শিরোনামঃ
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:২৯ পূর্বাহ্ন

ইরান যুদ্ধের ধাক্কা দীর্ঘমেয়াদে কতটা সামলাতে পারবে জ্বালানি তেলের বাজার

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৭ বার
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ইরান যুদ্ধ শুরুর পর ছয় মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। দীর্ঘস্থায়ী এ সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি তেল সরবরাহে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটেছে। শুরুতে অনেক বিশ্লেষক আশঙ্কা করেছিলেন, এতে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। তবে ছয় মাসের বেশি সময় পরও জ্বালানি তেলের বাজার সচল রয়েছে। বিকল্প পথে তেল পরিবহন, বিভিন্ন দেশের মজুদ ব্যবহার এবং কয়েকটি দেশের উত্তোলন বাড়ানোর কারণে বড় ধরনের সংকট এড়ানো সম্ভব হয়েছে। তবে উচ্চ জ্বালানি মূল্যের কারণে পরিবহন খরচ বেড়েছে। যুদ্ধ আরো দীর্ঘ হলে বর্তমান ব্যবস্থা কতদিন টিকবে, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

AKIJ Advertisement
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের কারণে স্বাভাবিক সরবরাহ ব্যবস্থা থেকে প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ ব্যারেল জ্বালানি তেল সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটেছে। এর পরও বাজার পুরোপুরি ভেঙে পড়েনি। এর পেছনে প্রধানত তিনটি কারণ রয়েছে।

বহুজাতিক বিনিয়োগ ব্যাংক জেপি মরগানের এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রথম কারণ হলো হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে বিকল্প পথে তেল সরবরাহের চেষ্টা। সৌদি আরব স্থলভাগের পাইপলাইনের মাধ্যমে লোহিত সাগরের উপকূলীয় বন্দরে জ্বালানি তেল পাঠাচ্ছিল। সাম্প্রতিক হামলার কারণে এ পাইপলাইন বন্ধ থাকলেও বিকল্প ব্যবস্থায় সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশ সামরিক পাহারায় তেল পরিবহন অব্যাহত রেখেছে। এছাড়া ব্রাজিল, ভেনিজুয়েলা, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও গায়ানা সম্মিলিতভাবে প্রতিদিন প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল উত্তোলন বাড়িয়েছে।

জেপি মরগানের প্রধান পণ্যবাজার বিশ্লেষক নাতাশা কানেভা বলেন, ‘জ্বালানি তেলের ব্যারেল শেষ পর্যন্ত কোনো না কোনোভাবে বাজারে পৌঁছায়ই।’

দ্বিতীয় কারণটি হলো কৌশলগত অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মজুদ। যুক্তরাষ্ট্র ও চীন ছাড়া অধিকাংশ দেশ জরুরি মজুদ একবারে খালি না করে ধীরে ধীরে ব্যবহার করছে। ফলে আকস্মিক ঘাটতি সামাল দেয়ার সুযোগ এখনো রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহোমার কুশিংয়ে জুলাইয়ে জ্বালানি তেলের মজুদ পরিচালনাগত সর্বনিম্ন সীমায় পৌঁছে যায়। পরে অবশ্য মজুদ কিছুটা বাড়ে। চীনও ধীরে ধীরে আমদানি বাড়ালেও পরিমাণে তা তুলনামূলক কম।

তৃতীয় কারণ হলো বৈশ্বিক চাহিদা কমে যাওয়া। জেপি মরগানের হিসাবে, যুদ্ধ শুরুর পর বিশ্বে দৈনিক জ্বালানি তেলের চাহিদা প্রায় ৫০ লাখ ব্যারেল কমেছে। উচ্চ জ্বালানি মূল্যের কারণে ভ্রমণ কমেছে। বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি (ইভি) ব্যবহার ও বাড়িতে থেকে কাজের প্রবণতাও বেড়েছে। যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে প্রতিদিন ১ কোটি ৩০ লাখ ব্যারেল তেলের যে ক্ষতি হয়েছে, এ তিন উপায়ে তা সামলে নেয়া গেছে। সংস্থাটির প্রাক্কলন অনুযায়ী, যুদ্ধ দীর্ঘ হলে তেলের দাম গড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৭ ডলারের আশপাশে থাকতে পারে। যুদ্ধ শেষ হলে দাম ৬৪ ডলারে নামতে পারে।

সব বিশ্লেষক এতটা আশাবাদী নন। জ্বালানি খাতবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান র‍্যাপিডান এনার্জির প্রধান বব ম্যাকন্যালি মনে করেন, হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক বাণিজ্যিক যাতায়াত দ্রুত ফিরবে না। যুদ্ধ দীর্ঘ হলে তেলের বাজারে নতুন করে অস্থিরতা ও মূল্যবৃদ্ধি হতে পারে। ক্যাপিটাল ইকোনমিকস ও আরবিসি ক্যাপিটাল মার্কেটসের বিশেষজ্ঞরাও সতর্ক করেছেন। তাদের মতে, মজুদ ও সামরিক পাহারার ওপর নির্ভর করে বর্তমান ভারসাম্য দীর্ঘদিন ধরে রাখা কঠিন। যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ইআইএ) জানিয়েছে, ২০২৬ সালের বাকি সময়েও হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল রফতানি সীমিত থাকতে পারে। এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল এনার্জিও সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদন জানিয়েছে, ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ মধ্যপ্রাচ্যের তেল উত্তোলন ব্যবস্থা যুদ্ধের আগের পর্যায়ে ফেরার সম্ভাবনা কম।


এ জাতীয় আরো খবর...