জাতীয় অর্থনীতি ও শিল্পায়নের হৃৎপিণ্ড হিসেবে পরিচিত তিতাস গ্যাস বিতরণ অঞ্চলের শিল্পাঞ্চলগুলোতে এখন বিরাজ করছে এক ভয়াবহ ও গভীর গ্যাস সংকট। বিদ্যুৎ উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা এবং কৃষি খাতের জন্য সার উৎপাদনে গ্যাস সরবরাহকে শীর্ষ অগ্রাধিকার দেওয়ায় প্রকারান্তরে নির্মম বৈষম্যের শিকার হচ্ছে দেশের উৎপাদনশীল বৃহৎ শিল্প খাত। বিশেষ করে সাভার, আশুলিয়া, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জসহ তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির আওতাধীন সুবিশাল শিল্প বেল্টে গ্যাসের মারাত্মক সরবরাহ ঘাটতি ও অস্বাভাবিক চাপহীনতার কারণে কারখানাগুলোর চাকা কার্যত থমকে যেতে বসেছে। গ্যাস সংকটের কারণে এ অঞ্চলের প্রায় এক হাজার রপ্তানিমুখী ও স্থানীয় উৎপাদনকারী শিল্পপ্রতিষ্ঠান এখন ধুঁকতে ধুঁকতে চিরতরে বন্ধ হয়ে যাওয়ার চরম দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে। বহু কারখানায় উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে এবং অনেক প্রতিষ্ঠান প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার লোকসান গুনতে গুনতে অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার মরিয়া সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে।
শিল্প বাঁচাতে এবং কারখানায় ন্যূনতম গ্যাসের চাপ নিশ্চিত করতে গত কয়েক মাসে শিল্পমালিক ও বিভিন্ন শিল্প সংগঠনের পক্ষ থেকে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পেট্রোবাংলার শীর্ষ টেবিলে অসংখ্য লিখিত অভিযোগ ও চিঠি পাঠানো হয়েছে। তবে দুঃখজনক বিষয় হলো, সংকট নিরসনে এবং কলকারখানাগুলোকে সুরক্ষা দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনো বাস্তবমুখী বা কার্যকর উদ্যোগ আজও চোখে পড়েনি। এমন পরিস্থিতিতে শিল্পোদ্যোক্তারা জানিয়েছেন যে শীত মৌসুমে বিদ্যুতের চাহিদা স্বাভাবিকভাবেই অনেক কমে যায়, ফলে অন্তত শিল্প খাতকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে আসন্ন শীতের চার মাস শিল্পে গ্যাসের বরাদ্দ ও চাপ বাড়ানো সরকারের জন্য সবচেয়ে জরুরি কাজ। ব্যবসায়ীদের এই অব্যাহত অভিযোগ ও ক্ষোভের বিষয়ে পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন) মোহাম্মদ শোয়েব জানিয়েছেন যে শিল্পে গ্যাসের অপ্রতুলতার বিষয়টি তাঁদের নজরে রয়েছে। তাই বিদ্যুৎ খাতে দৈনিক বরাদ্দ থেকে প্রায় ১০ কোটি ঘনফুট গ্যাস কমিয়ে তা শিল্প খাতে স্থানান্তরের মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার একটি সমন্বিত চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
অন্যদিকে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড বা পিডিবির দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা উল্লেখ করেছেন যে দেশজুড়ে শীত মৌসুমের আবহ শুরু হয়ে যাওয়ায় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র বা এসির ব্যবহার কমে এসেছে, যার ফলে বিদ্যুতের জাতীয় চাহিদাও উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। ফলে বিগত কয়েক দিন ধরে দেশে বড় ধরনের কোনো লোডশেডিংয়ের চাপ দেখা যায়নি। সরকারি নথিপত্র অনুযায়ী, দেশের ছয়টি বৃহৎ ইউরিয়া সার কারখানার মধ্যে বর্তমানে পাঁচটি সার কারখানাই পুরোদমে চালু রাখা হয়েছে। এমনকি গত বৃহস্পতিবার থেকে দেশের অন্যতম বৃহৎ যমুনা সার কারখানায় পুনরায় গ্যাস সরবরাহ দিয়ে চালু করা হয়েছে, যেখানে ইউরিয়া সার উৎপাদনের উপযোগী পূর্ণ গ্যাস চাপ বিদ্যমান রয়েছে। তবে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ মনে করছে, এই মুহূর্তে জাতীয় অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান বাঁচাতে সার কারখানার চেয়ে রপ্তানিমুখী শিল্পে গ্যাস দেওয়া বেশি জরুরি। তাই শিল্পাঞ্চলে দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করতে যমুনা সার কারখানাটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার একটি আনুষ্ঠানিক সুপারিশও করেছে জ্বালানি বিভাগ।
বর্তমানে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক গ্যাস সরবরাহের সামগ্রিক চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সারা দেশে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২৬০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়ে থাকে। এই সীমিত সরবরাহের মধ্যে শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনেই চলে যাচ্ছে দৈনিক ৯০ কোটি ঘনফুট গ্যাস এবং সার উৎপাদনের পেছনে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২২ কোটি ৩০ লাখ ঘনফুট গ্যাস। এই দুই শীর্ষ অগ্রাধিকার খাতের বাইরে দেশের সামগ্রিক শিল্প খাতে বরাদ্দ রয়েছে প্রায় ১১০ কোটি ঘনফুট গ্যাস এবং অবশিষ্ট গ্যাস গৃহস্থালি, বাণিজ্যিক ও সিএনজি গ্রাহকদের মাঝে বণ্টন করা হচ্ছে। অতীতে তীব্র গরমের মৌসুমেও বিদ্যুৎ খাতে যখন ৯০ কোটি ঘনফুট গ্যাস দেওয়া হতো, তখন সার খাতে বরাদ্দ ছিল মাত্র ১৫ কোটি ঘনফুটের মতো। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে রাসায়নিক সারের ভয়াবহ সংকট এবং অস্বাভাবিক উচ্চমূল্য সৃষ্টি হওয়ায় সরকার যেকোনো মূল্যে দেশীয় উৎপাদন চালু রাখতে প্রায় সবকটি সার কারখানা সচল রাখার কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে।
বর্তমানে চালু থাকা সার কারখানাগুলোর গ্যাস ব্যবহারের চিত্র পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ঘোড়াশাল সার কারখানা দৈনিক ৬ কোটি ৮৭ লাখ ঘনফুট গ্যাস ব্যবহার করছে। পুনরায় চালু হওয়া যমুনা সার কারখানা নিচ্ছে ২ কোটি ৭০ লাখ ঘনফুট, যদিও কারখানাটিতে পূর্ণাঙ্গ ইউরিয়া উৎপাদনে দৈনিক দরকার হয় প্রায় ৪ কোটি ৫০ লাখ ঘনফুট গ্যাস। এর পাশাপাশি চট্টগ্রাম ইউরিয়া সার কারখানা বা সিইউএফএল ৪ কোটি ৫০ লাখ, কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি বা কাফকো ৪ কোটি ৯৮ লাখ এবং সিলেটের শাহজালাল সার কারখানা দৈনিক ৪ কোটি ৩ লাখ ঘনফুট গ্যাস টেনে নিচ্ছে। ছয়টির মধ্যে বর্তমানে কেবল আশুগঞ্জ সার কারখানাটি রক্ষণাবেক্ষণজনিত কারণে বন্ধ রয়েছে। সার কারখানাগুলোর এই বিপুল পরিমাণ গ্যাস ব্যবহারের সরাসরি মাশুল গুনতে হচ্ছে সংলগ্ন শিল্পাঞ্চলগুলোকে। কারণ যমুনা সার কারখানা চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঢাকা, গাজীপুর ও সংলগ্ন অঞ্চলের পাইপলাইনে গ্যাসের চাপ একেবারেই তলানিতে নেমে যায়।
শিল্পে গ্যাসের সরবরাহহীনতার কারণে কারখানাগুলোতে কী ধরনের বিপর্যয়কর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তার বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে তিতাসে জমা পড়া শিল্পমালিকদের চিঠিপত্রে। গত ১৫ অক্টোবর দেশের অন্যতম বৃহৎ পোশাক প্রস্তুতকারক স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের পক্ষ থেকে গাজীপুরের চন্দ্রা এলাকায় অবস্থিত ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডিং সার্ভিসেস নামের কারখানার গ্যাস সংকটের বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে তিতাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে জরুরি আবেদন জানানো হয়। কারখানায় কর্মরত ১২ হাজার শ্রমিকের ভবিষ্যৎ উল্লেখ করে চিঠিতে জানানো হয়, কারখানার বিশালাকার বয়লার ও ক্যাপটিভ পাওয়ার জেনারেটর চালানোর জন্য গত জুন মাস থেকে ন্যূনতম পাইপলাইন গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে প্রতিদিন ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকার অতিরিক্ত ডিজেল কিনে জেনারেটর চালিয়ে কোনোমতে কারখানার কার্যক্রম সচল রাখা হচ্ছে। জ্বালানি বাবদ এই বিপুল পরিমাণ বাড়তি ব্যয়ের কারণে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের নির্ধারিত সময়ের শিপমেন্ট ব্যাহত হচ্ছে এবং ব্যাংকের ঋণের বোঝা পাহাড়সম আকার ধারণ করছে।
একই ধরনের চরম হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শীর্ষস্থানীয় টেক্সটাইল প্রতিষ্ঠান পাকিজা গ্রুপের পরিচালক সাইফুল ইসলাম। তিনি জানিয়েছেন যে তাঁদের গ্রুপের ছয়টি বড় কারখানার অধিকাংশ ইউনিটেই দিনের পর দিন কোনো গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে স্থাপিত স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রপাতি অলস পড়ে থাকছে। বাধ্য হয়ে ব্যাংক থেকে চড়া সুদে অতিরিক্ত ঋণ নিয়ে ডিজেল ও ফার্নেস অয়েল পুড়িয়ে বয়লার চালাতে হচ্ছে, যার ফলে প্রতিটি পণ্য উৎপাদনে ভয়াবহ আর্থিক লোকসান গুনতে হচ্ছে। তাঁর স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, এভাবে প্রতিদিন লোকসান দিয়ে কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে অনন্তকাল টিকে থাকা সম্ভব নয়। সরকার অবিলম্বে পাইপলাইনে স্বাভাবিক চাপ ফিরিয়ে না দিলে কারখানাগুলো স্থায়ীভাবে বন্ধ করে হাজার হাজার শ্রমিককে ছাঁটাই করা ছাড়া আর কোনো পথ খোলা থাকবে না। একই দিনে দেশের সুপরিচিত আমানত শাহ লুঙ্গির মূল কর্ণধার ও হেলাল অ্যান্ড ব্রাদার্সের মালিক মোহাম্মদ হেলাল মিয়া তিতাসের এমডির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে গ্যাসের অভাবে লাখ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতির হিসাব তুলে ধরে কারখানা বন্ধের উপক্রম হওয়ার কথা জানান।
তিতাস গ্যাস এবং পেট্রোবাংলার অভ্যন্তরীণ তথ্যমতে, সাভার, আশুলিয়া, কোনাবাড়ী, মানিকনগর, শফিপুর, চন্দ্রা এবং নবীনগর বেল্টেই গ্যাস সংকট সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। এই সংলগ্ন এলাকায় এক হাজারের বেশি ভারী টেক্সটাইল, ডাইং, স্পিনিং ও পোশাক কারখানা রয়েছে। পাইপলাইনের বিভিন্ন ইনটেক ও আউটলেট পয়েন্টে সরবরাহ ও চাপের যে ঘাটতি চলছে, তা এক অবিশ্বাস্য চিত্র তুলে ধরে। ধনুয়া পয়েন্টে যেখানে দৈনিক ২২ কোটি ৫০ লাখ ঘনফুট গ্যাস দেওয়ার কথা, সেখানে বাস্তবে দেওয়া হচ্ছে ২০ কোটি ৫০ লাখ ঘনফুট। গ্রাহকপ্রান্তে যেখানে গ্যাসের চাপ থাকার কথা ১০০ পিএসআই, সেখানে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৬০ পিএসআই। আশুলিয়া পয়েন্টে ১৩ কোটি ঘনফুট গ্যাস বরাদ্দের বিপরীতে মিলছে মাত্র সাড়ে সাত কোটি ঘনফুট এবং নির্ধারিত ৮০ পিএসআই চাপের বিপরীতে পাইপলাইনে থাকছে মাত্র ৩০ পিএসআই চাপ। জয়দেবপুর পয়েন্টে ১৮ কোটির জায়গায় সাড়ে ১২ কোটি ঘনফুট গ্যাস আসছে এবং ২৫০ পিএসআই চাপের জায়গায় নেমে এসেছে মাত্র ১৫০ পিএসআইয়ে। একইভাবে আমিনবাজার পয়েন্টে ৮ কোটি ঘনফুটের জায়গায় ৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস আসছে এবং ২৫ পিএসআই চাপের স্থলে মিলছে মাত্র ১১ পিএসআই। অন্যদিকে এলেঙ্গা পয়েন্টে ৯ কোটি ৫০ লাখ ঘনফুটের স্থলে দেওয়া হচ্ছে মাত্র ৮ কোটি ঘনফুট এবং ১৪০ পিএসআই চাপের বিপরীতে থাকছে ১২০ পিএসআইয়েরও কম।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে আসন্ন নভেম্বর মাসের জ্বালানি আমদানির নীতিগত সিদ্ধান্তের কারণে। তিতাস গ্যাস বিতরণ অঞ্চলের ভেতরে মোট প্রায় সাড়ে চার হাজার শিল্পকারখানা নিবন্ধিত রয়েছে। অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারকেরা সতর্ক করে বলছেন, এই শিল্পগুলো যাতে ন্যূনতম সক্ষমতায় উৎপাদন চালিয়ে বেঁচে থাকতে পারে, তার জন্য সরকারের অবিলম্বে একটি সুনির্দিষ্ট ও সমন্বিত জাতীয় আপদকালীন পরিকল্পনা থাকা অপরিহার্য। এটি নিশ্চিত করা না গেলে আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে শত শত কারখানা চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে, যার ফলে লাখ লাখ শ্রমিক চাকরি হারিয়ে রাজপথে নামবে এবং দেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাকের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। কিন্তু সরকারি অর্থ বিভাগ সম্প্রতি গ্যাসে প্রদত্ত আর্থিক ভর্তুকি কমিয়ে দেওয়ায় নভেম্বর মাসে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজির আমদানি ১০টি কার্গোর পরিবর্তে কমিয়ে ৯টি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে আগামী মাসে সামগ্রিক গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ দৈনিক আরও প্রায় ১০ কোটি ঘনফুট হ্রাস পাবে।
পেট্রোবাংলার প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, আগামী অক্টোবর, নভেম্বর ও ডিসেম্বরে শিল্প ও ক্যাপটিভ খাতে যথাক্রমে ১০৭ কোটি ১০ লাখ, ১১২ কোটি ৬০ লাখ এবং ১১৪ কোটি ৩০ লাখ ঘনফুট গ্যাস বরাদ্দের লক্ষ্য ধরা হয়েছে। তবে গ্যাস খাতের প্রকৌশলী ও বিতরণকারী সংস্থাগুলোর মতে, বাস্তবে শিল্প খাতের গ্রাহকেরা এই প্রতিশ্রুত বরাদ্দের চেয়ে কমপক্ষে ১২ থেকে ১৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস কম পাবেন। কারণ বিদ্যুৎ ও সারের নির্ধারিত গ্যাস সরবরাহ শতভাগ নিশ্চিত করার পর জাতীয় পাইপলাইনের ১৫ থেকে ২০ কোটি ঘনফুটের যে বিপুল সিস্টেম লস বা অবচয় ঘটে, তার প্রায় সম্পূর্ণ ঘাটতিই সমন্বয় করা হয় বেসরকারি শিল্প খাত থেকে গ্যাস কেটে নিয়ে। ফলে কাগজে-কলমে বরাদ্দের হিসাব যাই দেখানো হোক না কেন, বাস্তবে তিতাস অঞ্চলের শিল্পকারখানাগুলোর জন্য কোনো কার্যকর সুরাহা মিলছে না। নিজস্ব কাঁচামাল ও উৎপাদন টিকিয়ে রাখতে সরকারের নীতিনির্ধারকদের এখনই বাস্তবমুখী অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা না হলে দেশের শিল্প খাত এক দীর্ঘস্থায়ী ও অপরিবর্তনীয় অন্ধকারের দিকে ধাবিত হবে।
তথ্যসূত্র: যুগান্তর