শিরোনামঃ
হরমুজ প্রণালি দিয়ে আটকে পড়া ৬ বাংলাদেশি জাহাজ পারাপারে ইরানের অনুমতি বসনিয়ার কাছে হেরে টানা তৃতীয়বার বিশ্বকাপের বাইরে ইতালি গান ছাড়লেন অলকা ইয়াগনিক জ্বালানি তেলের তীব্র হাহাকার: উপকূলে স্থবিরতা, কর্মহীন লাখো জেলে তিন প্রতিষ্ঠানে শীর্ষ পদ শূন্য: থমকে আছে নীতিগত সিদ্ধান্ত ও কর্মীদের বেতন বাগদাদে মার্কিন নারী সাংবাদিক অপহরণের শিকার: নেপথ্যে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী! ইলিয়াস আলী গুমের অজানা তথ্য প্রকাশ: রিমান্ডে সাবেক তিন সেনা কর্মকর্তার চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি এক-এগারোর নির্যাতন নিয়ে রিমান্ডে থাকা তিন সেনা কর্মকর্তার চাঞ্চল্যকর তথ্য ইউরোপীয় ইউনিয়নে ইসরায়েল বয়কটের ডাক স্পেনের হরমুজ প্রণালী সুরক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের পাশে দাঁড়াচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাত
বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৪৯ অপরাহ্ন

জ্বালানি তেলের তীব্র হাহাকার: উপকূলে স্থবিরতা, কর্মহীন লাখো জেলে

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৯ বার
প্রকাশ: বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার জেরে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তার এক ভয়াবহ ও প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের মৎস্য খাতে। তীব্র ডিজেল সংকটের কারণে দেশের উপকূলীয় অঞ্চল থেকে শুরু করে নদ-নদীর ঘাটে ঘাটে এখন সারি সারি নৌকা ও ট্রলার অলস পড়ে আছে। একদিকে পাম্পগুলোতে ‘তেল নেই’ সাইনবোর্ড, অন্যদিকে খোলাবাজারে আকাশছোঁয়া দাম—এই দুইয়ের যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে লাখো জেলে বর্তমানে সম্পূর্ণ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। ইঞ্জিনচালিত নৌযানগুলো নদীতে বা সাগরে নামতে না পারায় জেলে পরিবারগুলোতে নেমে এসেছে চরম অনিশ্চয়তা ও অনাহার।

মৎস্য খাতের পরিসংখ্যানগুলো এই সংকটের ভয়াবহতা স্পষ্ট করে তোলে। দেশে নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা প্রায় ১৮ লাখ হলেও বাস্তবে এই খাতের ওপর নির্ভরশীল মানুষের সংখ্যা ৫০ থেকে ৬০ লাখের বেশি। নদী ও সাগরে মাছ ধরার জন্য প্রতিদিন প্রায় ৫০ হাজার ছোট-বড় নৌকা ও ট্রলারের অন্তত ১৫ থেকে ২৫ লাখ লিটার ডিজেলের প্রয়োজন হয়। কিন্তু বর্তমানে খোলাবাজারে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১০০-১০৫ টাকা থেকে লাফিয়ে ১৫০-১৭০ টাকায় গিয়ে ঠেকেছে। এর ফলে ট্রলার পরিচালনার ব্যয় একধাক্কায় প্রায় ৭০ শতাংশ বেড়ে গেছে, যা সাধারণ জেলেদের পক্ষে বহন করা একেবারেই অসম্ভব। জ্বালানির এই আকালের কারণে এরই মধ্যে দেশজুড়ে মাছ আহরণের পরিমাণ ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে।

উপকূলীয় জেলাগুলোর চিত্র এখন চরম হতাশাজনক। শরীয়তপুরের নড়িয়া থেকে শুরু করে পটুয়াখালীর মহিপুর-আলীপুর, খুলনার কয়রা, সুন্দরবনের দুবলার চর কিংবা উত্তরের কুড়িগ্রামের চিলমারী—সব জায়গাতেই হাহাকার। শরীয়তপুরে যেখানে প্রতিদিন ৩০-৪০ হাজার লিটার তেলের চাহিদা, সেখানে মাত্র ১০ শতাংশ নৌযান কোনোমতে তেল জোগাড় করতে পারছে। অন্যদিকে, দেশের অন্যতম বৃহৎ মৎস্যবন্দর পটুয়াখালীর মহিপুর ও আলীপুরে প্রতিদিনের ৩০-৩৫ হাজার লিটার চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ মিলছে মাত্র চার-পাঁচ হাজার লিটার। ফলে বরফকল, আড়তদার, শ্রমিক ও পরিবহনকর্মীসহ পুরো মৎস্যভিত্তিক অর্থনীতি এখন স্থবির হয়ে পড়েছে। শত শত ট্রলার ঘাটে বাঁধা থাকায় অনেক আড়ত কার্যত বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

এই চরম দুর্দশার মধ্যেই জেলেদের জন্য আরেক অশনিসংকেত হয়ে আসছে আসন্ন নিষেধাজ্ঞা। এপ্রিলের মাঝামাঝি সময় থেকে সাগরে ৬৫ দিনের জন্য মাছ ধরার ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞা শুরু হতে যাচ্ছে। বছরে ইলিশ রক্ষা, জাটকা নিধন রোধ ও প্রজনন মৌসুম মিলিয়ে মোট ১৪৮ দিন মাছ ধরা বন্ধ থাকে। এর মধ্যে বর্তমান ডিজেল সংকটের কারণে ভরা মৌসুমেও মাছ ধরতে না পারায় জেলেদের টিকে থাকাই দায় হয়ে পড়েছে। দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ায় বরগুনার বদরখালী এবং কুড়িগ্রামের চিলমারীতে অনেক জেলে বাধ্য হয়ে কৃত্রিম সংকট ও কালোবাজারির প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন।

সার্বিক এই সংকটময় পরিস্থিতি নিয়ে মৎস্য অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক মো. জিয়া হায়দার চৌধুরী জানিয়েছেন যে, ঈদের পর হঠাৎ করেই নদীতীরবর্তী এলাকাগুলোতে জ্বালানির এই সংকট মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। মৎস্যজীবীদের এই দুরবস্থার বিষয়টি ইতিমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন। তবে দ্রুত এই জ্বালানি সংকটের সমাধান ও সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা না গেলে দেশের বিশাল সামুদ্রিক অর্থনীতি ও লাখো জেলের জীবন-জীবিকা সম্পূর্ণ ধ্বংসের মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।


এ জাতীয় আরো খবর...