মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতময় পরিস্থিতি এক নতুন ও ভয়াবহ মোড় নিয়েছে। ইরানের নজিরবিহীন ব্যালিস্টিক ও হাইপারসোনিক মিসাইল হামলায় ইসরায়েলের বিভিন্ন সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। তেল আবিব থেকে হাইফা পর্যন্ত শহরগুলোতে অবিরাম বেজে চলেছে সতর্কতামূলক সাইরেন। আকস্মিক এই হামলায় প্রাণ বাঁচাতে সাধারণ ইসরায়েলি নাগরিকদের অন্ধকার ও মাটির নিচের বাংকারে আশ্রয় নিতে হচ্ছে। হামলায় বহু ভবন ও সামরিক ঘাঁটি ধসে পড়ার পাশাপাশি ধ্বংসস্তূপ থেকে হতাহতদের উদ্ধারের খবর পাওয়া যাচ্ছে, যা ইসরায়েলি জনমনে তীব্র আতঙ্ক ও মরণভয়ের সৃষ্টি করেছে।
বিভিন্ন সামরিক বিশ্লেষকের মতে, ইসরায়েলের বহুল আলোচিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘আয়রন ডোম’ ও ‘ডেভিডস স্লিং’ এই সমন্বিত ও অত্যাধুনিক হামলার মুখে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। খবরে দাবি করা হয়েছে, কাতারে অবস্থিত মার্কিন আর্লি ওয়ার্নিং রাডার ধ্বংস হয়ে যাওয়ার কারণে আগাম তথ্য পেতে ব্যর্থ হওয়ায় ইরানের ফাত্তাহ ও খাইবার শেকানের মতো হাইপারসোনিক মিসাইলগুলো সরাসরি ইসরায়েলের প্রাণকেন্দ্রে আঘাত হানতে সক্ষম হচ্ছে। এর ফলে ইসরায়েল আজ তার ইতিহাসের অন্যতম বড় নিরাপত্তা ও অস্তিত্ব সংকটের মুখে এসে দাঁড়িয়েছে।
সার্বিক এই বিপর্যয়ের মুখে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মাটির গভীরের অত্যন্ত সুরক্ষিত বাংকারে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানা গেছে। নিরাপদ সেই বাংকার থেকেই এক ভিডিও বার্তায় তিনি ইরানকে কড়া ভাষায় হুমকি দিয়েছেন। তবে এই চরম বিপদের মুহূর্তে প্রধান মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ ইসরায়েলি নাগরিকদের হতাশা আরও বাড়িয়েছে। সৌদি আরবে মার্কিন দূতাবাসের নন-ইমার্জেন্সি কর্মীদের দেশে ফেরার নির্দেশ এবং বিভিন্ন ঘাঁটি থেকে সেনা পুনর্বিন্যাসের খবরে স্পষ্ট হচ্ছে যে, পরিস্থিতি কতটা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। এই ধ্বংসলীলা এবং সংঘাত পুরো মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।