রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২০ পূর্বাহ্ন

ঘাড়ে-পিঠে-কোমরে সারাক্ষণ ব্যথা: যন্ত্রণা দূর করতে মানতে হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক / ১৭ বার
প্রকাশ: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬

কোমর ব্যথা বিশ্বের বৃহত্তম স্বাস্থ্য সমস্যাগুলোর মধ্যে একটি। দুর্ভাগ্যবশত
এটি ক্রমশ বেড়ে চলেছে। কোমর ব্যথার জন্য সমাজ এবং ব্যক্তিজীবনে
ক্ষতিকারক প্রভাব ফেলছে এবং এর জন্য আমাদের সময়ের পাশাপাশি
অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে। বিশ্বব্যাপী ৫৪০ মিলিয়ন মানুষ জীবনের যে কোনো
সময়ে পিঠ এবং কোমর ব্যথায় ভোগেন।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ১০ জনের মধ্যে ৮ জন অন্তত এক বা তার বেশিবার
পিঠের এবং কোমরের সমস্যা অনুভব করে।
গবেষকগণ বলেছেন, অতিরিক্ত ওজনের মানুষ এবং ৩০ বছরের বেশি বয়সী
মহিলাদের পিঠ এবং কোমরের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা হওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।
যারা দীর্ঘসময় অফিসে বসে কাজ করেন তাদের দশজনের মধ্যে
চারজন কোমর ব্যথায় ভোগেন।
চলুন জেনে নেই কোমর ব্যথার কিছু কারণ:
ঘাড়ে-কোমরে আর পিঠে ব্যথা দিনকে দিন বেড়ে চলেছে। ছোটদেরও
রেহাই নেই ব্যথার কবল থেকে। দিন-রাত অনলাইনে পড়াশোনা করে,
ভিডিও গেম খেলে আর টিভিতে কার্টুন দেখে ওজন বাড়াচ্ছে। আর ঘাড়,
পিঠ, মাথার ব্যথা শরীরে বাসা বাঁধছে। ছোট থেকে বয়স্ক সকলের মধ্যেই
এধরনের সমস্যা দেখে দিচ্ছে।
অন্যদিকে যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন তারা আল্লাহর রহমতে ভালো
আছেন। গবেষকরা বলছেন, ব্যথা-বেদনার ভয়ে জড়সড় হয়ে বসে থাকলে
ব্যথা বাড়ে বৈ কমে না। অনেক আগে ধারণা ছিল, ব্যথা হলে চুপচাপ শুয়ে বা বসে না থাকলে
ব্যথা বেড়ে যায়। হাড় ভাঙ্গা, স্লিপ ডিস্কসহ কয়েকটি ক্ষেত্র ছাড়া পুরনো এ
ভাবনা এখন বাতিল।
অক্সিজেনযুক্ত রক্ত চলাচলের অভাবে পেশী ক্লান্ত হয়ে পড়লে ব্যথা
বাড়ে। নড়াচড়া না করে চুপচাপ শুয়ে বসে থাকলে ব্যথার প্রকোপ বেড়ে
যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। বরং যত বেশি চলাফেরা করবেন, ব্যায়াম করবেন
ততই রক্ত চলাচল বাড়বে, ব্যথার কষ্ট কমবে। প্রত্যেকদিন কিছুক্ষণ
শরীরচর্চা ও নিয়ম করে হাঁটাহাঁটি করলে রক্ত চলাচলের গতি বেড়ে গিয়ে
ব্যথার কষ্ট থেকে রেহাই পাওয়া যায়।
মাথায় রাখতে হবে:
 এখন থেকেই সচেতন হয়ে নিয়ম করে সকালে সন্ধ্যায় হাঁটাহাঁটি করতে
হবে।
 কয়েকটি ফ্রি হ্যান্ড এক্সারসাইজ করতে পারেন। সর্বোপরি মেরুদণ্ডের
সংলগ্ন পেশীকে সচল রাখতে নিয়ম করে কিছু যোগাসন করতে হবে।
 যাদের ঘাড়ে, কোমরে, হাঁটুতে বা পিঠে খুব ব্যথা, তারা একবার
বিশেষজ্ঞ ফিজিওথেরাপি চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে সঠিক চিকিৎসা,
ফিজিওথেরাপি ও আসন করা শুরু করুন।
 পেটের পেশী বা অ্যাবডোমিনাল মাসল দুর্বল হয়ে গেলে পিঠের ব্যথার
কষ্ট বেড়ে যায়। তাই নিয়ম করে পেটের ব্যায়াম করতে হবে।
 পেটের পেশী মজবুত করলে পিঠের ব্যথার কষ্ট পেতে হবে না।
কোমরের ব্যথা ও হাঁটুর ব্যথায় যেটুকু সহ্য হয়, সেটুকুই হাঁটুন। সমান
জায়গায় হাঁটাচলা করা যেতে পারে। বেশি বয়সে অস্টিওপোরোসিসের
কারণে ব্যথা হলে সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করা উচিত নয়। ব্যথা হলে
নিজে থেকেই ব্যথার ওষুধ কিনে খেলে সমস্যা বাড়বে বৈ কমবে না।


এ জাতীয় আরো খবর...