জনপ্রিয় সাবস্ক্রিপশনভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘ওনলিফ্যানস’ (OnlyFans)-এর মালিক এবং ইউক্রেনীয়-বংশোদ্ভূত মার্কিন বিলিয়নেয়ার লিওনিড “লিও” রাদভিনস্কি মারা গেছেন। ক্যানসারের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর মাত্র ৪৩ বছর বয়সে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। ২৩ মার্চ (২০২৬) তারিখে ওনলিফ্যানসের পক্ষ থেকে এক বিবৃতির মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে তার মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করা হয়।
ওনলিফ্যানসের একজন মুখপাত্র বিবৃতিতে জানান, “লিওনিড রাদভিনস্কির মৃত্যুর খবর জানাতে পেরে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। দীর্ঘ ক্যানসার লড়াইয়ের পর তিনি শান্তিতে মৃত্যুবরণ করেছেন। এই কঠিন সময়ে তার পরিবার গোপনীয়তা রক্ষার অনুরোধ জানিয়েছে।”
ঠিক কবে বা কোন ধরনের ক্যানসারে তিনি ভুগছিলেন, সে বিষয়ে পরিবার এবং কোম্পানির পক্ষ থেকে কোনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তবে তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও ব্যবসায়িক সহযোগীদের সূত্রে জানা যায়, তিনি বেশ কিছুদিন ধরেই স্বাস্থ্যগত জটিলতায় ভুগছিলেন এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রমে কোনো ধরনের ব্যাঘাত এড়াতেই তার মৃত্যুর কয়েকদিন পর খবরটি প্রকাশ্যে আনা হয়।
১৯৮২ সালে ইউক্রেনে জন্মগ্রহণ করা লিওনিড বেড়ে ওঠেন যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে। নর্থওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক সম্পন্ন করা এই উদ্যোক্তা ২০১৮ সালে ওনলিফ্যানসের মূল কোম্পানি ‘ফেনিক্স ইন্টারন্যাশনাল’ (Fenix International) কিনে নেন। তার দূরদর্শী নেতৃত্বে প্ল্যাটফর্মটি বিশ্বব্যাপী অভাবনীয় সাফল্য পায়, বিশেষ করে কোভিড-১৯ মহামারির সময় এর জনপ্রিয়তা বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।
বর্তমানে এই প্ল্যাটফর্মের ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৩০ কোটির (৩০০ মিলিয়ন) বেশি এবং এর বার্ষিক আয় প্রায় ১ বিলিয়ন বা ১০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে গেছে। কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের সরাসরি তাদের ভক্তদের কাছ থেকে আয় করার সুযোগ দিয়ে এই প্ল্যাটফর্মটি ডিজিটাল অর্থনীতিতে একটি বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছিল।
ফোর্বসের তথ্য অনুযায়ী, মৃত্যুর সময় লিওনিড রাদভিনস্কির মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল প্রায় ৪.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বিশ্বের অন্যতম ধনী ব্যক্তি হওয়া সত্ত্বেও তিনি অত্যন্ত নিভৃতচারী বা লো-প্রোফাইল জীবনযাপন করতেন। জনসমক্ষে তাকে খুব একটা দেখা যেত না এবং তার মাত্র একটি পরিচিত ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে আছে। ফ্লোরিডার মিয়ামিতে একটি ১৯ মিলিয়ন ডলারের সুরক্ষাবেষ্টিত বিলাসবহুল বাড়িতে স্ত্রী কেটি চুডনোভস্কির সঙ্গে বসবাস করতেন তিনি।
ব্যবসায়িক সাফল্যের পাশাপাশি লিওনিড দাতব্য কাজেও যুক্ত ছিলেন। ক্যানসার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘মেমোরিয়াল স্লোয়ান কেটারিং ক্যানসার সেন্টার’, প্রাণী অধিকার সংস্থা এবং বিভিন্ন ওপেন-সোর্স প্রযুক্তি প্রজেক্টে তিনি বড় অঙ্কের অনুদান দিয়ে গেছেন।
লিওনিড রাদভিনস্কির অকাল মৃত্যুতে ওনলিফ্যানসের ভবিষ্যৎ মালিকানা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। মৃত্যুর আগে ৫.৫ বিলিয়ন ডলার মূল্যে কোম্পানির একটি বড় অংশের শেয়ার বিক্রির বিষয়ে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে আলোচনা চলছিল বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল। এখন এই বিশাল প্রযুক্তি সাম্রাজ্যের হাল কে ধরবেন, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক কৌতূহল দেখা দিয়েছে।