শিরোনামঃ
ঈদে ৫ দিন বন্ধ থাকবে সংবাদপত্র ফুটওভার ব্রিজ এখন হকারদের দখলে ইফতারের পর ঘুম কাটানোর উপায় মিরপুরের অগ্নিকাণ্ডে বিমানবাহিনীর দুই সদস্যের প্রাণহানি সরকারি ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপদের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক এক নজরে কী কী থাকছে ‘ফ্যামিলি কার্ডে’? জনগণের কাছে জবাবদিহিতে আমরা বাধ্য, প্রতিশ্রুতি থেকে সরবো না: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান লঙ্কান ক্রিকেটে ‘কার্স্টেন’ যুগ শুরু: ২০২৭ বিশ্বকাপই মূল লক্ষ্য কোটি টাকা ঘুষ কেলেঙ্কারিতে প্রসিকিউটরের পদত্যাগ: ট্রাইব্যুনালের অতীত কার্যক্রম যাচাইয়ের ঘোষণা সায়দাবাদে অবৈধ কাউন্টার উচ্ছেদ: ঈদযাত্রায় স্বস্তি ফেরাতে ডিএসসিসির কঠোর হুঁশিয়ারি
মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ০৫:২৫ অপরাহ্ন

জামায়াতের দ্বিমুখী কৌশলে কোণঠাসা বিএনপি সরকার!

নিজস্ব প্রতিবেদক / ২৫ বার
প্রকাশ: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের উত্তাপ কাটতে না কাটতেই নতুন এক রাজনৈতিক মেরুকরণের সাক্ষী হচ্ছে বাংলাদেশ। তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত নতুন সরকারের বয়স দুই সপ্তাহ পেরোনোর আগেই বিরোধী দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর কৌশলগত অবস্থান দেশের রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াত কেবল রাজপথের আন্দোলনে সীমাবদ্ধ না থেকে সংসদ ও রাজপথের সমন্বয়ে এক ‘ডুয়াল স্ট্র্যাটেজি’ বা দ্বিমুখী কৌশল নিয়ে এগোচ্ছে, যা সরকারের জন্য আগাম সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সংসদ ও রাজপথের ‘ডুয়াল স্ট্র্যাটেজি’

গত শুক্রবার সিলেট ও ময়মনসিংহে আয়োজিত দুটি ভিন্ন সভায় জামায়াতের শীর্ষ নেতারা যে বক্তব্য রেখেছেন, তা তাদের ভবিষ্যতের রাজনৈতিক নকশার প্রতিফলন। দলটির আমির যেখানে জনসভায় ‘আপনারা হারেননি, আপনাদের হারানো হয়েছে’ বলে মন্তব্য করেছেন, অন্যদিকে সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরোয়ার অভিযোগ করেছেন ভোটের ফলাফল ঘোষণায় ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ বা কারচুপির।

বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের কারচুপির অভিযোগ তুলে আবার সেই সংসদেই যোগ দেওয়া জামায়াতের এক সুপরিকল্পিত দীর্ঘমেয়াদী কৌশল। তারা এখন আর কেবল রাজপথ দখলের পুরনো সমীকরণে বিশ্বাসী নয়। তাদের নতুন যুদ্ধক্ষেত্র এখন সংসদ, আন্তর্জাতিক মিডিয়া এবং কূটনৈতিক মহলের সমর্থন আদায়।

জামায়াতের ‘চেকমেট’ কৌশলের চার ধাপ

জামায়াতের এই কৌশলী অবস্থানের পেছনে চারটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য দেখছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা:

১. ভোটার ও কর্মী সংহতি: ‘আমরা হারিনি, আমাদের হারানো হয়েছে’—এই বয়ানটি তৈরি করে দলের তৃণমূল পর্যায়ের কর্মী ও ভোটারদের মনোবল ধরে রাখা। ২. নৈতিক কোণঠাসা: সরকারের বৈধতা নিয়ে দেশি-বিদেশি মহলে প্রশ্ন তুলে বর্তমান প্রশাসনকে শুরু থেকেই নৈতিক চাপে রাখা। ৩. বার্গেনিং চিপ: ভবিষ্যতে যেকোনো সংলাপ, সংস্কার বা নতুন নির্বাচনের আলোচনায় কারচুপির অভিযোগকে একটি শক্তিশালী ‘দরকষাকষির অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহার করা। ৪. সরকারকে অস্বস্তিতে রাখা: নতুন সরকার যেন কখনোই স্বস্তিতে থাকতে না পারে, সে জন্য শুরু থেকেই তারেক রহমানের প্রশাসনের প্রতিটি পদক্ষেপকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে ত্রুটি বের করা।

তারেক রহমানের সরকার কেন নিশানায়?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত এই সরকারের শক্তিশালী ম্যান্ডেট ও আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতাকে শুরুতেই দুর্বল করা জামায়াতের প্রধান লক্ষ্য। ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ বা কারচুপির অভিযোগটি নিয়মিত উচ্চারণ করার মাধ্যমে তারা সরকারবিরোধী জনমতকে উত্তপ্ত রাখতে চাইছে।

ঠান্ডা মাথার ‘পাওয়ার গেম’

আজকের রাজনীতি কেবল স্লোগান বা ইমোশনাল পলিটিক্স নয়, এটি একটি ঠান্ডা মাথার দীর্ঘমেয়াদী ‘পাওয়ার গেম’। রাজপথের চাপ এবং সংসদীয় বিরোধিতার এই সমন্বয় জামায়াতকে এক ভিন্ন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। প্রশাসনের সক্রিয়তা এবং কঠোর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কারণে সরাসরি সংঘাত এড়িয়ে জামায়াত এখন কৌশলী বিরোধিতায় মনযোগী।

তারেক রহমানের সরকার কি পারবে এই ‘রাজনৈতিক ককটেল’ সামলে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে? প্রতিটি ভুল সিদ্ধান্তই এখন বিরোধীদের জন্য বড় হাতিয়ার হয়ে ওঠার ঝুঁকিতে রয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি কেবল ক্ষমতার লড়াই নয়, বরং এক জটিল স্ট্র্যাটেজিক চ্যালেঞ্জ, যার প্রতিটি পদক্ষেপই আগামী পাঁচ বছরের রাজনীতির গতিপথ নির্ধারণ করবে।


এ জাতীয় আরো খবর...