মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় একগুচ্ছ জরুরি ও কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে সরকার। দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয় নিশ্চিত করতে সরকারি ও বেসরকারি অফিসের সময়সূচিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী রোববার থেকে সকল সরকারি ও বেসরকারি অফিস সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে। এর আগে অফিস সময় সাধারণত বিকেল ৫টা পর্যন্ত থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে এক ঘণ্টা কমিয়ে আনা হয়েছে।
অফিস সূচির পাশাপাশি ব্যাংকিং খাতেও নতুন সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। এখন থেকে ব্যাংকগুলো লেনদেন ও দাফতরিক কার্যক্রমের জন্য সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। এই নতুন সময়সূচি সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে কি না, তা তদারকি করার জন্য একটি বিশেষ ‘মনিটরিং ফিল্ড’ বা পর্যবেক্ষণ দল গঠন করা হয়েছে। এছাড়া দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে আগামী রোববার বিস্তারিত নির্দেশনা দেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
ব্যয় সংকোচনের লক্ষ্যে সরকার আরও কিছু কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়েছে। সরকারি অর্থায়নে সকল ধরনের বৈদেশিক সফর এবং বিদেশে প্রশিক্ষণ পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত পুরোপুরি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এমনকি অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রেও ৩০ শতাংশ কমিয়ে আনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সরকারের নিজস্ব কেনাকাটার ক্ষেত্রে নতুন যানবাহন এবং কম্পিউটার সামগ্রী ক্রয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
জ্বালানি খাতে ব্যয় কমাতে বিদ্যুৎ ও গ্যাস ব্যবহারের ক্ষেত্রে বর্তমান খরচের চেয়ে আরও ৩০ শতাংশ সাশ্রয় করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। বাণিজ্যিক ক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়ছে; রাত ৮টার পর দেশের কোনো মার্কেট বা বিপণিবিতান খোলা রাখা যাবে না বলে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানির সরবরাহ ও দামের যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তা থেকে দেশের অর্থনীতিকে রক্ষা করতেই মূলত এই কৃচ্ছ্রসাধনের পথ বেছে নিয়েছে সরকার।