শিরোনামঃ
শ্রমিক হত্যা ও অগ্নিনিরাপত্তায় গাফিলতি: অবহেলার সংস্কৃতি বন্ধ হোক বিএনপির মনোনয়ন ফরম বিতরণ শুরু শুক্রবার দেশ ও সরকারের ভাবমূর্তি বিনষ্টের ষড়যন্ত্র চলছে: রিজভী সামুদ্রিক অর্থনীতির সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপর জোর নৌমন্ত্রীর স্থাপত্যশৈলী অক্ষুণ্ন রেখে সংসদ ভবনে সোলার প্যানেল স্থাপনের উদ্যোগ আগামী পাঁচ বছরে ৩ হাজার শিক্ষককে পিএইচডি অর্জনে সহায়তা দেবে ইউজিসি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি গঠন স্থগিত আইনগত সহায়তার মাধ্যমে ন্যায়বিচারের পথ সুগম করতে হবে: আইনমন্ত্রী এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের উন্নয়নকাজের আইনি বাধা দূর হয়েছে: অ্যাটর্নি জেনারেল ৪৫তম বিসিএসে ১,৭০২ জনের নিয়োগ, গেজেট প্রকাশ
শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২৩ পূর্বাহ্ন

আগামী ৬ মাসে ৬০টি ডায়ালাইসিস মেশিন স্থাপনের ঘোষণা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৬ বার
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬

আগামী ছয় মাসের মধ্যে বিভাগীয় মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোতে ৬০টি ডায়ালাইসিস মেশিন স্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন।

আজ বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে ‘জাতীয় স্বাস্থ্য সুরক্ষা কর্তৃপক্ষ গঠন’ সম্পর্কিত গবেষণার ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিট।

স্বাস্থ্য খাতকে শক্তিশালী করতে হেলথ ইনস্যুরেন্স ব্যবস্থা কার্যকর করা দরকার জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রতিটি ইউনিয়নে একটি হেলথ সেন্টার ও তিনটি করে ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার সেন্টার স্থাপন করা হবে।

তিনি বলেন, ‘প্রান্ত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে স্বাস্থ্য ওয়েলবিং সেন্টার করা হবে, আগামী ১ সপ্তাহের মধ্যে টেন্ডার করে, ১ বছরের মধ্যে বাস্তবায়ন করা হবে।’ এসব সেন্টারে রক্তের বিভিন্ন পরীক্ষা করাসহ বিভিন্ন স্ক্রিনিং করা যাবে বলে জানান মন্ত্রী।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে যে ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, তা দেশের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে শতভাগ উপযোগী হলেও একসাথে সব বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত কঠিন। তাই সুনির্দিষ্ট কিছু বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে ধাপে ধাপে পাইলট স্কিম হিসেবে এই কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের মহাপরিচালক ড. মো. এনামুক হকসহ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে সচিবালয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ, বিশেষায়িত ইনস্টিটিউট ও অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত চিকিৎসকদের অটোমেশন পদ্ধতিতে বদলি ও পদায়ন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি জানান, চিকিৎসকদের বদলি ও পদায়নে কোনো রাজনৈতিক দলের পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া হবে না। তিনি বলেন, অটোমেশন পদ্ধতিতে চিকিৎসকদের মেধা, যোগ্যতা ও পছন্দকে গুরুত্ব দিয়ে বদলি ও পদায়ন করা হবে। এতে কোনো ধরনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বা পক্ষপাতিত্বের সুযোগ থাকবে না।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, অটোমেশন পদ্ধতিতে ৮৭ জন চিকিৎসককে তাদের পছন্দ, মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে পদায়ন করা হচ্ছে। এটি একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট নির্দেশনায় এ পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। এখানে ব্যক্তিগত পরিচয়, রাজনৈতিক বিবেচনা কিংবা অন্য কোনো প্রভাবের সুযোগ নেই। তিনি বলেন, অটোমেশন পদ্ধতির কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ করে ভবিষ্যতে পুরো স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে এ ব্যবস্থার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এটি একটি নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। সরকার এ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়ন করতে চায়।

এসময় প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে বর্তমানে প্রায় ৪০ হাজার চিকিৎসক কর্মরত রয়েছেন। নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে চিকিৎসকদের বদলি ও পদায়ন করা হলেও অতীতে, বিশেষ করে ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে, এ ক্ষেত্রে দলীয়করণ, দুর্নীতি ও অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে। তিনি বলেন, যোগ্য ব্যক্তিদের যথাযথ মূল্যায়ন না করে দলীয় বিবেচনায় বিভিন্ন পদে নিয়োগ দেওয়ায় স্বাস্থ্যব্যবস্থা সংকটের মুখে পড়েছিল। অতীতে স্বাস্থ্যখাতের দুর্নীতি ও ভঙ্গুর অবস্থার চিত্র সংবাদমাধ্যমেও বারবার উঠে এসেছে।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব ড. আ. ন. ম. বজলুর রশিদ, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব এ কে এম বেঞ্জামিন রিয়াজী এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. নাজমুল হোসেনসহ মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


এ জাতীয় আরো খবর...