ক্ষমতার বাহানায় বর্তমান বিএনপি সরকার আর কোনো সংস্কার করতে চায় না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন। তিনি অভিযোগ করেন, জনগণের দেওয়া দায়িত্ব পালনের বদলে তারা এখন নিরঙ্কুশভাবে ক্ষমতা উপভোগ করতে চায়।
রোববার (৩ মে) সকালে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে এনসিপির সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটির আয়োজিত ‘জ্বালানি, অর্থনীতি সংস্কার ও গণভোট’ বিষয়ক জাতীয় কনভেনশনে তিনি এসব কথা বলেন।
বর্তমান সরকারের সমালোচনা করে আখতার হোসেন বলেন, “গণভোট হয়ে যাওয়ার পরে বিএনপি কোন বিষয়ে রাজি বা নারাজি, সেটা মুখ্য বিষয় হতে পারে না। বাস্তবতা হলো, ক্ষমতার বাহানায় বিএনপি সরকার আর সংস্কার করতে চায় না; তারা ক্ষমতাকে নিরঙ্কুশভাবে উপভোগ করতে চায়।”
তিনি আরও বলেন, “নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ওপর যে দায়িত্ব অর্পিত হয়, সেটাকে কেবল ‘ক্ষমতা’র দৃষ্টিতে দেখার যে পুরনো মানসিকতা, সেখান থেকে তারা এখনও বের হয়ে আসতে পারেননি।”
বিএনপি সরকারের উদ্দেশে বিতর্কের আহ্বান জানিয়ে এনসিপির এই নেতা কিছু সুনির্দিষ্ট প্রশ্ন তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিষয়গুলো জাতির সামনে খোলাসা হওয়া প্রয়োজন:
উচ্চকক্ষ গঠন: উচ্চকক্ষ যদি ভোটের আনুপাতিক হার (পিআর) অনুযায়ী হয়, তাতে কি বিএনপির আপত্তি রয়েছে?
তত্ত্বাবধায়ক সরকার: তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা যদি নতুন কোনো ফর্মুলায় আসে, সেখানে কি তাদের আপত্তি?
নিরপেক্ষ নিয়োগ: সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে একটি নিরপেক্ষ বডির (কমিশন) মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে তাদের আপত্তি কোথায়?
সংস্কার কি নেতিবাচক: সংস্কারের এই বিষয়গুলোকে কি বিএনপি দেশ ও জাতির জন্য নেতিবাচক মনে করে?
নির্বাচনের আগে ও পরের রাজনৈতিক অবস্থানের পার্থক্য তুলে ধরে আখতার হোসেন বলেন, “ক্ষমতায় আসার আগে নির্বাচনের সময় আপনারা গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে কথা বলেছিলেন। কারণ আপনারা জানতেন, তখন গণভোটে ‘না’-এর পক্ষে অবস্থান নিলে জনগণ আপনাদের বিপক্ষে চলে যেত।”
সরকারকে সতর্ক করে তিনি বলেন, “ভোটের পর জনগণ নিষ্ক্রিয় হয়ে গেছে, ব্যাপারটা মোটেও এমন নয়। শুধুমাত্র নির্বাচনের মধ্য দিয়েই বা পাঁচ বছর অপেক্ষা করার পরই অনেক কিছু হবে, বিষয়টি এমনও নয়। বাংলাদেশের জনগণ এই জিনিসগুলো দেখভাল করছে, তারা সার্বক্ষণিক খেয়াল রাখছে।”