শিরোনামঃ
বেসরকারি খাতে ঋণের খরা: কেবল পদক্ষেপে নয়, প্রয়োজন আস্থার সংকট দূরীকরণ ব্যথামুক্ত জীবন ডেপুটি স্পিকারের সঙ্গে চার্চ অব ইংল্যান্ডের ফরেন পলিসি এ্যাডভাইজারের সাক্ষাৎ কোটালীপাড়ার প্রবীণ শামসুল হকের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা, প্রযুক্তিসহ বহুমুখী সহযোগিতা বাংলাদেশ-চীন বন্ধুত্ব আরও সুদৃঢ় হবে: শিক্ষামন্ত্রী বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সহযোগিতা নিয়ে বাংলাদেশ-চীনের আলোচনা অর্থনৈতিক ও অবকাঠামো সহযোগিতায় বাংলাদেশ-চীনের সমঝোতা স্মারক সই মোংলা থেকে উত্তরাঞ্চল পর্যন্ত জ্বালানি অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে : প্রধানমন্ত্রী হযরত খান জাহান আলী (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশকে এআই প্রয়োগ ও উদ্ভাবনে সক্ষম একটি দেশে পরিণত করতে হবে : রাষ্ট্রপতি
বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:২৪ অপরাহ্ন

তেহরানের রাজপথে ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর প্রতিকৃতি পুড়িয়ে উল্লাস

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৫ বার
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সদ্য সমাপ্ত মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন রিপাবলিকান পার্টির বিপর্যয়কর পরাজয়কে কেন্দ্র করে ইরানের রাজধানী তেহরানে তীব্র আনন্দ ও উল্লাস প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে চলা ভূরাজনৈতিক সংঘাত এবং ওয়াশিংটনের আগ্রাসী নীতির বিরুদ্ধে এটিকে নিজেদের একটি বড় রাজনৈতিক বিজয় হিসেবে দেখছে তেহরান। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এই নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর ইরানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে তীব্র আমেরিকা ও ইসরায়েলবিরোধী বিক্ষোভ প্রদর্শিত হয়েছে।

তেহরানের ঐতিহাসিক এনহেলাব স্কয়ার (Enghelab Square) এবং তাজরিশ স্কয়ারসহ (Tajrish Square) শহরের বিভিন্ন জনবহুল এলাকায় হাজার হাজার বিক্ষুব্ধ জনতা সমবেত হন। মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টির কাছে রিপাবলিকানদের এই শোচনীয় পরাজয় এবং মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে মার্কিন নীতির ব্যর্থতাকে উদ্‌যাপন করতে তারা রাজপথে নেমে আসেন। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ছবিসংবলিত বিশাল আকৃতির ব্যানার ও ফেস্টুনে প্রকাশ্যে আগুন ধরিয়ে দেন।

বিক্ষোভের অংশ হিসেবে তেহরানের রাজপথে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি প্রতীকী ফাঁসিও মঞ্চস্থ করা হয়। জনাকীর্ণ এসব স্কয়ারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জাতীয় পতাকা পুড়িয়ে দেওয়া হয় এবং স্লোগানের মাধ্যমে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের যুদ্ধনীতির প্রতি তীব্র ঘৃণা প্রকাশ করা হয়। ইরানি নীতিনির্ধারক ও সাধারণ নাগরিকদের মতে, মার্কিন ভোটাররা মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোট দেওয়ার মাধ্যমে মূলত মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের বিরুদ্ধে তাদের স্পষ্ট অবস্থান বা ‘না’ সূচক রায় দিয়েছেন।

ইরানের বিচার বিভাগের প্রধান গোলামহোসেইন মোহসেনি-ইজেই এই নির্বাচনী ফলাফলকে স্বাগত জানিয়ে মন্তব্য করেছেন যে ট্রাম্প সামরিক ও রাজনৈতিক উভয় ময়দানেই শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়েছেন। তাছাড়া ইরানের সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কলিবাফও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় উল্লেখ করেছেন যে মার্কিন জনগণ যুদ্ধের বিপক্ষে তাদের রায় প্রকাশ করেছে এবং তেহরান এই বার্তাটিকে পূর্ণ সমর্থন জানায়।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের এই অপ্রত্যাশিত ফলাফল ওয়াশিংটন ও তেহরানের দীর্ঘদিনের বৈরী সম্পর্কে তাৎক্ষণিক বড় কোনো পরিবর্তন না আনলেও, এটি ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যপ্রাচ্য নীতিকে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিকভাবে চরম কোণঠাসা করে তুলেছে। মার্কিন ভূরাজনীতিতে এই বড় ধাক্কার ফলে হোয়াইট হাউসের ওপর অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


এ জাতীয় আরো খবর...