গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েলের ওপর মার্কিন হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া সংঘাত অবসানে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া প্রস্তাবের বিপরীতে ১৪ দফার একটি পাল্টা প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। মধ্যপ্রাচ্যের এই ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা নিরসনে তেহরানের দেওয়া এই প্রস্তাব সংঘাত সমাধানের ক্ষেত্রে একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ‘তাসনিম নিউজ’ এবং রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ‘প্রেস টিভি’ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
প্রস্তাবের মূল দাবি: ৩০ দিনে যুদ্ধ শেষ করার রূপরেখা
ইরানের দেওয়া এই পরিকল্পনার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো—আগামী ৩০ দিনের মধ্যে সব সমস্যার সমাধান করে চূড়ান্তভাবে যুদ্ধ শেষ করা। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত নিরসনে দুই মাসের একটি যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছিল, তবে ইরান সেই সময়সীমা কমিয়ে ৩০ দিনে নিয়ে আসার ওপর জোর দিয়েছে।
ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তেহরানের ১৪ দফা প্রস্তাবে আরও যেসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে:
নিরাপত্তার নিশ্চয়তা: ভবিষ্যতে আর কোনো সামরিক আগ্রাসন চালানো হবে না, এমন সুস্পষ্ট গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তা প্রদান।
সেনা প্রত্যাহার: ইরানের সীমান্ত এলাকা থেকে সব মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করতে হবে।
নৌ-অবরোধ ও সম্পদ মুক্তি: নৌ-অবরোধের অবসান এবং বিভিন্ন দেশে জব্দকৃত ইরানি সম্পদ নিঃশর্তে মুক্তি দেওয়া।
ক্ষতিপূরণ ও নিষেধাজ্ঞা: যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে।
আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা: লেবাননে চলমান লড়াই বন্ধ করা এবং হরমুজ প্রণালি পরিচালনার জন্য একটি নতুন ব্যবস্থা চালু করা।
যুক্তরাষ্ট্রের আগের দাবি ও বর্তমান অবস্থান
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে ইরানের কাছে ১৫ দফার একটি রূপরেখা পেশ করেছিল। মার্কিন সেই প্রস্তাবে হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করার কড়া দাবি জানানো হয়েছিল।
সংবাদমাধ্যম এনপিআর (NPR) ইরানের দেওয়া এই নতুন প্রস্তাবের বিষয়বস্তু স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। তবে গত শুক্রবার এক ইরানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে, নথিটি মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের মাধ্যমে হস্তান্তরিত হয়েছে। সে সময় তিনি বিস্তারিত শর্তগুলো প্রকাশ করেননি।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)-এর তথ্যমতে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার জানিয়েছেন যে তিনি নতুন এই প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করছেন। তবে গত শুক্রবার সাংবাদিকদের কাছে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, এখন পর্যন্ত ইরানের দেওয়া প্রস্তাবগুলো তাকে খুব একটা সন্তুষ্ট করতে পারেনি। তিনি বলেন, “তারা একটি চুক্তি করতে চায়, কিন্তু আমি এতে সন্তুষ্ট নই; তাই দেখা যাক কী হয়।”
পর্যবেক্ষণ
যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধের দাবির বিপরীতে ইরানের এই সম্পদ মুক্তি এবং ক্ষতিপূরণের দাবি দু’পক্ষের মধ্যে একটি বড় কূটনৈতিক ব্যবধান স্পষ্ট করে তুলেছে। আগামী দিনগুলোতে এই প্রস্তাবের ওপর ভিত্তি করে কোনো সমঝোতা হয় কি না, সেদিকেই নজর রাখছে আন্তর্জাতিক মহল।