শিরোনামঃ
শ্রমিক হত্যা ও অগ্নিনিরাপত্তায় গাফিলতি: অবহেলার সংস্কৃতি বন্ধ হোক বিএনপির মনোনয়ন ফরম বিতরণ শুরু শুক্রবার দেশ ও সরকারের ভাবমূর্তি বিনষ্টের ষড়যন্ত্র চলছে: রিজভী সামুদ্রিক অর্থনীতির সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপর জোর নৌমন্ত্রীর স্থাপত্যশৈলী অক্ষুণ্ন রেখে সংসদ ভবনে সোলার প্যানেল স্থাপনের উদ্যোগ আগামী পাঁচ বছরে ৩ হাজার শিক্ষককে পিএইচডি অর্জনে সহায়তা দেবে ইউজিসি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি গঠন স্থগিত আইনগত সহায়তার মাধ্যমে ন্যায়বিচারের পথ সুগম করতে হবে: আইনমন্ত্রী এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের উন্নয়নকাজের আইনি বাধা দূর হয়েছে: অ্যাটর্নি জেনারেল ৪৫তম বিসিএসে ১,৭০২ জনের নিয়োগ, গেজেট প্রকাশ
শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২৪ পূর্বাহ্ন

সামুদ্রিক অর্থনীতির সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপর জোর নৌমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৭ বার
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬

বাংলাদেশের শিপিং ও সামুদ্রিক খাতের বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনে আধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষ জনশক্তি, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও সংশ্লিষ্ট খাতগুলোর মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন, রেলপথ এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী  শেখ রবিউল আলম।

তিনি বলেন, জাহাজ নির্মাণ, জাহাজ মেরামত ও পুনর্ব্যবহার, বন্দর ব্যবস্থাপনা, সামুদ্রিক পরিবহন, লজিস্টিকস ও অফশোর তেল-গ্যাস অনুসন্ধানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সামনে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে।

আজ ঢাকার কুড়িলে আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) বাংলাদেশের মেরিটাইম ও অফশোর শিল্পের আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী ‘৮ম বিমক্স ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ কথা বলেন।

সেভর ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড এ প্রদর্শনীর আয়োজন করে।

নৌপরিবহন মন্ত্রী  বলেন, পরিকল্পিত বিনিয়োগ, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি ও দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে পারলে এসব খাত জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

এ সময় শেখ রবিউল আলম আরও বলেন, বাংলাদেশ সমুদ্র, নদী ও নৌপথের প্রাচুর্যে সমৃদ্ধ একটি দেশ। দেশের প্রায় ১৬ হাজার কিলোমিটার প্রাকৃতিক নৌপথ ও বঙ্গোপসাগরে কৌশলগত অবস্থান শিপিং, বন্দর ব্যবস্থাপনা, সামুদ্রিক বাণিজ্য ও লজিস্টিকস খাতের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ সৃষ্টি করেছে। তবে এসব সম্ভাবনার পূর্ণ সদ্ব্যবহারে কার্যকর পরিকল্পনা, প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার প্রয়োগ প্রয়োজন।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম ও মোংলা সমুদ্রবন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি, মাতারবাড়িতে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানের বন্দর ব্যবস্থাপনা ও আধুনিকায়নে বৈশ্বিক অভিজ্ঞতাও কাজে লাগানো হচ্ছে।

এসব উদ্যোগ বাণিজ্য সম্প্রসারণ, পণ্য পরিবহনের দক্ষতা বৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বাংলাদেশের অবস্থানকে শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে বলে জানান তিনি।

শিপিং খাতের সম্ভাবনা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, এসব খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা অর্জনের মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান বাড়ানো সম্ভব। বিশেষ করে, বাংলাদেশের দক্ষ নাবিকদের আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে আরও বেশি সম্পৃক্ত করার সুযোগ রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা অনুযায়ী প্রশিক্ষণের মান উন্নয়ন, আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিতি ও পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে গুরুত্ব দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে ফিলিপাইনের মতো দেশের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের নাবিকদের আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ করা যেতে পারে।

আন্তর্জাতিক সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরে শেখ রবিউল আলম বলেন, সামুদ্রিক খাতে অভিজ্ঞ দেশ ও প্রতিষ্ঠানগুলোর কারিগরি জ্ঞান, আধুনিক প্রযুক্তি ও ব্যবস্থাপনাগত দক্ষতা বাংলাদেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি বলেন, বিমক্সের মতো আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ব্যবসায়িক যোগাযোগ, প্রযুক্তি বিনিময়, বিনিয়োগ ও যৌথ উদ্যোগের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।

পরিবেশ সুরক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, সমুদ্রসম্পদ আহরণ ও সামুদ্রিক কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে। অপরিকল্পিত সম্পদ আহরণ ও অনিয়ন্ত্রিত কার্যক্রম সামুদ্রিক প্রতিবেশের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই আধুনিক প্রযুক্তি, পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি ও দায়িত্বশীল ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সামুদ্রিক সম্পদের টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি।

জ্বালানি রূপান্তর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক শিপিং খাতে পরিবেশবান্ধব জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা চলছে। তবে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশের প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি, আর্থিক সক্ষমতা ও বাস্তব সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পিতভাবে এগিয়ে যেতে হবে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক পরিবেশ সুরক্ষা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও মানবকল্যাণ নিশ্চিত করতে হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, শিপিং ও সামুদ্রিক খাতের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে সরকারি প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি খাত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, প্রশিক্ষণকেন্দ্র ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। বিদ্যমান সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের সক্ষমতা আরও সুদৃঢ় করতে সরকার কাজ করছে।
তিনি ৮ম বিমক্স ২০২৬-এর আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এ ধরনের আন্তর্জাতিক আয়োজন বাংলাদেশের সামুদ্রিক শিল্পের বিকাশ, প্রযুক্তিগত জ্ঞান বিনিময় ও বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি সংশ্লিষ্ট দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠান ও বিশেষজ্ঞদের এ খাতের উন্নয়নে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন— নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত জোরিস ভ্যান বোমেল, মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত উ কিয়াও সোয়ে মোয়ে, বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির উপাচার্য রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. নিয়ামাত এলাহী ও নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমোডোর মো. শফিউল বারী।


এ জাতীয় আরো খবর...