ফেসবুকে ইচ্ছা প্রকাশ করে সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছিলেন জনপ্রিয় চলচ্চিত্র নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। একজন সৃজনশীল মানুষ হিসেবে তার কাছে দেশের সাধারণ মানুষের প্রত্যাশাও ছিল আকাশচুম্বী। কিন্তু দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের পাহাড়সম অভিযোগ উঠতে শুরু করে। গত ১০ নভেম্বর থেকে শুরু করে ৪৬৪ দিনের দায়িত্ব পালনের পুরোটা সময় জুড়েই তিনি নানা বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন।
তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর পরিধি বেশ বিস্তৃত। বিশেষ করে জুলাই জাদুঘর প্রতিষ্ঠায় তার ক্ষমতার অপব্যবহারের বিষয়টি ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়েছে। এর পাশাপাশি বাংলা একাডেমি, শিল্পকলা একাডেমি এবং জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমে তার হস্তক্ষেপ নিয়ে তীব্র প্রশ্ন উঠেছে। এমনকি বইমেলা আয়োজন, সরকারি অনুদান বণ্টন এবং বিভিন্ন পুরস্কার ও পদক দেওয়ার ক্ষেত্রেও ফারুকীর বিরুদ্ধে চরম অনিয়ম ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ রয়েছে।
ফারুকীকে ঘিরে প্রথম বড় ধরনের বিতর্কের সূত্রপাত হয় গত জানুয়ারিতে, বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারের তালিকা ঘোষণার পর। এই পুরস্কার নিয়ে চরম বিতর্কের জেরে বাংলা একাডেমির জুরি বোর্ডের দুই সম্মানীয় সদস্য সাজ্জাদ শরীফ এবং মোরশেদ শফিউল হাসান পদত্যাগ করেন। নিজেদের পদত্যাগপত্রে সাজ্জাদ শরীফ প্রতিষ্ঠানটির মর্যাদা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হওয়ার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছিলেন। পরবর্তীতে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ফারুকী নিজেই এক সংবাদ সম্মেলনে এসে স্বীকার করতে বাধ্য হন যে, বাংলা একাডেমির পুরস্কার নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম ছিল এবং প্রতিষ্ঠানটি একটি নির্দিষ্ট মতাদর্শ ও গোষ্ঠীর প্রভাব বলয়ে পরিণত হয়েছিল।