মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সামরিক উত্তেজনায় এবার সরাসরি নতুন মাত্রা যুক্ত হতে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের তীব্রতর হতে থাকা সংঘাতে হরমুজ প্রণালীকে বাধামুক্ত রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপে সরাসরি সহায়তা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর ইরানের সাম্প্রতিক লাগাতার হামলার পর নিজেদের নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক বাণিজ্যের স্বার্থে এমন কঠোর ও কৌশলগত অবস্থানে যাচ্ছে আরব দেশটি।
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের বরাতে আরব দেশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে জানানো হয়েছে, মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলার প্রতিশোধ হিসেবে ইরান যখন সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ অন্যান্য উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলোতে আক্রমণ চালানো শুরু করেছে, ঠিক তখনই এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তটি এলো। এতদিন পর্যন্ত আমিরাত এই সংঘাতে সরাসরি জড়ানো থেকে বিরত থেকে ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক কৌশল অবলম্বন করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু নিজেদের ভূখণ্ড ও কৌশলগত স্থাপনায় সরাসরি আঘাত আসার পর তারা আর নীরব থাকছে না।
এই নতুন সংঘাতের অন্যতম প্রধান কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে হরমুজ প্রণালী, যা বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধমনী হিসেবে পরিচিত। বিশ্বের মোট উৎপাদিত খনিজ তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই সরু জলপথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাঁড়াশি হামলার জবাবে ইরান যদি এই প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার পদক্ষেপ নেয়, তবে তা বিশ্বব্যাপী ভয়াবহ জ্বালানি সংকট ও অর্থনৈতিক ধস তৈরি করবে। এই জলপথের ওপর আরব আমিরাতের নিজস্ব অর্থনীতি এবং তেল রপ্তানিও ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। তাই হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ মুক্ত রাখতে এবং নৌ-চলাচল নিরাপদ করতে মার্কিন বাহিনীর যে কোনো উদ্যোগে আমিরাত তাদের নৌ ও লজিস্টিক সহায়তা প্রদান করবে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
সামরিক ও ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আরব আমিরাতের এই সরাসরি যোগদানের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও জটিল ও সুদূরপ্রসারী আকার ধারণ করবে। এর মাধ্যমে উপসাগরীয় অঞ্চলের আরব দেশগুলো নিজেদের সুরক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বলয়ে আরও গভীরভাবে যুক্ত হচ্ছে। ইরানের আগ্রাসন ঠেকাতে এবং হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে আমিরাত ও যুক্তরাষ্ট্রের এই যৌথ অবস্থান ইরানের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বলয় তৈরির সুস্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে।