দীর্ঘ ১৮ মাস আত্মগোপনে থাকার পর অবশেষে পুলিশের খাঁচায় বন্দি হলেন বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের প্রথম নারী স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ভোরে রাজধানীর ধানমন্ডির নিজ বাসা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরে আদালতে হাজির করা হলে রিমান্ড নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই শিরীন শারমিন চৌধুরীর অবস্থান নিয়ে নানা গুঞ্জন ছিল। তবে সাম্প্রতিক তথ্যে তাঁর গত দেড় বছরের গতিপথ পরিষ্কার হয়েছে:
সংসদ ভবনে আত্মগোপন: সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের জবানবন্দি অনুযায়ী, ৫ আগস্ট পতনের দিন শিরীন শারমিন চৌধুরীসহ ১২ জন শীর্ষ নেতা সংসদ ভবনের একটি কক্ষে লুকিয়ে ছিলেন। রাত আড়াইটার দিকে সেনাবাহিনী তাঁদের উদ্ধার করে।
সেনানিবাসে আশ্রয়: আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) তথ্যমতে, জীবন রক্ষার্থে তাঁকে সপরিবারে ঢাকা সেনানিবাসে আশ্রয় দেওয়া হয়েছিল। সেখানে থাকা অবস্থাতেই ২ সেপ্টেম্বর তিনি রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র পাঠান।
দেশের ভেতরেই আত্মগোপন: ডিবি প্রধান শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শিরীন শারমিন দাবি করেছেন যে তিনি এই পুরো সময় দেশের বাইরে যাননি। সেনানিবাস থেকে বের হওয়ার পর দেশের বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে ছিলেন এবং সবশেষে ধানমন্ডিতে স্বামীর নামে কেনা বাসায় অবস্থান করছিলেন।
শিরীন শারমিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে জুলাই গণঅভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট অন্তত অর্ধ-ডজন হত্যা মামলা রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য: ১. রংপুরের মুসলিম উদ্দিন হত্যা মামলা: বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রংপুরে সংঘর্ষে নিহত শ্রমিকের পরিবার এই মামলাটি দায়ের করে। ২. ঢাকার লালবাগ থানা মামলা: জুলাইয়ের নৃশংসতার দায়ে ঢাকার লালবাগ থানায় দায়ের করা একটি হত্যা মামলায় তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
২০০৯ সালে সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য হিসেবে রাজনীতিতে আসা শিরীন শারমিন চৌধুরী ২০১৩ সালে বাংলাদেশের প্রথম নারী স্পিকার হিসেবে ইতিহাস গড়েন। টানা তিন মেয়াদে স্পিকারের দায়িত্ব পালন করা এই নেত্রী আওয়ামী লীগ সরকারের অন্যতম নীতিনির্ধারক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তবে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর ২৭ দিনের মাথায় তিনি পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।
মঙ্গলবার দুপুরে তাঁকে ঢাকা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। পুলিশ দুই দিনের রিমান্ড চাইলে আদালত তা নামঞ্জুর করে তাঁকে সরাসরি কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। তবে গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের ধারণা, অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে তাঁর আত্মগোপন কালীন সহযোগীদের সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া সম্ভব হবে।
সূত্র: ডিবি পুলিশ ও আদালত নথিপত্র।