বর্তমান সংসদকে গতানুগতিক কোনো সংসদ নয়, বরং ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার বিপ্লবের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা এক ‘বিশেষ সংসদ’ বলে অভিহিত করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) জাতীয় সংসদে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
বক্তব্যের শুরুতে ডা. শফিকুর রহমান ১৯৪৭ থেকে শুরু করে ৫২, ৭১, ৭৫, ৯০ এবং বিশেষ করে ২০২৪-এর জুলাই বিপ্লবের শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, “আমি গভীর কৃতজ্ঞতা জানাই সেইসব বীরদের প্রতি, যারা গত সাড়ে ১৫ বছর আয়নাঘরে বন্দি ছিলেন, নির্যাতিত হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন এবং ২৪-এর জুলাইয়ে অকাতরে জীবন দিয়ে আমাদের এই সংসদে কথা বলার সুযোগ করে দিয়েছেন। তাদের এই ত্যাগের কাছে আমরা চিরঋণী।”
স্পিকারের উদ্দেশে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, বিগত ৫৫ বছরে সংসদীয় রাজনীতি খুব কম সময়ই কার্যকর ছিল। অধিকাংশ সময় সংসদ ছিল কেবলই একটি ‘ডামি’ প্রতিষ্ঠান। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, নতুন স্পিকার দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সরকারি ও বিরোধী দলের প্রতি সমান ‘ইনসাফ’ বা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবেন।
সংসদকে কোনো ব্যক্তির চরিত্র হননের কেন্দ্রে পরিণত না করার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, “অতীতে আমরা দেখেছি জনগণের কল্যাণের চেয়ে মানুষের চরিত্র হননে বেশি সময় ব্যয় করা হয়েছে। এই সংসদ যেন কারো অপমানের কেন্দ্রে পরিণত না হয়; এটি যেন কেবল জনকল্যাণে পরিচালিত হয়।”
জুলাই বিপ্লবের মূল মন্ত্র ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’-এর কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, রাষ্ট্রের প্রধান অঙ্গ হিসেবে সংসদ যখন সঠিকভাবে চলবে, তখন নির্বাহী ও বিচার বিভাগও সঠিকভাবে কাজ করবে। ১৮ কোটি মানুষের প্রত্যাশা—এই সংসদের মাধ্যমেই সমাজ থেকে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সব দুর্নীতির অবসান ঘটবে।
বক্তব্য শেষে তিনি স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে অভিনন্দন জানান এবং সংসদের সকল গঠনমূলক কাজে পূর্ণ সমর্থনের আশ্বাস প্রদান করেন।