শিরোনামঃ
বিশ্বজুড়ে আবারও বাড়ছে মানুষের গড় আয়ু: ডব্লিউএইচও কঠোর নিরাপত্তায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে পৌঁছেছে ইউরেনিয়াম চীনের সাথে সম্পর্ক স্থাপনে বাংলাদেশকে থামাতে পারবে না যুক্তরাষ্ট্র ইলন মাস্কের সঙ্গে বিচ্ছেদ নিয়ে যে বার্তা দিলেন জিলিস কোনো অন্যায়কে বিএনপি সরকার ছাড় দেবে না: প্রতিমন্ত্রী টুকু আখতারুজ্জামানের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে মুক্তি দিতে হবে: গোলাম পরওয়ার মাল্টার কেজি ৫২০ টাকা, দাম নিয়ে ব্যবসায়ীদের জবাব চাইলেন বাণিজ্যমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৮ মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ১১২২ ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৬ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১৬০৮ গাজীপুরে গার্মেন্টসে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ৯ ইউনিট
রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৫০ পূর্বাহ্ন

শীতে কোমর ব্যথার কারণ

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৮ বার
প্রকাশ: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬

হেমন্তের ফসল ভরা মাঠ যখন শূন্য ও রিক্ত হয়ে পড়ে, তখন বোঝা যায় ঘন
কুয়াশার চাদর মুড়ি দিয়ে শীত আসছে। গাছপালার পাতা ঝরে গিয়ে শীতে
যেমন প্রকৃতি হয়ে ওঠে রুক্ষ তেমনি আমরা আমাদের শরীরে আগের তুলনায়
শীতে বেশি ব্যথা অনুভব করি। অনেক গবেষণায় দেখা গেছে ব্যথার সঙ্গে
লো টেমপারেচারের একটি পারস্পারিক সম্পর্ক রয়েছে।
যেমন: গবেষকরা ২০১২ সালে অনেক শ্রমিকদের উপর এক গবেষণা
চালান। এতে দেখা গেছে, যেসকল শ্রমিক ঠাণ্ডায় বাইরে কাজ করেছে অন্যান্যদের তুলনায় তাদের ব্যথা বেড়ে গেছে। আসুন জেনে নেই শীতে
কোমর ব্যথা বেড়ে যাওয়ার কিছু কারণ:
১. বাতাসের চাপ বা অ্যাটমোসফেয়ার প্রেসার কমে যাওয়া: শীতকালে
বায়োমেট্রিক প্রেসার অর্থাৎ বাতাসের চাপ কমে যায়। এতে আমাদের
শরীরের টিস্যুগুলো ফুলতে থাকে। নিজের জায়গা থেকে অল্প অল্প ছড়াতে
থাকে এবং নার্ভের উপর গিয়ে চাপ সৃষ্টি করে। কারণ, এদের সারফেস
এরিয়া বেড়ে যায়। নার্ভে চাপ পড়ার ফলে আমাদের ব্যথা হয়।
২. ঠাণ্ডা আবহাওয়া কোমরের মাংসগুলো টাইট বা সংকুচিত করে দেয়: ঠাণ্ডা
আবহাওয়া কোমর ব্যথা বেড়ে যাওয়ার একটি প্রধান কারণ। কেননা এসময়
আমাদের ভাইটাল অরগান যেমন— হার্ট, ব্রেন, লিভার ইত্যাদি গরম রাখার
জন্য অনেক বেশি রক্তের প্রয়োজন হয়। ফলে হাত ও পায়ের জয়েন্টগুলো
অতি মাত্রায় ঠাণ্ডা হয়ে যায়। আমাদের মেরুদণ্ডকে যেসব
মাংস,
লিগামেন্ট, টেনডন সার্পোট দিয়ে থাকে শীতের সময় সেসব স্ট্রাকচার দিয়ে
কম রক্ত চলাচল করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই স্পাইন স্টিফ বা শক্ত হয়ে
যায় এবং কোমর ব্যথা হয়। কোমর ব্যথা যাদের পায়ের দিকে আসে অর্থাৎ
যাদের সায়াটিকা আছে তাদের ক্ষেত্রে ঝিমঝিম, শিরশির, অবশ ভাব,
পায়ের দিকে দুর্বলতা—এধরনের লক্ষণ শীতে বেড়ে যায়।
৩. চলাফেরা এবং ব্যায়াম করার অভাবে: শীতকালে আমরা একই ভঙ্গিতে
বেশি সময় থাকি, এতে টিস্যু কনট্রাকশন কম হয়। ফলে আমাদের
জয়েন্টগুলোর মোবিলিটি কমে যায়। এছাড়াও অলসতার কারণে আমরা
রেগুলার ব্যায়াম করি না, ফলে আমাদের জয়েন্টের মোবিলিটি কমে যায়
এবং কোমর ব্যথা হয়।
৪. ঠাণ্ডা আবহাওয়া ডিপ্রেশন বাড়ায়: বিভিন্ন গবেষণায় বলা হয়েছে ঠাণ্ডা
আবহাওয়া এবং অন্ধকার রৌদ্রবিহীন মেঘাচ্ছন্ন দিন সিজনাল ডিপ্রেশন তৈরি
করে। ডিপ্রেশন হওয়ার কারণে আমাদের ব্যাক মাসলের উপর চাপ পড়ে
এবং কোমর ব্যথা হয়।
৫. ভুল ভঙ্গি: আমরা শীতে দীর্ঘসময় বসে থাকি বা বসা থেকে ওঠার সময়
সামনে ঝুঁকে উঠি। এধরনের ভঙ্গিতে কোমরের অর্থাৎ লামবারের
লোরডোটিক কার্ভ কমে যায়। মেরুদণ্ডে সেন্টার অফ গ্র্যাভিটি পরিবর্তনের ফলে স্পাইনের উপর চাপ পড়ে, স্পাইনের উপর চাপ পড়ার কারণে ডিস্কে
চাপ পড়ে এবং কোমর ব্যথা হয়। অতএব, আমাদের বসা থেকে ওঠার সময়
চেয়ার থেকে সামনে একটু সরে আসতে হবে। সামনে সরে আসলে
আমাদের পায়ের গোড়ালি উঁচু হয়ে যাবে অর্থাৎ সেন্টার অফ গ্র্যাভিটি ঠিক
রেখে কোমর সোজা করে বসা থেকে উঠতে হবে। ৩০ মিনিট বা এর বেশি
বসে থাকলে ২ মিনিট চলাফেরার ব্রেক নিতে হবে। সকালে ঘুম থেকে ওঠার
পর ৩০ মিনিটের মধ্যে কোনো ভারি জিনিস ওঠানো যাবে না। শীতে নিজেকে গরম রাখার চেষ্টা করুন। অনেক বেশি শীতের পোশাক
ব্যবহার করুন কিন্তু পোশাকগুলো হতে হবে ঢিলেঢালা। কেননা, ঢিলেঢালা
সোয়েটার ভেতরে গরম জমা করে রাখে। ভিটামিন সি, ডি এবং ওমেগা ৩
ফ্যাটি অ্যাসিডসমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে। ভিটামিন সি জাতীয় খাবারের মধ্যে
রয়েছে কমলা, আমলকি, পেয়ারা, টমেটো ইত্যাদি এবং ওমেগা ৩ ফ্যাটি
অ্যাসিডসমৃদ্ধ খাবার যেমন সামুদ্রিক মাছ, টুনা মাছ, বাদাম, ফ্লাকসসিড
ইত্যাদি। এসব খাবার শীতকালীন ব্যথা প্রতিরোধে সাহায্য করে। এছাড়াও
লাল আটার রুটি, লাল চালের ভাত খান এবং প্রচুর পানি পান করুন।
প্রতিদিন ৩০ মিনিট সকাল ১০টা থেকে দুপুর ৩টার মধ্যে গায়ে রোদ
লাগান। ধূমপান বর্জন করুন।
ফিজিওথেরাপি ইজ মেডিসিন ফর টুডে অ্যান্ড টুমোরো। ফিজিওথেরাপি
পার্শ্বপতিক্রিয়াহীন যুগান্তকারী আধুনিক চিকিৎসা। কোমর ব্যথা বেশি হলে
অবশ্যই একজন অভিজ্ঞ মাস্কুলো স্কেলিটাল বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেবেন।
যিনি কোমর ব্যথার চিকিৎসায় পারদর্শী। এছাড়াও কোমরের যেসব জায়গায়
ব্যথা সেখানে নারকেল তেল লাগিয়ে ঠাণ্ডা বা গরম সেঁক দিতে হবে দিনে ২
৩ বার, ১৫-২০ মিনিট করে। নিয়মিত ব্যায়াম করুন (প্রতিদিন ৩০ থেকে
৪৫ মিনিট)। শীতে ব্যায়ামের মধ্যে ওয়ার্ম আপ ব্যায়াম করতে হবে যেমন:
ওয়েট বেয়ারিং, স্ট্রেচিং, স্ট্রেন্দিং ইত্যাদি ব্যায়াম করতে হবে।
ব্যায়াম আপনার রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে, যা কোমর ব্যথা কমায়।
নিয়মিত ব্যায়াম হাড়ের ডেনসিটি বাড়িয়ে জয়েন্টের সঙ্গে সম্পৃক্ত বিভিন্ন
সমস্যা প্রতিরোধ করে।


এ জাতীয় আরো খবর...