যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান ১৪ দিনের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হতে আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাকি। কিন্তু এই ক্ষণগণনার মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। ২২ এপ্রিল যুদ্ধবিরতির আনুষ্ঠানিক মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নতুন করে সামরিক হামলা শুরুর বিস্ফোরক ঘোষণা দিয়েছে ইরাকের সশস্ত্র গোষ্ঠী ‘সারায়া আওলিয়া আল-দাম’। গোষ্ঠীটির এই আচমকা হুমকিতে পুরো অঞ্চলে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাতের কালো মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে।
মেসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রামে দেওয়া এক কড়া বিবৃতিতে সারায়া আওলিয়া আল-দামের কমান্ডার আবু মাহদি আল-জাফারি জানিয়েছেন, তাদের যোদ্ধারা যেকোনো মুহূর্তে সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন, ইরাক ও এর আশপাশের অঞ্চলে অবস্থানরত ‘দখলদার’ শক্তির বিরুদ্ধে তারা ইতোমধ্যে দুই শতাধিক সফল অভিযান পরিচালনা করেছেন। আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সংস্থা ও সংবাদমাধ্যমগুলোর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, গোষ্ঠীটি তাদের আসন্ন হামলার জন্য সুনির্দিষ্ট কিছু লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করেছে। মূলত ইরাক ও সিরিয়ায় অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো—বিশেষ করে ইরাকের আইন আল-আসাদ বিমানঘাঁটি এবং কুর্দিস্তান অঞ্চলের এরবিল বিমানবন্দর সংলগ্ন মার্কিন স্থাপনাগুলো তাদের প্রধান নিশানায় রয়েছে। এছাড়া দূরপাল্লার ড্রোন ও ক্রুজ মিসাইলের সাহায্যে ইসরায়েলের হাইফা বন্দর, এইলাত শহর এবং গোলান মালভূমির মতো কৌশলগত অবস্থানগুলোতেও তারা ব্যাপকভাবে আঘাত হানার ছক কষছে বলে জানা গেছে।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ‘অ্যাক্সিস অব রেজিসট্যান্স’ বা প্রতিরোধ বলয়ের অন্যতম এই ছায়া গোষ্ঠীটির এমন হুঙ্কার মোটেও ফাঁকা বুলি নয়। গত কয়েক বছরে মার্কিন ও ইসরায়েলি স্থাপনায় ড্রোন ও রকেট হামলার ক্ষেত্রে তাদের সরাসরি সক্ষমতা ও সম্পৃক্ততা দেখা গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি চুক্তির একেবারে শেষ মুহূর্তে এই ইরাকি মিলিশিয়াদের আস্ফালন মূলত ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের ওপর তেহরানের এক ধরনের সামরিক ও মনস্তাত্ত্বিক চাপ প্রয়োগের কৌশল। যদি সত্যিই যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার আগেই এই সশস্ত্র গোষ্ঠী নির্দিষ্ট মার্কিন বা ইসরায়েলি স্থাপনাগুলোতে আঘাত হানে, তবে তা যেকোনো শেষ মুহূর্তের শান্তিচুক্তির সম্ভাবনাকে ধূলিসাৎ করে পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে ফের এক সর্বাত্মক ধ্বংসাত্মক যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে।