এপ্রিল মাসের জন্য দেশের বাজারে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে বলে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। অন্যদিকে, তেলের পাম্পগুলোতে অনাকাঙ্ক্ষিত ভিড় ও বিশৃঙ্খলা এড়াতে সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত পাম্প খোলা রাখার দাবি জানিয়েছে মালিক সমিতি।
সরকারের ‘জ্বালানি তেলের স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ নির্দেশিকা’ অনুযায়ী, ১ এপ্রিল (২০২৬) থেকে ভোক্তা পর্যায়ে জ্বালানি তেলের দাম আগের মতোই বহাল থাকছে। বর্তমানে প্রতি লিটার ডিজেল ১০০ টাকা, কেরোসিন ১১২ টাকা, পেট্রোল ১১৬ টাকা এবং অকটেন ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, দেশে তেলের কোনো ধরনের সংকট নেই। ৩১ মার্চ পর্যন্ত দেশে মোট ১ লাখ ৯২ হাজার ৯১৯ টন জ্বালানি তেল মজুত রয়েছে। এর মধ্যে ডিজেল ১ লাখ ২৮ হাজার ৯৩৯ টন, পেট্রোল ১১ হাজার ৪৩১ টন, অকটেন ৭ হাজার ৯৪০ টন এবং জেট ফুয়েল রয়েছে ৪৪ হাজার ৬০৯ টন। নিয়মিত কার্গো খালাসের মাধ্যমে মজুতের এই পরিমাণ প্রতিনিয়ত আপডেট হচ্ছে। বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জি-টু-জি (G2G) চুক্তিতে কোনো সমস্যা হলে বিকল্প উৎস থেকে তেল সংগ্রহের প্রস্তুতিও সরকারের রয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
জ্বালানি তেলের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে এবং পাচার রোধে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। গত ৩ থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত দেশব্যাপী ৩ হাজার ৫৫৯টি অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এসব অভিযানে ১ হাজার ২৪৪টি মামলা দায়েরের পাশাপাশি ৮৪ লাখ ৫১ হাজার টাকা জরিমানা আদায় এবং ১৯ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অবৈধভাবে মজুত করা প্রায় ৩ লাখ লিটার (ডিজেল, অকটেন ও পেট্রোল) জ্বালানি তেল উদ্ধার করেছে প্রশাসন। তদারকি আরও জোরদার করতে পেট্রোল পাম্পগুলোতে ‘ট্যাগ অফিসার’ নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।
জ্বালানি তেল নিয়ে চলমান অস্থিরতার জেরে পাম্পগুলোতে যেন বাড়তি চাপ তৈরি না হয়, সেজন্য বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটার্স, এজেন্ট অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন আট দফা দাবি ও পরামর্শ তুলে ধরেছে।
সংগঠনের আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম কাবুল এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, পরিস্থিতি সামাল দিতে পেট্রোল পাম্পে তেল বিক্রির সময়সীমা সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত নির্ধারণ করা প্রয়োজন। পাশাপাশি উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের পাম্পগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ট্যাংকলরির ধারণক্ষমতা অনুযায়ী তেল সরবরাহ করা এবং অযথা পাম্পে হামলা বা মালিকদের দোষারোপ না করার দাবি জানিয়েছেন তারা। এছাড়া সাধারণ ক্রেতাদের অযথা ট্যাংক শূন্য অবস্থায় পাম্পে ভিড় না করে ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানানো হয়েছে।