দেশের বিভিন্ন জেলায় হঠাৎ করে হামের প্রকোপ আশঙ্কাজনকহারে বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিস্থিতি মোকাবিলায় কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। জনস্বাস্থ্য রক্ষায় এবং আক্রান্ত শিশুদের নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে সারাদেশের সকল চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে। শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে জারি করা এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়, যা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বর্তমানে স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সর্বস্তরের চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং মাঠ পর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের সব ধরনের অর্জিত ও নৈমিত্তিক ছুটি স্থগিত করা হলো। এই আপদকালীন সময়ে হাসপাতালগুলোতে জনবল সংকট এড়াতে এবং হামের টিকাদান কর্মসূচিকে আরও বেগবান করতেই এই কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আওতাধীন সকল প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের এখন থেকে কর্মস্থলে সার্বক্ষণিক উপস্থিত থাকতে হবে।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ময়মনসিংহ, কুমিল্লা ও রাজশাহীসহ দেশের বেশ কয়েকটি জেলায় হামের সংক্রমণ ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। প্রতিদিন শত শত শিশু জ্বর ও শরীরে লালচে র্যাশ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে এই রোগের বিস্তার দ্রুত ঘটছে, যা স্বাস্থ্য বিভাগকে ভাবিয়ে তুলেছে। চুয়াডাঙ্গা ও নীলফামারীর মতো জেলাগুলোতেও ইতোমধ্যে অনেক শিশু আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। হাসপাতালগুলোতে তিল ধারণের জায়গা না থাকায় এবং আতঙ্কিত অভিভাবকদের ভিড় সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আবহাওয়া পরিবর্তন এবং অনেক ক্ষেত্রে সঠিক সময়ে টিকা না নেওয়ার ফলে এই সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে। সরকার এখন গুরুত্ব দিচ্ছে দ্রুত টিকাদান নিশ্চিত করার ওপর, যাতে নতুন করে কোনো শিশু আক্রান্ত না হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এই সিদ্ধান্তের ফলে সারাদেশের টিকাদান কেন্দ্র ও হাসপাতালগুলোতে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে শিশুদের নিয়ে আসার এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই বিশেষ ব্যবস্থার মাধ্যমে দ্রুতই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা করছে স্বাস্থ্য বিভাগ।