সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:২৭ পূর্বাহ্ন

যেসব ভুলের কারণে কোমর ব্যথা হঠাৎ বেড়ে যায়

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৯ বার
প্রকাশ: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

যেসব ভুলের কারণে কোমর ব্যথা হঠাৎ বেড়ে যায় আপনি ঠিক জানেন কেন আপনার কোমর ব্যথা করছে। হয়তো আপনি বেঠিকভাবে কিছু তুলেছেন এবং তখনই ব্যথা অনুভব করেছেন। অথবা হয়তো আপনার খারাপ ভঙ্গির কারণে কোমরে হঠাৎ করে ব্যথা বেড়ে যেতে পারে। চলুন জেনে নেই ভুলগুলো: ১. কোমর ব্যথা থাকলে কখনো ভারি জিনিস ওঠাবেন না, এতে কোমর ব্যথা আরো ভয়ানকভাবে বেড়ে যেতে পারে।২. কোমর ব্যথায় আক্রান্তরা সাধারণত ব্যায়াম করা থেকে নিজেদের বিরত রাখেন। কিন্তু এটা ভুল ধারণা। ব্যায়াম পেশীকে শক্ত করে এবং শরীরে রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়। তাই ব্যায়াম করুন। তবে কোন ধরনের ব্যায়াম আপনার জন্য সঠিক সেটি জেনে নিতে হবে। ৩. বসার সময় হাত ও পায়ের অবস্থান ঠিকমতো না থাকলে কোমর ব্যথা বাড়তে পারে। সামনের দিকে ঝুঁকে না বসে মেরুদণ্ড সোজা রেখে বসুন। অন্তত একঘণ্টা অন্তর একটু হাঁটুন। বসার প্যাটার্ন পরিবর্তন করুন। এক্ষেত্রে চেয়ার পরিবর্তন করেও দেখতে পারেন। ৪. মিষ্টি জাতীয় খাবার খাবেন না। মিষ্টি জাতীয় খাবার ব্যথা আরো বাড়িয়ে দেয়। এছাড়াও লাল মাংস, সোডা জাতীয় ড্রিংকস্ ইত্যাদি ব্যথা বাড়িয়ে দেয়। ৫. পেছনের হিপ পকেটে মানিব্যাগ ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন। পেছনের পকেটে মানিব্যাগ ব্যবহার করলে আমাদের পেলভিস টুইস্ট হয়। পাইরিফরমিস মাসলের উপর চাপ পড়ে। ফলে সায়াটিকা, পায়রিফরমিস সিনড্রোম এবং কোমর ব্যথা হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। ৬. আমরা অনেকেই আরামদায়ক বা ওয়েল ফিটেড জুতা ব্যবহার করি না। বিশেষ করে মহিলারা বর্তমানে অনেক উঁচু হিলযুক্ত জুতা পরে থাকেন। উঁচু হিল পরার ফলে ওয়াকিং গেট অর্থাৎ হাঁটার ভঙ্গি পরিবর্তন হয়। ভুল ভঙ্গিতে হাঁটার ফলে কোমর, হিপ, হাঁটু এবং পায়ের গোড়ালির উপর বাড়তি চাপ পড়ে। ফলে কোমর ব্যথা, হাঁটু ব্যথা, পায়ের গোড়ালি ব্যথা তৈরি হয়। গবেষকরা বলছেন—প্রতি দু’জন পূর্ণবয়স্ক লোকের মধ্যে একজন মাস্কুলোস্কেলিটাল অসুস্থতায় ভুগছেন। গবেষণায় দেখা গেছে সারাবিশ্বে ডিজঅ্যাবিলিটি তৈরিতে মাস্কুলোস্কেলিটাল অসুস্থতার অবস্থান সর্বোচ্চ দ্বিতীয় স্থানে। বর্তমানে আমরা অসঙ্গত ভঙ্গির কারণে বেশিরভাগ সময় ব্যথায় ভুগে থাকি। শুধুমাত্র ব্যথা নয় অসঙ্গত ভঙ্গির কারণে শ্বাসকষ্ট, বদহজম, সারকুলেটরি সিস্টেম এবং সামগ্রিক শারীরিক সমস্যা দেখা দিচ্ছে। প্রিয় পাঠক, আসুন আমরা জেনে নেই পাঁচটি বদঅভ্যাস সম্পর্কে যা আমাদের কোমর ব্যথা সৃষ্টি করে: ১. পেছনের হিপ পকেটে মানিব্যাগ ব্যবহার করা: পেছনের পকেটে মানিব্যাগ ব্যবহার করলে আমাদের পেলভিস টুইস্ট হয়। পাইরিফরমিস মাসলের উপর চাপ পড়ে। ফলে সায়াটিকা, পায়রিফরমিস সিনড্রোম এবং কোমর ব্যথা হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। ২. কাঁধে ভারি ব্যাগ বহন করা: বর্তমানে আমরা প্রায় সবাই কাঁধে ভারি ব্যাক প্যাক বহন করে থাকি। যে ব্যাগের মধ্যে থাকে ওয়ালেট, মোবাইল ফোন, নোট বুক, আই প্যাড, মেকাপ বক্স, ল্যাপটপ ইত্যাদি। এছাড়াও আজকাল দেখা যায় বাচ্চারা কাঁধের ব্যথায়, পিঠের ব্যথায় ভুগছে শুধুমাত্র বেশি ওজনের ব্যাগ বহন করার জন্য। গবেষকরা বলছেন—বাচ্চারা তার ওজনের ১৫%-এর অধিক ওজন কাঁধে বহন করবে না। এতে টেনশন হেডেক, কাঁধে ব্যথা, ফরোয়ার্ড হেড পোশ্চার ইত্যাদি হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। ৩. সঠিক জুতা ব্যবহার না করা: আমরা অনেকেই আরামদায়ক বা ওয়েল ফিটেড জুতা ব্যবহার করি না। বিশেষ করে মহিলারা বর্তমানে অনেক উঁচু হিল পরে। উঁচু হিল পরার ফলে ওয়াকিং গেট অর্থাৎ হাঁটার ভঙ্গি পরিবর্তন হয়। সঠিক ভঙ্গিতে না হাঁটার ফলে কোমর, হিপ, হাঁটু এবং পায়ের গোড়ালির উপর বাড়তি চাপ পড়ে দীর্ঘ সময় বসে থাকা: গবেষণায় দেখা গেছে আমরা প্রতিদিন গড়ে ১০ ঘণ্টা বসে থাকি। আরেকটি গবেষণায় বলা হয়েছে একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ তার জীবনের ৫০ ৬০ ভাগ সময় বসে কাটায়। দীর্ঘসময় বসার ফলে কোমরের অর্থাৎ লামবারের লোরডোটিক কার্ভকমে যায়, সেন্টার অফ গ্র্যাভেটি পরিবর্তনের ফলে স্পাইনের উপর চাপ পড়ে, স্পাইনের উপর চাপ পড়ার কারণে ডিক্সে চাপ পড়ে এবং কোমর ব্যথা হয়। ৫. ভুল পদ্ধতিতে ব্যায়াম: আমরা অনেকেই না জেনে অনেক ব্যায়াম করি। আমরা জানি না কোন ব্যায়াম আমাদের জন্য সঠিক আর কোন ব্যায়াম বেঠিক। অবশ্যই কোনো ব্যায়াম করার আগে একজন ফিজিওথেরাপিস্টের পরামর্শ নিতে হবে।


এ জাতীয় আরো খবর...