শিরোনামঃ
হরমুজ প্রণালি দিয়ে আটকে পড়া ৬ বাংলাদেশি জাহাজ পারাপারে ইরানের অনুমতি বসনিয়ার কাছে হেরে টানা তৃতীয়বার বিশ্বকাপের বাইরে ইতালি গান ছাড়লেন অলকা ইয়াগনিক জ্বালানি তেলের তীব্র হাহাকার: উপকূলে স্থবিরতা, কর্মহীন লাখো জেলে তিন প্রতিষ্ঠানে শীর্ষ পদ শূন্য: থমকে আছে নীতিগত সিদ্ধান্ত ও কর্মীদের বেতন বাগদাদে মার্কিন নারী সাংবাদিক অপহরণের শিকার: নেপথ্যে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী! ইলিয়াস আলী গুমের অজানা তথ্য প্রকাশ: রিমান্ডে সাবেক তিন সেনা কর্মকর্তার চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি এক-এগারোর নির্যাতন নিয়ে রিমান্ডে থাকা তিন সেনা কর্মকর্তার চাঞ্চল্যকর তথ্য ইউরোপীয় ইউনিয়নে ইসরায়েল বয়কটের ডাক স্পেনের হরমুজ প্রণালী সুরক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের পাশে দাঁড়াচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাত
বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:১৯ অপরাহ্ন

সরকার পরিচালনার পাশাপাশি দল পুনর্গঠনে বিএনপির নজর

নিজস্ব প্রতিবেদক / ১৭ বার
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২৬

টানা দীর্ঘ আন্দোলন ও সংগ্রামের পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলের শীর্ষ পর্যায় থেকে শুরু করে অঙ্গসংগঠনের অনেক নেতাই এখন রাষ্ট্র ও সরকার পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। এর ফলে দলীয় কর্মকাণ্ডে কিছুটা স্থবিরতা ও কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে ভাটা পড়েছে। এই শূন্যতা কাটিয়ে উঠতে এবং রাজপথে প্রধান বিরোধী দলকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে এবার সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি ও দল পুনর্গঠনে কড়া নজর দিচ্ছে বিএনপি।

চলতি বছরেই জাতীয় কাউন্সিল ও শীর্ষ পদে পরিবর্তনের আভাস

বিএনপির নীতিনির্ধারক পর্যায়ের নেতারা জানিয়েছেন, চলতি বছরই দলের জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে। সর্বশেষ ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ দলটির কাউন্সিল হয়েছিল। ঈদের আগে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে বর্তমান মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও চলতি বছর কাউন্সিলের ইঙ্গিত দিয়েছেন।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, সরকার ও দলের কাজে ভারসাম্য আনতে শীর্ষ পদে, বিশেষ করে মহাসচিব পদে পরিবর্তন আসতে পারে। বর্তমানে মির্জা ফখরুল স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। এ অবস্থায় দলে সার্বক্ষণিক সময় দিতে পারবেন—এমন একজন নেতাকে মহাসচিব করার চিন্তাভাবনা চলছে। এই পদে সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল এবং দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের নাম জোর আলোচনায় রয়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী ও দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

রাষ্ট্র ও সরকার পরিচালনায় শীর্ষ নেতারা

দীর্ঘ ৪১ বছর দলের নেতৃত্ব দেওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর (৩০ ডিসেম্বর) পর দলের পূর্ণাঙ্গ চেয়ারম্যান হন তারেক রহমান। তার নেতৃত্বেই নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয় নিয়ে বর্তমানে তিনি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। দলের অন্যান্য শীর্ষ নেতারাও এখন রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আসীন।

স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম আগামী রাষ্ট্রপতি হিসেবে জোরালোভাবে আলোচিত হচ্ছে। মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ স্থায়ী কমিটি থেকে পদত্যাগ করে ইতিমধ্যে জাতীয় সংসদের স্পিকারের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। এছাড়া আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অন্যদিকে, মির্জা আব্বাস ও নজরুল ইসলাম খান প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নিযুক্ত হয়েছেন।

অঙ্গসংগঠন পুনর্গঠন ও নতুন নেতৃত্বের খোঁজ

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেজগাঁও কার্যালয়ে এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর পুনর্গঠন কার্যক্রম দ্রুত শুরু করার নির্দেশ দেন। মূল দলের পাশাপাশি যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল ও কৃষক দলের শীর্ষ নেতারাও এখন সংসদ সদস্য বা মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী।

যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম জিলানী এবং কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম বাবুল সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসান পেয়েছেন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব। সংগঠনগুলোর কার্যক্রম গতিশীল রাখতে তাই দ্রুত নতুন নেতৃত্ব খোঁজা হচ্ছে। পদপ্রত্যাশী নেতারা ইতিমধ্যে নিজেদের রাজনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধি করেছেন।

রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা ও আগামী দিনের কৌশল

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ১৭ বছরের শাসনামলে বিরোধী দলকে দমন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর ব্যাপক নির্ভরতার নজির রয়েছে। তবে বিএনপি নেতারা স্পষ্ট জানিয়েছেন, তারা সেই পথে হাঁটবেন না। বর্তমান প্রধান বিরোধী দল ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’কে প্রশাসনিকভাবে নয়, বরং রাজনৈতিক ও সাংগঠনিকভাবেই মোকাবিলা করতে চায় বিএনপি।

দলের নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, শিগগিরই সারা দেশে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আয়োজন করা হবে। দুর্বল সাংগঠনিক কাঠামো নিয়ে নির্বাচনে গেলে প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলো তার সুযোগ নিতে পারে। তাই নির্বাচন সামনে রেখে মূল দল ও অঙ্গসংগঠনগুলোকে নতুন নেতৃত্বে পুনর্গঠন করে দলকে সুসংগঠিত রাখাই এখন বিএনপির জন্য সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ।


এ জাতীয় আরো খবর...