যুদ্ধবিধ্বস্ত ও সংঘাতপূর্ণ মধ্যপ্রাচ্যে সংবাদ সংগ্রহের কাজে গিয়ে ইরাকের রাজধানী বাগদাদ থেকে চরম নিরাপত্তাহীনতার শিকার হয়ে অপহৃত হয়েছেন এক মার্কিন নারী সাংবাদিক। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, ইরান-সমর্থিত একটি ইরাকি সশস্ত্র গোষ্ঠী এই অপহরণের ঘটনার পেছনে জড়িত। এখন পর্যন্ত অপহৃত ওই সাংবাদিককে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, তারা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং তার দ্রুত ও নিরাপদ মুক্তি নিশ্চিত করতে সব ধরনের কূটনৈতিক ও নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এই ঘটনার রেশ ধরে মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডিলান জনসন সামাজিক মাধ্যম এক্সে এক বার্তায় জানিয়েছেন, ইরাকি কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়া গোষ্ঠী কাতাইব হিজবুল্লাহর সঙ্গে সম্পৃক্ত সন্দেহভাজন এক ব্যক্তিকে আটক করেছে, যাকে এই অপহরণের মূল হোতা বা সহযোগী বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, ইরাকের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মাধ্যমে ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করেছে। তারা জানিয়েছে, দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী সফল অভিযানের মাধ্যমে সন্দেহভাজনদের একজনকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি অপহরণের কাজে ব্যবহৃত গাড়িটিও জব্দ করতে সক্ষম হয়েছে। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে ইরাকি কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে অপরাধী বা ভুক্তভোগীর নাম প্রকাশ করা থেকে বিরত রয়েছে। যদিও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এবং তার কর্মক্ষেত্র থেকে অপহৃত ওই সাংবাদিককে শেলি কিটলসন হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। মূলত রোমের বাসিন্দা শেলি একজন দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক, যিনি পেশাগত কারণে প্রায়ই মধ্যপ্রাচ্যে ভ্রমণ করতেন। তিনি আল-মনিটর, ফরেন পলিসি, পলিটিকো এবং বিবিসির মতো স্বনামধন্য গণমাধ্যমে সিরিয়া ও ইরাকের পরিস্থিতি নিয়ে নিয়মিত গভীর ও বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন তৈরি করে আসছিলেন।