দক্ষিণ লেবাননের একটি আবাসিক এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনী ‘অবৈধভাবে’ সাদা ফসফরাস ব্যবহার করেছে বলে অভিযোগ তুলেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (HRW)। সোমবার (৯ মার্চ) সংস্থাটি তাদের প্রতিবেদনে এই গুরুতর অভিযোগটি উত্থাপন করে।
সংস্থাটির প্রতিবেদন অনুযায়ী:
ঘটনার সময় ও স্থান: গত মঙ্গলবার (৩ মার্চ) দক্ষিণ লেবাননের ইয়হমর (Yohmor) শহরের আবাসিক এলাকায় এই গোলাবর্ষণ করা হয়।
প্রমাণ: হিউম্যান রাইটস ওয়াচ সাতটি ছবি যাচাই ও জিওলোকেশন (Geolocation) নিশ্চিত করেছে। ছবিগুলোতে দেখা যায়, শহরের আবাসিক এলাকার ওপর আকাশে সাদা ফসফরাসের গোলা বিস্ফোরিত হচ্ছে। এছাড়া সিভিল ডিফেন্স কর্মীদের ওই এলাকায় অন্তত দুটি বাড়ি ও একটি গাড়িতে লাগা আগুন নেভানোর চেষ্টা করতে দেখা গেছে।
সাদা ফসফরাস একটি অত্যন্ত দাহ্য রাসায়নিক পদার্থ, যা বাতাসের অক্সিজেনের সংস্পর্শে এলে সঙ্গে সঙ্গে জ্বলতে শুরু করে। এটি ৮১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপ উৎপাদন করতে পারে।
মানবিক ঝুঁকি: এটি মানবদেহের হাড় পর্যন্ত পুড়িয়ে ফেলতে সক্ষম। এছাড়া শ্বাসতন্ত্রের ক্ষতি, অঙ্গ বিকল হওয়া এবং দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
আন্তর্জাতিক আইন: আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুযায়ী, ঘনবসতিপূর্ণ বেসামরিক এলাকায় অগ্নিসংযোগকারী অস্ত্র হিসেবে সাদা ফসফরাসের ব্যবহার নিষিদ্ধ। এটি বেসামরিক নাগরিকদের জন্য চরম ঝুঁকি তৈরি করে।
লেবানন কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, গত এক সপ্তাহের এই ভয়াবহ সংঘাতে দেশটিতে অন্তত ৩৯৪ জন নিহত হয়েছেন এবং পাঁচ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। আন্তর্জাতিক মহলে এই সংঘাত নিয়ে গভীর উদ্বেগ বাড়ছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ অবিলম্বে ইসরায়েলি বাহিনীকে আবাসিক এলাকায় এই নিষিদ্ধ অস্ত্রের ব্যবহার বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি যে দেশগুলো ইসরায়েলকে অস্ত্র সহায়তা দিচ্ছে, তাদের অবিলম্বে সামরিক সহায়তা স্থগিত করার দাবিও জানিয়েছে সংস্থাটি।
ইসরায়েলি বাহিনীর পক্ষ থেকে এই অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। অতীতে তারা দাবি করেছে, তারা সাদা ফসফরাস কেবল ‘স্মোক স্ক্রিন’ বা ধোঁয়ার পর্দা তৈরি করার জন্য ব্যবহার করে, বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে নয়। তবে মানবাধিকার সংস্থাগুলো বারবার এই দাবির বিপরীতে প্রমাণ উপস্থাপন করে আসছে।