দেশের পুঁজিবাজারে আজ এক প্রলয়ংকরী ধস নেমেছে। সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসেই ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ২৩১.৮৩ পয়েন্ট হারিয়ে ৫ হাজার ৮.৯৯ পয়েন্টে অবস্থান করছে। গত কয়েক বছরের মধ্যে এক দিনে সূচকের এমন বড় পতন বিনিয়োগকারী মহলে চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আজকের এই রেকর্ড পতনের পেছনে মূলত দুটি বিষয় কাজ করেছে: ১. বিএসইসি প্রশাসনে অস্থিরতা: পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের পরিবর্তন এবং প্রাক্তন সিনিয়র সচিব ড. মো. ফরিদুল ইসলামকে নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগের গুঞ্জন। এই পরিবর্তন নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারিতে বিলম্ব হওয়ায় বাজারে এক ধরনের প্রশাসনিক শূন্যতা ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ২. ইরান যুদ্ধ ও বৈশ্বিক আতঙ্ক: মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং এর ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাবের আশঙ্কা বিনিয়োগকারীদের মানসিকভাবে দুর্বল করে দিয়েছে।
আজ ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ৩৯০টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে মাত্র ১০টির শেয়ারদর বেড়েছে। বিপরীতে ৩৭১টি প্রতিষ্ঠানের দর কমেছে এবং ৯টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশের পুঁজিবাজার অনেকটা ‘লজ্জাবতী গাছের’ মতো, যা সামান্য অনিশ্চয়তা বা গুজব পেলেই দ্রুত নেতিয়ে পড়ে। আজকের পতন সেই ভঙ্গুর মানসিকতারই প্রতিফলন।
টানা সূচক পতন এবং লেনদেন কমে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা। গত দেড় বছর ধরে বর্তমান কমিশনের কার্যক্রম নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ছিল। অনেকের মতে, কার্যকর তদারকি ও আস্থার অভাব বাজারকে এই খাদের কিনারে নিয়ে এসেছে। ২০১০ সালের ধসের স্মৃতি মনে করে অনেক বিনিয়োগকারী এখন তাদের সঞ্চিত অর্থ হারানোর ভয়ে আতঙ্কিত।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, পুঁজিবাজারে সিদ্ধান্তহীনতার কোনো জায়গা নেই। সরকার যদি দ্রুত নতুন নেতৃত্বের বিষয়ে স্পষ্ট প্রজ্ঞাপন জারি করে এবং বাজারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতে কঠোর পদক্ষেপ নেয়, তবেই বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরে আসতে পারে। এখন সবার দৃষ্টি অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের দিকে, যা নির্ধারণ করবে আগামী দিনের বাজারের গতিপথ।