রাজধানীর তুরাগ থানাধীন উত্তরার একটি বাসা থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ইংরেজি বিভাগের ৪৪তম ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থী সাবিত মাহমুদ শাওনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার সকালে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি জানাজানি হলে সহপাঠী ও বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে আসে। প্রাথমিক আলামত পর্যালোচনা করে পুলিশ বিষয়টিকে আত্মহত্যা বলে ধারণা করলেও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত শুরু হয়েছে।
তুরাগ থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে খবর পেয়ে পুলিশ উত্তরার ওই বাসায় পৌঁছায় এবং শাওনের নিথর দেহ উদ্ধার করে। তুরাগ থানার ডিউটি অফিসার এসআই ইখলাস মিয়া জানান, মরদেহের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে। এটি আত্মহত্যা কি না তা নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করছে পুলিশ। প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো সম্ভব হবে।
শাওনের সহপাঠী ও ঘনিষ্ঠজনদের ভাষ্যমতে, তিনি গত কয়েকদিন ধরে তীব্র মানসিক বিষণ্নতায় ভুগছিলেন। তার বিভাগের বন্ধু মোহাম্মদ কাজল মিয়া জানান, সাবিত মানসিকভাবে বেশ ভেঙে পড়েছিলেন এবং সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে কিছু অস্বাভাবিক ও হতাশাজনক পোস্ট দিয়েছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, সেই মানসিক অস্থিরতা থেকেই তিনি চরম কোনো পথ বেছে নিয়ে থাকতে পারেন। বৃহস্পতিবার রাত ৩টার দিকে প্রথম তার আত্মহত্যার খবরটি জানাজানি হয়।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই মেধাবী শিক্ষার্থীর এমন অকাল মৃত্যুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোকের ঝড় বইছে। তার বন্ধুরা সাবিতের স্মৃতি চারণ করে মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতার ওপর জোর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। পুলিশ বর্তমানে ঘটনাটি খতিয়ে দেখছে এবং আত্মহত্যার প্ররোচনা বা অন্য কোনো কারণ জড়িয়ে আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের পর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করার প্রক্রিয়া চলছে।