জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাব-নিকাশ ও মহাকাশ পর্যবেক্ষণের ওপর ভিত্তি করে ২০২৬ সালের পবিত্র ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদের একটি সম্ভাব্য সময়সীমা প্রকাশ করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটির বিশেষজ্ঞদের দেওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী মে মাসের শেষার্ধে মধ্যপ্রাচ্যে উদযাপিত হতে পারে মুসলিম সম্প্রদায়ের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই ধর্মীয় উৎসব। সেই হিসাব ঠিক থাকলে আগামী ২৬ মে (মঙ্গলবার) পবিত্র হজ বা আরাফাতের দিন পালিত হবে। আর এর ঠিক পরদিন, অর্থাৎ ২৭ মে (বুধবার) সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, ওমান ও বাহরাইনসহ মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় সব দেশে একযোগে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
ভৌগোলিক অবস্থানের ভিন্নতা এবং খালি চোখে চাঁদ দেখার প্রচলিত ধর্মীয় রীতির কারণে সাধারণত মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর একদিন পর বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে ঈদ পালিত হয়ে থাকে। আন্তর্জাতিক সময়ের এই পার্থক্য এবং অতীত রীতির হিসাব অনুযায়ী, সৌদি আরব ও আমিরাতে যদি ২৭ মে কোরবানির ঈদ অনুষ্ঠিত হয়, তবে বাংলাদেশে তা উদযাপিত হবে ২৮ মে (বৃহস্পতিবার)। যদিও ইসলামের বিধান অনুযায়ী ঈদের চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারিত হবে জিলহজ মাসের নতুন চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করেই।
ইসলাম ধর্মে ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর ঈদুল আজহার রয়েছে গভীর তাৎপর্য ও এক সুমহান ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট। এই উৎসবটি মূলত মহান আল্লাহর প্রতি নবী হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর চরম আনুগত্য ও ত্যাগের এক অবিস্মরণীয় পরীক্ষার পবিত্র স্মৃতি বহন করে। আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে স্বপ্নে আদিষ্ট হয়ে তিনি তাঁর প্রাণপ্রিয় পুত্র হজরত ইসমাইলকে (আ.) কোরবানি করার চূড়ান্ত প্রস্তুতি গ্রহণ করেছিলেন। পিতার সেই কঠিন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর আল্লাহর অশেষ রহমতে ইসমাইলের (আ.) পরিবর্তে সেখানে একটি পশু কোরবানি হয়। সেই ঐতিহাসিক ও ঐশী ত্যাগের মহিমাকে ধারণ করেই যুগ যুগ ধরে প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলমানের জন্য পশু কোরবানি করাকে ওয়াজিব বা অত্যাবশ্যকীয় করা হয়েছে।