যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান ১৪ দিনের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ফুরিয়ে আসছে। এর মধ্যে কোনো স্থায়ী শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত না হলে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধির সম্ভাবনা ‘খুবই কম’ বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুধু তাই নয়, তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে চুক্তি না হলে যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বুধবার (২২ এপ্রিল) সন্ধ্যা এবং বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ইরানে ফের পুরোদমে সামরিক অভিযান শুরু করবে মার্কিন বাহিনী।
গত ৮ এপ্রিল থেকে দুই দেশের মধ্যে এই সাময়িক যুদ্ধবিরতি শুরু হয়, যার মেয়াদ বুধবার শেষ হতে যাচ্ছে। সংঘাত এড়াতে যুদ্ধবিরতি কার্যকরের তিন দিন পর পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে মুখোমুখি হয়েছিলেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা। কিন্তু একটানা ২১ ঘণ্টার ম্যারাথন আলোচনা শেষে কোনো চূড়ান্ত চুক্তি ছাড়াই সেই বৈঠক ব্যর্থ হয়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্যমতে, প্রথম দফার এই ব্যর্থ আলোচনায় মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। এছাড়াও সেখানে উপস্থিত ছিলেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ।
সম্প্রতি মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন। ২২ এপ্রিলের মধ্যে চুক্তি না হলে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, এর সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। বুধবার সন্ধ্যার আগেই যদি কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো না যায়, তবে নিশ্চিতভাবেই ইরানে ফের অভিযান শুরু হবে বলে তিনি সতর্ক করেন। তবে ট্রাম্প এও জানান যে, তিনি ইরানের সাথে কোনো তড়িঘড়ি করে বাজে চুক্তিতে জড়াতে চান না; বরং একটি ‘পরিপূর্ণ ও ভালো’ চুক্তির জন্যই তিনি অপেক্ষা করতে রাজি। তাঁর মতে, যুক্তরাষ্ট্রের হাতে পর্যাপ্ত সময় রয়েছে।
এদিকে অন্যান্য আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, দুই দেশের এই যুদ্ধ ও উত্তেজনার কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়ছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন নৌবাহিনীর অবরোধের কারণে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে, কারণ বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল এই পথেই পরিবাহিত হয়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন, চুক্তি স্বাক্ষর না হওয়া পর্যন্ত এই প্রণালী বন্ধই থাকবে।
অন্যদিকে, তেহরানের পক্ষ থেকেও চরম অনাস্থা প্রকাশ করা হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমাগত অবরোধ ও উসকানিমূলক আচরণের কারণে তারা দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনায় অংশ নেওয়ার বিষয়ে গভীরভাবে সন্দিহান। ফলে শেষ মুহূর্তে ইসলামাবাদে কোনো নাটকীয় সমঝোতা না হলে মধ্যপ্রাচ্যে আবারও যুদ্ধের দামামা বেজে ওঠার প্রবল আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।