায়ী সমাধান করা হোক। কিন্তু সেই সমাধান কে করবে সেটাই অজানা।