ঝিনাইদহে তেল নেওয়াকে কেন্দ্র করে পাম্পকর্মীদের পিটুনিতে নিরব আহমেদ (২৫) নামে এক যুবক নিহতের ঘটনায় পুরো শহরজুড়ে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। শনিবার (৭ মার্চ) রাতের এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ জনতা শহরের একাধিক বাস ও ফিলিং স্টেশনে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর চালিয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকার ‘তাজ ফিলিং স্টেশনে’ তেল নিতে আসেন কালীগঞ্জ উপজেলার বারোবাজার গ্রামের আলিমুর বিশ্বাসের ছেলে নিরব। বোতলে তেল কেনাকে কেন্দ্র করে পাম্পকর্মীদের সাথে তার কথা কাটাকাটি হয়। কিছুক্ষণ পর নিরব পুনরায় পাম্পে ফিরে এলে দেখেন অন্য একজনকে বোতলে তেল দেওয়া হচ্ছে। এর প্রতিবাদ করায় পাম্পের কর্মীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে তাকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
শহরে সহিংসতা ও অগ্নিসংযোগ
যুবক নিহতের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। রাত ১টার দিকে শহরের আরাপপুর এলাকায় অবস্থিত ‘সৃজনী ফিলিং স্টেশনে’ ভাঙচুর চালানো হয়। এরপর রাত ৩টার দিকে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে পার্কিং করা তিনটি বাসে দুর্বৃত্তরা অগ্নিসংযোগ করে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আধা ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি
ঘটনার পরপরই র্যাব ও পুলিশের একাধিক টিম অভিযান চালিয়ে তাজ ফিলিং স্টেশনের তিন কর্মীকে আটক করেছে। ঝিনাইদহ সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহফুজ হোসেন জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে টার্মিনাল ও বিভিন্ন পাম্পে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
নিহতের খালাতো ভাই সোহেল হোসেন অভিযোগ করেন, “আমার ভাই অত্যন্ত সাধারণ মানুষ ছিল। সামান্য কথা কাটাকাটির জেরে সন্ত্রাসী কায়দায় তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।”
পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করার কাজ চলছে। এ ঘটনায় এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
| ঘটনার বিবরণ | সময় ও স্থান |
|---|---|
| হত্যাকাণ্ড | সন্ধ্যা ৭:৩০, তাজ ফিলিং স্টেশন। |
| ভাঙচুর | রাত ১:০০, সৃজনী ফিলিং স্টেশন। |
| অগ্নিসংযোগ | রাত ৩:০০, কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল (৩টি বাস)। |
| গ্রেপ্তার | পাম্পের ৩ কর্মচারী। |