যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক অভিযানের হুমকির কড়া জবাব দিয়েছে ইরান। দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার এবং ক্ষমতাসীন সরকারের অন্যতম প্রভাবশালী নেতা মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আলোচনার নামে ওয়াশিংটন মূলত তেহরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করতে চাইছে। তবে কোনো ধরনের সামরিক বা অর্থনৈতিক হুমকির মুখে ইরান মাথা নোয়াবে না বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। একইসঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি নতুন করে হামলা শুরু করে, তবে যুদ্ধক্ষেত্রে ইরান এমন কিছু ‘নতুন কার্ড’ বা কৌশল প্রদর্শন করবে, যার জন্য মার্কিন বাহিনী হয়তো প্রস্তুত নয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় ঘালিবাফ যুক্তরাষ্ট্রের নীতির তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কূটনীতির টেবিলকে কার্যত ‘আত্মসমর্পণের টেবিলে’ পরিণত করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু সামরিক হুমকির ছায়ায় বসে কোনো ধরনের সমঝোতা বা আলোচনা ইরানের কাছে একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। গত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির সময়টিতে ইরান যে কেবল নীরব দর্শক হয়ে বসে ছিল না, সে কথাও তিনি জোরালোভাবে মনে করিয়ে দেন। আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই ‘নতুন কার্ডের’ ইঙ্গিত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সাবেক রেভল্যুশনারি গার্ড কমান্ডার ঘালিবাফের এই বার্তার অর্থ হতে পারে যে, ইরান এরই মধ্যে তাদের অত্যাধুনিক ব্যালিস্টিক ও হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা অথবা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে থাকা তাদের শক্তিশালী প্রক্সি নেটওয়ার্কগুলোকে যেকোনো চূড়ান্ত পরিস্থিতির জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত করে রেখেছে।
গত ৮ এপ্রিল থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ১৪ দিনের একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি চলছে, যার মেয়াদ বুধবার (২২ এপ্রিল) শেষ হতে যাচ্ছে। সংঘাত নিরসনে যুদ্ধবিরতি কার্যকরের তিন দিন পর পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে দুই দেশের প্রতিনিধিরা বৈঠকে বসলেও ২১ ঘণ্টার ম্যারাথন আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই ব্যর্থ হয়। এই সংলাপ ব্যর্থ হওয়ার পরই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মার্কিন নৌবাহিনীকে হরমুজ প্রণালি এবং ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরগুলোতে কঠোর অবরোধ আরোপের নির্দেশ দেন। সিএনএনসহ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, বিশ্বের অন্যতম প্রধান এই তেল সরবরাহ রুটে মার্কিন অবরোধের ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি তেলের বাজার এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় এরই মধ্যে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়েছে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে বুধবার সন্ধ্যা থেকেই ইরানে ফের পুরোদমে সামরিক অভিযান শুরু করবে পেন্টাগন। একদিকে মার্কিন বাহিনীর সর্বাত্মক রণপ্রস্তুতি এবং অন্যদিকে তেহরানের পালটা আঘাতের এই কড়া হুঁশিয়ারি—সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে এখন বারুদের গন্ধ। যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হতে আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাকি থাকায় পুরো বিশ্ব এখন গভীর উদ্বেগের সাথে এই স্নায়ুযুদ্ধের দিকে নজর রাখছে।