১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ কালরাতের সেই নারকীয় গণহত্যার শহীদদের স্মরণে এবার সারাদেশে এক মিনিটের প্রতীকী ব্ল্যাকআউট পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আগামী ২৫শে মার্চ রাত ১০টা থেকে ১০টা ১ মিনিট পর্যন্ত এই কর্মসূচি পালিত হবে।
গতকাল রবিবার (৮ মার্চ) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ২৫শে মার্চ গণহত্যা দিবস এবং ২৬শে মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস মর্যাদাপূর্ণভাবে উদযাপনের লক্ষ্যে এই সভায় বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে।
প্রতীকী ব্ল্যাকআউট: ২৫শে মার্চ রাত ১০টা থেকে ১০টা ১ মিনিট পর্যন্ত সারাদেশে এক মিনিটের জন্য সকল আলোকসজ্জা বন্ধ রাখা হবে। তবে জরুরি স্থাপনা বা কেপিআই (KPI) ভুক্ত এলাকাগুলো এই কর্মসূচির আওতামুক্ত থাকবে।
আলোকসজ্জায় নিষেধাজ্ঞা: ২৫শে মার্চ রাতে এবং ২৬শে মার্চ স্বাধীনতা দিবসেও শোকাবহ পরিবেশ বজায় রাখতে কোনো ধরনের আলোকসজ্জা না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সচেতনতা: দেশের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা) বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে আলোচনা সভা ও স্মৃতিচারণমূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে, যেখানে ২৫শে মার্চের গণহত্যার সঠিক ইতিহাস তুলে ধরা হবে।
প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী: দুপুর ১২টা থেকে দেশের সব সিটি করপোরেশন এলাকায় গণহত্যার তথ্যভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র ও দুর্লভ আলোকচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে।
বিশেষ প্রার্থনা: শহীদদের আত্মার শান্তি কামনায় বাদ জোহর বা সুবিধাজনক সময়ে দেশের সব মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও অন্যান্য উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা ও মোনাজাতের আয়োজন করবে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
দিবসগুলো যাতে সুশৃঙ্খলভাবে এবং যথাযথ ভাবগাম্ভীর্যের সাথে পালিত হয়, তা নিশ্চিত করতে বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশ কমিশনার, ডিআইজি এবং জেলা প্রশাসকদের বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সরকার এই দুই গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় দিবসকে ঘিরে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
সরকারের এই সমন্বিত উদ্যোগ ১৯৭১ সালের সেই কালো রাতে শহীদ হওয়া অগণিত মানুষের আত্মত্যাগের প্রতি জাতির বিনম্র শ্রদ্ধার এক প্রতীকী বহিঃপ্রকাশ হিসেবে পালিত হবে।