শিরোনামঃ
শ্রমিক হত্যা ও অগ্নিনিরাপত্তায় গাফিলতি: অবহেলার সংস্কৃতি বন্ধ হোক বিএনপির মনোনয়ন ফরম বিতরণ শুরু শুক্রবার দেশ ও সরকারের ভাবমূর্তি বিনষ্টের ষড়যন্ত্র চলছে: রিজভী সামুদ্রিক অর্থনীতির সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপর জোর নৌমন্ত্রীর স্থাপত্যশৈলী অক্ষুণ্ন রেখে সংসদ ভবনে সোলার প্যানেল স্থাপনের উদ্যোগ আগামী পাঁচ বছরে ৩ হাজার শিক্ষককে পিএইচডি অর্জনে সহায়তা দেবে ইউজিসি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি গঠন স্থগিত আইনগত সহায়তার মাধ্যমে ন্যায়বিচারের পথ সুগম করতে হবে: আইনমন্ত্রী এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের উন্নয়নকাজের আইনি বাধা দূর হয়েছে: অ্যাটর্নি জেনারেল ৪৫তম বিসিএসে ১,৭০২ জনের নিয়োগ, গেজেট প্রকাশ
শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২৪ পূর্বাহ্ন

জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় কয়লায় নজর

নিজস্ব প্রতিবেদক / ২৯ বার
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানির সরবরাহ নিয়ে নতুন করে এক চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে| আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামের ওঠানামা এবং এলএনজি আমদানির উচ্চ খরচের কারণে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলো তাদের ভবিষ্যৎ জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন| আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর মাত্রাতিরিক্ত নির্ভরশীলতা কমিয়ে আনা এবং কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করার লক্ষ্যে সরকার এখন বাধ্য হয়েই দেশের অভ্যন্তরে থাকা নিজস্ব কয়লাখনিগুলোর দিকে নতুন করে নজর দিচ্ছে| বিদ্যুৎ উৎপাদনে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে দেশের সম্ভাবনাময় কয়লাখনিগুলোর আধুনিক ও বাণিজ্যিক উন্নয়ন নিয়ে সরকারি পর্যায়ে জোরেশোরে কাজ শুরু হয়েছে| এর অংশ হিসেবে বিশেষ করে দিনাজপুরের ফুলবাড়ী কয়লাখনিটিকে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে| তবে অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতার কারণে সরকার এবার সাবধানে পা ফেলছে এবং এই খনিটিকে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে উন্নয়নের ক্ষেত্রে জমির স্থানীয় মালিকদের কেবল ক্ষতিপূরণ নয়, বরং খনির অর্জিত মুনাফার একটি বড় অংশ তাদের সঙ্গে সরাসরি ভাগাভাগি করার এক যুগান্তকারী পরিকল্পনা নিয়ে গভীরভাবে চিন্তাভাবনা করছে|

জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের কারণে স্থানীয় জনগণের ব্যাপক উচ্ছেদ এবং পরিবেশগত বিপর্যয়ের আশঙ্কায় দীর্ঘদিন ধরে ফুলবাড়ী কয়লাখনির উন্নয়নকাজ সম্পূর্ণ আটকে ছিল| স্থানীয়দের তীব্র আন্দোলন ও রক্তক্ষয়ী প্রতিবাদের মুখে একসময় এই প্রকল্পের কাজ স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছিল সরকার| সেই আটকে থাকা ফুলবাড়ী কয়লাখনি উন্নয়নে এবার জনগণের আস্থা অর্জনের জন্য সম্পূর্ণ নতুন একটি কাঠামো বা মডেল তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে| নতুন এই প্রস্তাব বা মডেল অনুযায়ী, খনি উন্নয়নের জন্য স্থানীয় মানুষের কাছ থেকে যে জমি ইজারা হিসেবে নেওয়া হবে, তার বিনিময়ে জমির মালিকদের এককালীন মোটা অঙ্কের অর্থ দেওয়া হবে| শুধু তাই নয়, খনি থেকে কয়লা উত্তোলন করে তা বিক্রির পর যে বিশাল মুনাফা অর্জিত হবে, সেই লভ্যাংশের একটি নির্দিষ্ট অংশও নিয়মিতভাবে ওই জমির মালিকদের মধ্যে বণ্টন করা হতে পারে| এর পাশাপাশি খনির নির্ধারিত ইজারার দীর্ঘ মেয়াদ শেষে জমিগুলো পুনরায় ব্যবহারযোগ্য করে মূল মালিকদের কাছে ফেরত দেওয়া, স্থানীয় মানুষের জন্য খনিতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, গৃহহীনদের জন্য আধুনিক আবাসন ও রাস্তাঘাটসহ উন্নত অবকাঠামো নির্মাণ এবং ওই এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও সুপেয় পানি সরবরাহের মতো জনকল্যাণমূলক বিষয়গুলোও সরকারের এই নতুন উন্নয়ন পরিকল্পনায় অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে স্থান পেয়েছে|

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, উন্মুক্ত পদ্ধতিতে বা ওপেন পিট মাইনিংয়ের মাধ্যমে কয়লা উত্তোলনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ওই এলাকার বিপুলসংখ্যক মানুষের সুষ্ঠু পুনর্বাসন, উর্বর কৃষিজমি চিরতরে নষ্ট হওয়া থেকে রক্ষা করা, ভূগর্ভস্থ সুপেয় পানির সংস্থান নিশ্চিত করা এবং খনি এলাকার চারপাশের সার্বিক পরিবেশগত প্রভাব বা ইকোলজিক্যাল ইমপ্যাক্ট সফলভাবে মোকাবেলা করা| তাই খনি উন্নয়নের চূড়ান্ত ও অপরিবর্তনীয় সিদ্ধান্তের আগে খনিগুলোর প্রকৌশলগত নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক লাভ-ক্ষতির হিসাব এবং পরিবেশগত সম্ভাব্যতা নিয়ে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের দিয়ে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে যাচাই করার ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিচ্ছেন পরিবেশবাদীরা| সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে জানা গেছে, গত ৪ অক্টোবর খোদ প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে দেশের নিজস্ব কয়লা উত্তোলনের সার্বিক সম্ভাবনা নিয়ে একটি বিস্তারিত ও উচ্চ পর্যায়ের উপস্থাপনা বা প্রেজেন্টেশন দেওয়া হয়েছে| ওই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে দেশের বড়পুকুরিয়া, ফুলবাড়ী ও দিঘিপাড়া কয়লাখনির বর্তমান পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়| এর পাশাপাশি জামালগঞ্জ খনির প্রাথমিক সমীক্ষার প্রতিবেদন এবং অন্যান্য ছোট খনির অগ্রগতি নিয়মিতভাবে পর্যালোচনা করার বিষয়েও প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে|

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, ফুলবাড়ী খনি উন্নয়নের স্পর্শকাতর বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, পরিবেশবাদী এবং খনি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সরকারের ধারাবাহিক আলোচনা চলছে| জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে, খনির জন্য যে বিপুল পরিমাণ জমি ইজারা নেওয়া হবে, সেই জমির মূল মালিকদের সঙ্গে খনির লভ্যাংশ বা মুনাফা ভাগাভাগির অভিনব পরিকল্পনাটি নিয়েই এখন বেশি কাজ হচ্ছে| বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আরও কয়েক দফা বিস্তারিত আলোচনা শেষে ফুলবাড়ী কয়লাখনি উন্নয়নের একটি চূড়ান্ত ও গ্রহণযোগ্য পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হবে| এ বিষয়ে পেট্রোবাংলার অপারেশন অ্যান্ড মাইনস বিভাগের পরিচালক প্রকৌশলী মো. শোয়েব অত্যন্ত স্পষ্ট করে বলেছেন যে, দেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশীয় গ্যাস উত্তোলনের চলমান প্রচেষ্টার পাশাপাশি নিজস্ব কয়লা উত্তোলনেরও মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার| এক্ষেত্রে দিনাজপুরের ফুলবাড়ী কয়লা খনিকে সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনাময় ধরে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এবং একই সঙ্গে পরিবেশের ক্ষতি ন্যূনতম রেখে কয়লা উত্তোলনে সব ধরনের আধুনিক সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে|

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত এই মুনাফা ভাগাভাগি ব্যবস্থার আওতায় ফুলবাড়ী, পার্বতীপুর, বিরামপুর ও নবাবগঞ্জ উপজেলার খনিসংলগ্ন বিশাল এলাকার জমির মালিক ও স্থানীয় বাসিন্দারা সরাসরি আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারেন| ভূতাত্ত্বিক জরিপ ও কয়লাখনির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ফুলবাড়ী কয়লাখনিতে প্রায় ৫৭২ মিলিয়ন বা ৫৭ কোটি ২০ লাখ টন অত্যন্ত উন্নতমানের বিটুমিনাস কয়লার বিশাল মজুদ রয়েছে| এর মধ্যে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রায় ৪৭৫ মিলিয়ন টন কয়লা ভূগর্ভ থেকে উত্তোলনযোগ্য বলে ধারণা করা হচ্ছে| খনিটি যদি তার পূর্ণ সক্ষমতায় চালু করা যায়, তবে সেখান থেকে প্রতি বছর প্রায় দেড় কোটি টন কয়লা উত্তোলন করা সম্ভব হতে পারে| তবে পেট্রোবাংলার শীর্ষ কর্মকর্তারা বাস্তবতার নিরিখে বলছেন যে, ফুলবাড়ী খনির আওতাভুক্ত প্রায় ১০ হাজার একর জায়গাজুড়ে বর্তমানে প্রায় ৪০ হাজার মানুষের ঘনবসতি রয়েছে| খনি উন্নয়নের জন্য প্রাথমিকভাবে প্রায় ৪৮ বর্গকিলোমিটার বিশাল এলাকা অধিগ্রহণ বা ইজারা নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে| ফলে এত বড় একটি মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এত বিপুল পরিমাণ জমি অধিগ্রহণ, হাজার হাজার বসতবাড়ি নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর, উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং তাদের স্থায়ী পুনর্বাসনের বিষয়গুলো সরকারকে অত্যন্ত সংবেদনশীলতার সঙ্গে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে|

ফুলবাড়ী খনি উন্নয়নের এই সুদীর্ঘ উদ্যোগে আগে থেকেই যুক্ত রয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক বহুজাতিক কম্পানি জিসিএম রিসোর্সেস পিএলসির সহযোগী প্রতিষ্ঠান এশিয়া এনার্জি করপোরেশন বা বাংলাদেশ প্রাইভেট লিমিটেড| এই প্রতিষ্ঠানটি অনেক আগে খনিটির বিস্তারিত সম্ভাব্যতা যাচাই করে একটি উন্নয়ন পরিকল্পনা সরকারের কাছে জমা দিয়েছিল| এমনকি পরবর্তীতে খনির ঠিক পাশেই সর্বোচ্চ এক হাজার মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার একটি মেগা কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের লোভনীয় প্রস্তাবও সরকারের কাছে দিয়েছিল তারা| কিন্তু সে সময় স্থানীয় জনগণ ও পরিবেশবাদীদের তুমুল আন্দোলনের মুখে প্রকল্পটির অগ্রগতি পুরোপুরি থমকে যায়| সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তারা এখন স্বীকার করছেন যে, এত বিপুলসংখ্যক মানুষের পুনর্বাসন, ন্যায্য ক্ষতিপূরণ এবং স্থানীয় জনগণের জন্য দীর্ঘমেয়াদি অন্যান্য সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়ে একটি স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য কাঠামোর অভাবই মূলত এই প্রকল্পটির চরম বিরোধিতার অন্যতম প্রধান কারণ ছিল| এবার সরকার সেই অতীত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েই জমির মালিকদের সরাসরি প্রকল্পের অংশীদার করার একটি যুগান্তকারী পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নেমেছে|

বর্তমানে দেশে চালু থাকা কয়লাভিত্তিক মেগা বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মোট উৎপাদনক্ষমতা সাত হাজার মেগাওয়াটের কিছু বেশি| কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় হলো, এসব বিশাল কেন্দ্রে ব্যবহৃত কয়লার প্রায় পুরোটাই বিদেশ থেকে উচ্চমূল্যে আমদানি করতে হয়| পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশ বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য বছরে প্রায় দুই কোটি থেকে দুই কোটি ২০ লাখ টন কয়লা আমদানি করে থাকে| শুধু ২০২৪-২৫ অর্থবছরেই এই কয়লা আমদানির পেছনে দেশের ব্যয় হয়েছে প্রায় ১১৯ কোটি মার্কিন ডলার, যা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর বড় একটি চাপ| বিশেষজ্ঞরা হিসাব কষে দেখিয়েছেন যে, ফুলবাড়ী, বড়পুকুরিয়া নর্থ ও দিঘিপাড়া খনি থেকে যদি যথাক্রমে বছরে দেড় কোটি, ৬০ লাখ ও ৩০ লাখ টন কয়লা উত্তোলন করা যায়, তবে দেশীয় খনি থেকেই মোট সরবরাহের পরিমাণ দাঁড়াতে পারে প্রায় দুই কোটি ৪০ লাখ টন| এই বিপুল পরিমাণ উত্তোলন সম্ভব হলে দেশের কয়লা আমদানির সর্বোচ্চ ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত স্থানীয় কয়লা দিয়েই মেটানো সম্ভব হবে| তবে এই বিশাল সম্ভাবনা বাস্তবায়ন পুরোপুরি নির্ভর করবে উত্তোলনযোগ্য মজুদের সঠিক পরিমাণ, কয়লা উৎপাদনের ব্যয়, পরিবহনব্যবস্থার উন্নয়ন এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর প্রকৃত চাহিদার ওপর|

দেশীয় নিজস্ব কয়লা উত্তোলনের পাশাপাশি সরকার নতুন করে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোরও একটি বড় উদ্যোগ নিয়েছে| বিশ্ববাজারে গ্যাস সরবরাহের চরম অনিশ্চয়তা, উচ্চমূল্যের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি আমদানি করতে গিয়ে ডলার সংকট এবং দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রের মজুদ দ্রুত ফুরিয়ে আসার কঠিন প্রেক্ষাপটে সরকার কয়লাকে একটি নির্ভরযোগ্য বিকল্প জ্বালানি হিসেবে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছে| এই লক্ষ্য পূরণে ইতিমধ্যেই দুই হাজার ৬৪০ মেগাওয়াট বিপুল সক্ষমতার দুটি নতুন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের নীতিগত অনুমোদন প্রদান করেছে সরকার| এর মধ্যে কক্সবাজারের মাতারবাড়ী এবং পটুয়াখালীর পায়রায় এই কেন্দ্র দুটি নির্মাণ করতে তিন বিলিয়ন ডলারেরও বেশি বিপুল অর্থ ব্যয় হতে পারে| জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ম. তামিম এ বিষয়ে জানান যে, বিশ্ববাজারে এলএনজির তুলনায় কয়লার উৎস ও সরবরাহ অনেক বেশি নির্ভরযোগ্য ও স্থিতিশীল| দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির মাধ্যমে কয়লা আমদানির পাকাপোক্ত ব্যবস্থা করা গেলে দেশের জ্বালানি সরবরাহের বর্তমান অনিশ্চয়তা অনেকটাই মোকাবেলা করা সম্ভব হবে| তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্প্রসারণের পাশাপাশি এর ফলে সৃষ্ট বায়ুদূষণ ও পরিবেশগত ঝুঁকিগুলোকেও সমানভাবে বিবেচনায় নিয়ে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে|

তথ্যসূত্র: কালের কন্ঠ


এ জাতীয় আরো খবর...