শিরোনামঃ
অল্প বয়সেই কোমর ও পিঠের যন্ত্রণা ১০ বছরের সাজা থেকে খালাস চেয়ে আপিল করেছেন ইনু অপারেশন ক্লিন হার্ট করার মতো কোনো পরিকল্পনা নেই সরকারের: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উপ-নির্বাচনে সন্ত্রাস ও অপতৎপরতা রোধে সচেতন থাকার আহ্বান ইসি সানাউল্লাহর দেশজুড়ে অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টা চলছে: রিজভী প্রশ্ন ফাঁসে মন্ত্রণালয়ের কেউ জড়িত থাকলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী গাজীপুরে ওষুধ কারখানার আগুন সাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে দরপত্র দাখিলের সময় বাড়ল সৌদিতে হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসীদের সার্বক্ষণিক খোঁজ রাখা হচ্ছে : প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী ক্রয় কমিটির ১১ প্রস্তাব অনুমোদন
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৫৯ পূর্বাহ্ন

দিনে নয় মধ্যরাতেই এখন চাহিদা বেশি: পালটে গেছে বিদ্যুতের হিসাব

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৮ বার
প্রকাশ: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬

একসময় মনে করা হতো দিনের আলো নিভে গেলে এবং রাতের গভীরতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশের বিদ্যুতের চাহিদাও ধীরে ধীরে কমে আসবে| এটিই ছিল দেশের বিদ্যুৎ খাতের দীর্ঘদিনের চিরাচরিত নিয়ম এবং স্বাভাবিক হিসাব| কিন্তু বর্তমানে সেই চিরচেনা হিসাবের খাতাটি পুরোপুরি পালটে গেছে| এখন আর দিনের বেলায় নয়, বরং মাঝরাতেই জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুতের জন্য সবচেয়ে বড় হাহাকার তৈরি হচ্ছে| এই অভাবনীয় পরিবর্তনের নেপথ্যে কাজ করছে দেশের পথেঘাটে অপরিকল্পিতভাবে বেড়ে ওঠা লাখ লাখ ব্যাটারিচালিত রিকশা বা ইজিবাইক| সাধারণ মানুষের যাতায়াতের সহজ মাধ্যম হলেও এই যানগুলো রাতের অন্ধকারে জাতীয় গ্রিড থেকে নীরবে গিলে খাচ্ছে হাজার হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ| এর সঙ্গে নতুন মাত্রা হিসেবে যুক্ত হয়েছে বাসাবাড়িতে রান্নার কাজে ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক চুলার অস্বাভাবিক বৃদ্ধি| তীব্র গ্যাস সংকট এবং এলপিজি সিলিন্ডারের আকাশচুম্বী দামের কারণে সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে বৈদ্যুতিক চুলার দিকে ঝুঁকছে| ফলে রাতের পাশাপাশি দিনের বেলাতেও বিদ্যুতের চাহিদায় যুক্ত হয়েছে বিশাল এক বাড়তি চাপ| সব মিলিয়ে ব্যাটারিচালিত রিকশা এবং বৈদ্যুতিক চুলার যুগপৎ চাপে দেশের সামগ্রিক বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় এক নজিরবিহীন ও অনাকাঙ্ক্ষিত সংকটের জন্ম হয়েছে|

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড বা পিডিবির শীর্ষ কর্মকর্তাদের মতে, বর্তমানে দেশের বিদ্যুৎ সরবরাহের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এই ব্যাটারিচালিত রিকশাগুলো| পিডিবির চেয়ারম্যান রেজাউল করিম অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, খাতাপত্রে বা তাত্ত্বিকভাবে বিদ্যুতের ‘পিক’ এবং ‘অফ-পিক’ আওয়ার বলে যেসব শব্দ ব্যবহার করা হয়, বর্তমান বাস্তবতায় সেগুলোর আর কোনো অস্তিত্ব বা কার্যকারিতা অবশিষ্ট নেই| চিরাচরিত নিয়ম অনুযায়ী মধ্যরাতে বিদ্যুতের চাহিদা অন্তত দেড় থেকে দুই হাজার মেগাওয়াট কমে যাওয়ার কথা থাকলেও, এখন উলটো মাঝরাতেই বিদ্যুতের চাহিদা দিনের সর্বোচ্চ মাত্রাকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে| মূলত সারা দিন রাস্তায় চলার পর লাখ লাখ রিকশা যখন রাতে গ্যারেজে চার্জের জন্য বিদ্যুতের লাইনে যুক্ত করা হয়, তখনই গ্রিডে এই আকস্মিক ও বিশাল চাপ তৈরি হয়| পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের বা পিজিসিবির তথ্যভাণ্ডার বিশ্লেষণ করলেও দেখা যায় যে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাত একটার সময় বিদ্যুতের যে চাহিদা থাকে, তা অনেক ক্ষেত্রেই দিনের বেলার সর্বোচ্চ চাহিদাকে ছাপিয়ে যায়| এই অস্বাভাবিক চাপের কারণে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকারকে বাধ্য হয়ে এমন সব বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু রাখতে হচ্ছে, যেগুলো মূলত অত্যন্ত উচ্চমূল্যের জ্বালানি তেল দিয়ে পরিচালিত হয় এবং যার প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পেছনে পঁচিশ টাকারও বেশি খরচ গুনতে হয়| এটি রাষ্ট্রের অর্থনীতির ওপর এক বিশাল ও নীরব বোঝা চাপিয়ে দিচ্ছে|

দেশজুড়ে ঠিক কতগুলো ব্যাটারিচালিত রিকশা বা ইজিবাইক চলাচল করছে, তার কোনো সুনির্দিষ্ট বা সরকারি পরিসংখ্যান কোনো দপ্তরের কাছেই নেই| তবে পরিবহন বিশেষজ্ঞ এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ডক্টর মোহাম্মদ হাদিউজ্জামানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন বেসরকারি ও গবেষণামূলক উপাত্ত বিশ্লেষণ করে ধারণা করা যায় যে, বর্তমানে সারা দেশে অন্তত পঞ্চাশ থেকে ষাট লাখ ব্যাটারিচালিত রিকশা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে| এর মধ্যে শুধু রাজধানী ঢাকা এবং এর আশপাশের এলাকাগুলোতেই চলাচল করছে প্রায় বিশ থেকে পঁচিশ লাখ রিকশা| তিনি এই বিপুল পরিমাণ রিকশা বৃদ্ধির পেছনে আর্থসামাজিক কারণও তুলে ধরেছেন| তার মতে, দেশে সম্প্রতি অনেক শিল্পকারখানা ও ছোটখাটো উৎপাদনমুখী প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বহু মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে| বেঁচে থাকার তাগিদে এবং দ্রুত আয়ের আশায় এই বিপুলসংখ্যক বেকার মানুষ এখন ব্যাটারিচালিত রিকশা চালানোকেই নিজেদের প্রধান পেশা হিসেবে বেছে নিচ্ছেন| ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ডক্টর সেবাস্তিয়ান গ্রোহের গবেষণাতেও দেশে প্রায় ষাট লাখ এমন রিকশা থাকার বিষয়টি অত্যন্ত জোরালোভাবে উঠে এসেছে| তিনি এক সেমিনারে তথ্য দিয়েছেন যে, প্রতিদিন গড়ে তিন থেকে চার হাজার নতুন ব্যাটারিচালিত রিকশা দেশের রাস্তায় নামছে| অন্যদিকে দেশীয় ব্যাটারি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান কনফিডেন্স ব্যাটারিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান ইমরান করিমও জানিয়েছেন যে, বাজারে বর্তমানে পঞ্চাশ লাখের বেশি রিকশা সচল রয়েছে এবং এগুলোর চাহিদা মেটাতে প্রতি মাসে অন্তত পাঁচ লাখ নতুন ব্যাটারি বিক্রি করা হচ্ছে|

এই বিশাল সংখ্যক রিকশার জন্য কী পরিমাণ বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়, তার একটি ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থাগুলোর হিসাবে| পিডিবি, ডেসকো এবং ডিপিডিসির মতো সংস্থাগুলোর প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, মধ্যরাতে কেবল ঢাকা শহরের ভেতরে থাকা ব্যাটারিচালিত রিকশাগুলো চার্জ দিতেই কমপক্ষে এক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়| আর সারা দেশের হিসাব কষলে এই রিকশাগুলো প্রতি রাতে গ্রিড থেকে দুই থেকে তিন হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ গিলে খাচ্ছে| রাজধানীর উত্তরখান এলাকার একটি গ্যারেজ মালিকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ওই এলাকাটিতেই ব্যাটারিচালিত রিকশা ছাড়া অন্য কোনো ধরনের যানবাহন তেমন একটা চোখেই পড়ে না| হোসনে আরা এন্টারপ্রাইজ নামের একটি গ্যারেজের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ দাউদ জানান, শুধু উত্তরখান এলাকাতেই বৈধ লাইসেন্সধারী গ্যারেজ রয়েছে একশ সাতচল্লিশটির বেশি| আর এর বাইরে অলিগলিতে কতগুলো অবৈধ গ্যারেজ গড়ে উঠেছে, তার কোনো হিসাব খোদ স্থানীয়দের কাছেও নেই| তবে কারওয়ান বাজারের রিকশার পাইকারি বিক্রেতা আল আমিন ট্রেডার্সের মালিক মোহাম্মদ লিয়াকতের কথায় বাজারের কিছুটা মন্দা ভাবও প্রকাশ পেয়েছে| তিনি জানান, এক বছর আগেও তিনি প্রতিদিন দশ থেকে পনেরোটি রিকশা বিক্রি করতেন, কিন্তু এখন বিক্রি এতটাই কমে গেছে যে, দিনে একটি রিকশা বিক্রি করাও কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে|

রাতের বেলায় রিকশার চার্জিং যেমন গ্রিডকে বিপর্যস্ত করছে, তেমনি দিনের বেলায় এই সংকটে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বৈদ্যুতিক চুলার ব্যাপক ব্যবহার| দেশে তীব্র গ্যাস সংকট এবং তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজির দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাওয়ায় বাসাবাড়িতে বৈদ্যুতিক চুলার ব্যবহার একপ্রকার মহামারির মতো ছড়িয়ে পড়েছে| দেশীয় ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী বাজারজাতকারী কোম্পানিগুলোর তথ্যমতে, দেশে বর্তমানে প্রায় ত্রিশ থেকে পঁয়ত্রিশ লাখ বাসাবাড়িতে নিয়মিতভাবে বৈদ্যুতিক চুলা ব্যবহার করা হচ্ছে| দেশের অন্যতম শীর্ষ ইলেকট্রনিক্স ব্র্যান্ড ওয়ালটনের হোম অ্যাপ্লায়েন্স বিভাগের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মাকসুদুর রহমান জানিয়েছেন, আগে তাদের মাসে গড়ে দশ হাজার বৈদ্যুতিক চুলা বিক্রি হতো, কিন্তু গত আগস্ট মাসে সেই বিক্রির পরিমাণ অবিশ্বাস্যভাবে চার লাখে গিয়ে ঠেকেছিল| একটি দেশীয় বৈদ্যুতিক চুলা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের হিসাব অনুযায়ী, একটি পরিবার যদি প্রতিদিন তাদের তিন বেলার রান্না বৈদ্যুতিক চুলায় সম্পন্ন করে, তবে দিনে অন্তত দুই থেকে তিন ইউনিট অতিরিক্ত বিদ্যুৎ খরচ হয়| পিডিবির সদস্য জহুরুল ইসলাম মনে করেন, হঠাৎ করে বেড়ে যাওয়া এই লাখ লাখ বৈদ্যুতিক চুলার কারণে দিনের বেলায় নতুন করে আরও প্রায় পাঁচশ মেগাওয়াট বিদ্যুতের বাড়তি চাহিদা তৈরি হয়েছে, যা মাত্র কয়েক বছর আগেও জাতীয় গ্রিডে ছিল না|

তবে এই চরম বিদ্যুৎ সংকট এবং গ্রিডের ওপর প্রবল চাপের মধ্যেও আধুনিক প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে নতুন সম্ভাবনার আলো দেখছেন বিশেষজ্ঞরা| বিশেষ করে সবুজ জ্বালানি এবং টেকসই শক্তি নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান ‘সোলশেয়ার’ এই সংকটকে একটি জাতীয় সুযোগে পরিণত করার অভিনব পথ দেখাচ্ছে| প্রতিষ্ঠানটির বিজনেস বিভাগের পরিচালক ইসা আবরার আহমেদ জানিয়েছেন যে, বর্তমানে দেশের রাস্তায় চলাচলকারী পঁচানব্বই শতাংশ রিকশাতেই মান্ধাতা আমলের ‘লিড-অ্যাসিড’ ব্যাটারি ব্যবহার করা হচ্ছে, যা ওজনে ভারী, চার্জ হতে দীর্ঘ সময় নেয় এবং বিদ্যুতের চরম অপচয় ঘটায়| এই পুরোনো প্রযুক্তির পরিবর্তে যদি রিকশাগুলোতে আধুনিক ‘লিথিয়াম-আয়ন’ ব্যাটারি ব্যবহার করা যায়, তবে প্রতিদিন দেশের অন্তত তেরো কোটি বিশ লাখ টাকার বেশি মূল্যবান বিদ্যুৎ সাশ্রয় করা সম্ভব| সোলশেয়ারের একটি পরীক্ষামূলক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, সারাদিন রাস্তায় রিকশা চালানোর পরও একটি উন্নতমানের লিথিয়াম ব্যাটারিতে প্রায় চল্লিশ শতাংশ পর্যন্ত চার্জ মজুত থাকে| সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হলো, এই মজুত থাকা চার্জ আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে রাত বারোটার আগে উলটো জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব|

লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির এই যুগান্তকারী সম্ভাবনার বাস্তব প্রমাণ মিলেছে রাজধানীর উত্তরখানে অবস্থিত হোসনে আরা এন্টারপ্রাইজের গ্যারেজেই| তারা ইতিমধ্যে নেট মিটারিং সিস্টেমের মাধ্যমে তাদের গ্যারেজের রিকশার ব্যাটারিতে বেঁচে যাওয়া চার্জ থেকে এক হাজার বাহাত্তর ইউনিট বিদ্যুৎ ডেসকোর মূল বিতরণ লাইনে যুক্ত করে এক অসামান্য সফলতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে| গ্যারেজের মালিক মোহাম্মদ দাউদ লিড অ্যাসিড এবং লিথিয়াম ব্যাটারির একটি অর্থনৈতিক তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরে জানান, লিড অ্যাসিডের ব্যাটারি চার্জ করতে যেখানে দিনে একশ ত্রিশ থেকে একশ পঁয়ত্রিশ টাকার বিদ্যুৎ খরচ হয়, সেখানে একটি লিথিয়াম ব্যাটারি সম্পূর্ণ চার্জ করতে খরচ হয় মাত্র আশি থেকে পঁচাশি টাকা| এছাড়া সাধারণ লিড ব্যাটারি যেখানে এক বছরের কম সময়ে নষ্ট হয়ে যায়, সেখানে একটি লিথিয়াম ব্যাটারি অনায়াসে তিন বছর পর্যন্ত টেকসই সেবা প্রদান করে| শুধু তাই নয়, ওই গ্যারেজে পরীক্ষামূলকভাবে আঠারো কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি সোলার প্যানেল বা সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে| এই পরিবেশবান্ধব সোলার প্যানেলের মাধ্যমে সম্পূর্ণ বিনা খরচে দিনের বেলায় তিনটি রিকশার লিথিয়াম ব্যাটারি পূর্ণ চার্জ করা সম্ভব হচ্ছে|

দেশের এই লাখ লাখ ব্যাটারিচালিত রিকশাকে যদি একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালার আওতায় এনে আধুনিকায়ন করা যায়, তবে তা বিদ্যুৎ খাতের জন্য আর বোঝা হয়ে থাকবে না| সোলশেয়ারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ডক্টর সেবাস্তিয়ান গ্রোহ অত্যন্ত আশাবাদী হয়ে জানিয়েছেন যে, সরকারের সঠিক উদ্যোগ এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা পেলে দেশের এই ষাট লাখ রিকশাকে চাইলেই একটি স্মার্ট এবং লিথিয়ামচালিত বিশাল এক ভ্রাম্যমাণ বিদ্যুৎকেন্দ্রে রূপান্তরিত করা সম্ভব| এমন স্মার্ট ব্যাটারি ব্যবহার করতে হবে যা শুধু জাতীয় গ্রিড থেকে চার্জই নেবে না, বরং প্রয়োজনে গ্রিডের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহও করতে পারবে এবং মেয়াদ শেষে দেশেই এর পরিবেশসম্মত রিসাইক্লিং করা যাবে| যদি রাষ্ট্র এই বিশাল কাজটি পরিকল্পিতভাবে এবং বৃহৎ পরিসরে বাস্তবায়ন করতে পারে, তবে প্রতি বছর দেশের অন্তত নয় হাজার পাঁচশ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে বলে বিশেষজ্ঞরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন| এই বিপুল পরিমাণ সাশ্রয় দেশের অর্থনৈতিক কাঠামোকে যেমন শক্তিশালী করবে, তেমনি বিদ্যুৎ খাতের ক্রমবর্ধমান ঘাটতি মোকাবিলায় এক যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করবে|

তথ্যসূত্র: যুগান্তর


এ জাতীয় আরো খবর...