শিশুরা কার সাথে মিশছে, এটা কিন্তু খুব গুরুত্বপূর্ণ। সারাজীবন এর প্রভাব থাকে। তাই এ ব্যাপারে সাবধান থাকা উচিত। অভিজ্ঞতা থেকে আমি নিচে পাঁচ ধরনের মানুষের কথা বললাম।
এসব ত্রুটি আমাদের অনেকের কমবেশি আছে। তাই আমি গড়পড়তা সবার কথা বলছি না। স্বভাবগতভাবে এ ত্রুটিগুলো যাদের আছে, তাদের কথা বলছি।
১। অভদ্র
ভদ্রতা এমন একটি গুণ, যা শিশু বিকাশের সাথে সাথে গড়ে ওঠে। বড় হলে চাইলেই এ গুণ সহজে আয়ত্ত করা যায় না। তারা যদি অভদ্র মানুষের সাথে মেশে, তবে ভদ্রতা শিখবে কীভাবে? সে বড় হয়েছে অভদ্র আচরণ দেখে। সেটাই হয়ে যাবে তার স্বাভাবিক আচরণ।
২। নেতিবাচক
এদের নেগেটিভ কথাবার্তা শিশুদের মনোবল গড়ে উঠতে দেয় না। এদের প্রভাবে শিশুদের মধ্যে জীবনের প্রতি বিতৃষ্ণা জন্ম নেয়।
আশাবাদী মানুষ সহজে পরাজিত হয় না—তাই নৈরাশ্যবাদীদের সাথে মিশতে দেবেন না। এতে ওদের মধ্যে আশাবাদ পাখা মেলবে না।
৩। বদরাগী
এ ধরনের সঙ্গ বাচ্চাদের দুটো ক্ষতি করে।
এক নম্বর হলো, তারা এদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে বদরাগী হয়ে ওঠে।
দুই নম্বর হলো, রাগী মানুষের ক্ষিপ্ত আচরণ শিশুদের মধ্যে ভীতি তৈরি করে, যা তারা পরবর্তী জীবনে সহজে কাটিয়ে উঠতে পারে না।
৪। মিথ্যাবাদী
মিথ্যাবাদী রাখালদের কাছ থেকে শিশুদের দূরে রাখুন। নয়তো সত্যের আলো তারা আবিষ্কার করতে পারবে না। মিথ্যে বলাটা হয়ে যাবে ডালভাত।
৫। কুসংস্কারাচ্ছন্ন
এ ধরনের লোকজন শিশুদের মুক্তচিন্তায় ব্যাঘাত ঘটায়। শিশুমনে চিন্তার উন্মেষ না ঘটলে পরে তা সহজে ঘটে না। আপনি যদি চান, আপনার সন্তান কুসংস্কারমুক্ত হোক, তাহলে এদের কাছ থেকে তাদের দূরে রাখুন।
আমি জানি, এ পাঁচ ধরনের মানুষ থেকে শিশুদের দূরে রাখা সবসময় সম্ভব না, কিন্তু যতদূর সম্ভব দূরে রাখা উচিত।
আপনার শিশু দুনিয়ার সম্পদ। আপনি এ সম্পদের জিম্মাদার। আপনি ব্যর্থ হলে পৃথিবী হেরে যাবে।
আমাদের সন্তান হোক সবচেয়ে সুন্দর গোলাপ। পৃথিবী নামের বাগানের শ্রেষ্ঠ ফুল।
⸻
# আসুন মায়া ছড়াই