দেশের ক্রীড়া ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক স্থাপিত হলো। প্রথমবারের মতো সরকারি পর্যায়ে জাতীয় ক্রীড়াবিদদের জন্য সম্মানজনক মাসিক বেতন কাঠামো চালু করেছে সরকার। আজ সোমবার (৩০ মার্চ) সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে নিজ কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ‘ক্রীড়া কার্ড’ প্রদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
‘ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা’
জাতীয় ক্রীড়াবিদদের ক্রীড়া ভাতা প্রদান কার্যক্রমের এবারের সময়োপযোগী প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, ‘ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা’। বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী, প্রথম পর্যায়ে ২০টি ডিসিপ্লিনের ১২৯ জন অসামান্য ক্রীড়াবিদকে এই ক্রীড়া কার্ড দেওয়া হচ্ছে। এই কার্ডের মাধ্যমে তাঁরা প্রত্যেকে প্রতি মাসে এক লাখ টাকা করে সরকারি ভাতা পাবেন। সরকারের মূল লক্ষ্য হলো আগামী এপ্রিল থেকে পর্যায়ক্রমে দেশের ৫০০ জন প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদকে এই শক্তিশালী বেতন কাঠামোর আওতায় নিয়ে আসা। তবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আর্থিকভাবে স্বনির্ভর হওয়ায় ক্রিকেটারদের আপাতত এই তালিকার বাইরে রাখা হয়েছে।
এক ক্লিকেই অ্যাকাউন্টে লাখ টাকা ও সম্মাননা
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এক অভাবনীয় ডিজিটাল চমক দেখা যায়। প্রধানমন্ত্রী ল্যাপটপে বাটন প্রেস করার সঙ্গে সঙ্গেই সোনালী ব্যাংকের অনলাইন সিস্টেমের মাধ্যমে প্রথম পর্যায়ে নির্বাচিত ক্রীড়াবিদদের মোবাইল ফোনে এক লাখ টাকা করে পৌঁছে যায়। অনুষ্ঠানে সাফ ফুটসালজয়ী নারী দল, কাবাডি ও ভলিবলসহ বিভিন্ন খেলার ১২৯ জন ক্রীড়াবিদের হাতে সরাসরি ক্রীড়া কার্ড তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের মুখ উজ্জ্বল করা ক্রীড়াবিদদের বিশেষ সম্মাননাও প্রদান করা হয়।
পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে মূল্যায়ন ও নতুন প্রতিভা অন্বেষণ
এই বিশাল আর্থিক সুবিধার পাশাপাশি জবাবদিহিতার একটি চমৎকার শর্তও জুড়ে দেওয়া হয়েছে। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানান, যেসব ক্রীড়াবিদ বেতনের আওতায় আসবেন, প্রতি চার মাস পরপর তাদের পারফরম্যান্স কঠোরভাবে মূল্যায়ন করা হবে। পারফরম্যান্স ধরে রাখতে পারলেই কেবল তারা এই সুবিধা অব্যাহত রাখতে পারবেন, পারফরম্যান্সে ঘাটতি দেখা দিলে তালিকা থেকে বাদ পড়বেন। এছাড়া, তৃণমূল থেকে মেধাবী খেলোয়াড় তুলে আনতে আগামী ৩০ এপ্রিল সিলেট থেকে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ নামের একটি দেশব্যাপী ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণ কার্যক্রম শুরু করার ঘোষণাও দেন প্রধানমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানের অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা
সকালে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও অন্যান্য ধর্মগ্রন্থ পাঠের মাধ্যমে বর্ণাঢ্য এই অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর ক্রীড়া বিষয়ক একটি বিশেষ ভিডিও ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়। সেখানে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও আরাফাত রহমান কোকোর অবদান এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার চিত্র তুলে ধরা হয়। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মঞ্চে এলজিআরডি মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেনসহ সরকারের অন্যান্য শীর্ষ মন্ত্রী ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।