ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে বুধবার (১ এপ্রিল) সকাল ও ভোরে সংঘটিত তিনটি পৃথক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত পাঁচজনের প্রাণহানি ঘটেছে। মহাসড়কের দাউদকান্দি, বুড়িচং এবং চান্দিনা উপজেলায় ঘটা এসব দুর্ঘটনায় দুজন সিএনজি যাত্রী, দুজন ট্রাকচালক এবং এক স্কুলশিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। এই প্রাণহানির ঘটনায় নিহতদের পরিবার ও নিজ নিজ এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
সকালে মহাসড়কের দাউদকান্দি উপজেলার বারপাড়া এলাকায় একটি অজ্ঞাত দ্রুতগামী যানবাহন একটি যাত্রীবাহী সিএনজি অটোরিকশাকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু হয়। নিহত দুজন হলেন ওই উপজেলার গৌরীপুর এলাকার সরকারপুর গ্রামের ৫৩ বছর বয়সী আব্দুল বারেক এবং একই গ্রামের ৫২ বছর বয়সী মোস্তফা। দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা ছুটে এলেও ঘাতক যানটি দ্রুত পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
এর আগে একই দিন ভোরে বুড়িচং উপজেলার নিমসার বাজার এলাকায় ঘটে আরেক ভয়াবহ দুর্ঘটনা। সেখানে একটি চলন্ত ট্রাকের পেছনে অপর একটি দ্রুতগামী ট্রাক সজোরে ধাক্কা দিলে দুই ট্রাকের চালকই নিহত হন। এই ঘটনায় নিহতরা হলেন নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার লালপুর গ্রামের হানিফের ছেলে জহিরুল ইসলাম মঈন (২৭) এবং মেহেরপুর সদর উপজেলার কেশবপুর এলাকার খোদা বক্সের ছেলে সোহেল রানা (৩৫)। অন্যদিকে, চান্দিনা উপজেলার কাঠেরপুল এলাকায় মহাসড়ক পার হওয়ার সময় একটি লরির চাকায় পিষ্ট হয়ে তাইম নামের এক কিশোরের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিহত তাইম চান্দিনার বড় গোবিন্দপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির মেধাবী ছাত্র ছিল।
পৃথক এই তিনটি দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল বাহার মজুমদার এবং ময়নামতি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মমিন জানিয়েছেন, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহতদের লাশ উদ্ধার করে পরবর্তী প্রক্রিয়া শেষে নিজ নিজ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে। এছাড়া দুর্ঘটনাগুলোতে জড়িত গাড়িগুলোকে জব্দ করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।