আমাদের বন্ধু মিতার মাধ্যমে তাঁর সাথে পরিচয়। পনেরো বছর বয়সে গৃহত্যাগী হয়েছিলেন। তারপর কেটে গেছে যুগের পর যুগ।
কেন আমি এ পৃথিবীতে? কী কাজ আমার? কোথায় আমার গন্তব্য?—এ প্রশ্নের সন্ধানে কেটে গেছে হিরণ্ময় যৌবন।
আমি জিজ্ঞেস করলাম, ‘আপনার প্রশ্নগুলোর জবাব পেয়েছেন?’
‘এগুলোর উত্তর মরীচিকার মতো। যখনই মনে হয়, পেয়েছি, তখনই মিলিয়ে যায়। ধরা দেয় না।’
‘মানুষের প্রধান দায়িত্ব কী?’
‘দুঃখী মানুষের খোঁজ নেওয়া।’
‘ওটাই আমাদের প্রধান দায়িত্ব! কেন?’
তিনি উত্তর দিলেন, ‘রাজ্যহারা মুঘল সম্রাট হুমায়ূন বলেছিলেন, খোদা বাস করেন ব্যথিত মানুষের অন্তরে। তাঁকে পেতে হলে সে অন্তরের বেদনা বুঝতে হবে।’
‘জীবনকে আপনি কীভাবে দেখেন?’
‘প্রভুর পরীক্ষা। দুনিয়াদারি আমাকে তাঁর কথা ভুলিয়ে দেয় কি না, তার পরীক্ষা।’
‘আর মৃত্যু?’
‘প্রভুর কাছে ফিরে যাওয়ার অপূর্ব সুযোগ।’
‘মানুষের প্রতি আমার দায়িত্ব কী?’
‘মানবকুলকে অভিন্ন চোখে দেখা। কারণ সবাই উপরওয়ালার সৃষ্টি এবং তিনি কাউকে ভিন্ন চোখে দেখেন না।’
‘আচ্ছা, বলতে পারেন, আত্মার শান্তি কোথায়?’
‘রাজহংস হলেই আত্মা শান্তি পায়।’
‘রাজহংস!’
‘ভারতীয় উপমহাদেশে একটি প্রাচীন প্রবাদ আছে, রাজহংসকে পানি আর দুধ মিশিয়ে দিলে সে তা থেকে দুধ আলাদা করে খেতে পারে। একইভাবে পংকিলতা থেকে নির্মলতা আলাদা করতে শেখার মধ্যেই আত্মার শান্তি লুকিয়ে আছে।’
#আসুন মায়া ছড়াই