মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধকালীন সংকটের মধ্যেও বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ধমনী হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের সংখ্যা গত কয়েকদিনের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে। সামুদ্রিক গোয়েন্দা সংস্থা ‘উইন্ডওয়ার্ড’-এর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। গত বুধবার এই গুরুত্বপূর্ণ রুটটি দিয়ে ১৬টি বাণিজ্যিক জাহাজ পার হয়েছে, যা টানা তিন দিন ধরে ট্রানজিট বৃদ্ধির একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে এই চলাচলের পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে ইরানের সাথে বিভিন্ন দেশের গোপন ও প্রকাশ্য সমঝোতাকে।
উইন্ডওয়ার্ড-এর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, গত বুধবার পার হওয়া সবগুলো জাহাজই লারাক দ্বীপের বিশেষ রুটটি ব্যবহার করেছে। এই রুটটি ব্যবহারের প্রধান শর্তই হলো ইরানের সাথে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে অনুমতি গ্রহণ করা। সংস্থাটি মনে করছে, আরও বেশি সংখ্যক দেশ এখন তাদের বাণিজ্যিক জাহাজগুলো নিরাপদে পার করার জন্য ইরানের সাথে আলোচনার টেবিলে বসছে। এর ফলে আগামী দিনগুলোতে এই প্রণালী দিয়ে জাহাজের সংখ্যা আরও বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা মূলত ইরানের সাথে সমঝোতা চুক্তিরই প্রতিফলন।
জাহাজ চলাচলের সংখ্যা কিছুটা বাড়লেও তা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় এখনো অত্যন্ত নগণ্য। জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থার (UNCTAD) তথ্যমতে, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৩০টি জাহাজ চলাচল করত। সেই তুলনায় বর্তমানে ১৬টি জাহাজের যাতায়াত পরিস্থিতির ভয়াবহতা ও ঝুঁকির কথাই মনে করিয়ে দেয়। ইরান শুরু থেকেই স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, তাদের ঘোষিত শত্রু রাষ্ট্র ও মিত্র দেশগুলো বাদে বিশ্বের যেকোনো দেশ টোল প্রদান এবং আলোচনার ভিত্তিতে এই রুটটি ব্যবহার করতে পারবে।
বিশ্বের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য হরমুজ প্রণালী একটি অপরিহার্য রুট হিসেবে বিবেচিত। পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর উৎপাদিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) এশিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছানোর জন্য এই সংকীর্ণ জলপথটিই একমাত্র ভরসা। ফলে যুদ্ধের এই অস্থির সময়েও বিশ্ববাজারের তেলের সরবরাহ সচল রাখতে এবং অর্থনৈতিক বিপর্যয় এড়াতে ইরান-সমঝোতাকে অনেক দেশই এখন একমাত্র বিকল্প হিসেবে গ্রহণ করছে। পরিস্থিতির ধারাবাহিকতায় বোঝা যাচ্ছে, সামনের দিনগুলোতে এই রুটে ট্রানজিট আরও বাড়তে পারে।