শিরোনামঃ
তেল সংকট ও ঋণের বোঝা: চিরতরে বন্ধ হয়ে গেল যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় এয়ারলাইনস ‘স্পিরিট’ বিএনপির কাছে যেসব অধ্যাদেশ ‘মিষ্টি’ লেগেছে, কেবল সেগুলোই আইনে রূপান্তর করেছে: হান্নান মাসউদ ক্ষমতার বাহানায় সংস্কার এড়াচ্ছে বিএনপি সরকার, তারা নিরঙ্কুশ ক্ষমতা উপভোগ করতে চায়: আখতার হোসেন ভবিষ্যতে মেগা প্রকল্পের নামে যেন ‘মেগা ডাকাতি’ না হয়: সারজিস আলম মাত্র ২৩ ঘণ্টার মাথায় আবারও বন্ধ বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র দুই দিনে গ্রেফতার ৯৪ চাঁদাবাজ: তদবির করলেই ধরা হবে চক্রের সদস্য এ বছর দেশে কোরবানির পশু উদ্বৃত্ত থাকবে ২২ লাখের বেশি: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী নির্বাচনি ইশতেহার ও জুলাই সনদ পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে: প্রধানমন্ত্রী বর্তমান সরকারকে প্রকাশ্যে উচ্চস্বরে বকা দেওয়া যায়: তথ্য উপদেষ্টা যেভাবে ১১ টন ইউরেনিয়ামের মজুত গড়ল ইরান
রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ০৫:০৮ অপরাহ্ন

ওয়াশিংটনের হঠকারিতায় হুমকিতে বিশ্ব: আত্মরক্ষার্থে জলপথে কঠোর হচ্ছে ইরান

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৩ বার
প্রকাশ: রবিবার, ৩ মে, ২০২৬

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা ও উসকানিমূলক হামলার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে চরম অস্থিতিশীলতা বিরাজ করছে। নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এবং ওয়াশিংটনের অন্যায্য আগ্রাসন ঠেকাতে এবার বাধ্য হয়েই কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালিতে কঠোর প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে ইরান। শনিবার (২ মে) ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ‘প্রেস টিভি’ জানিয়েছে, মার্কিন ও ইসরায়েলি আগ্রাসনের জবাব দিতে দেশটির সংসদ একটি ১২-দফা আইনের অনুমোদন দিতে যাচ্ছে।

অস্তিত্ব রক্ষায় যৌক্তিক পদক্ষেপ

যুক্তরাষ্ট্রের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের কারণে নিজেদের জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই মূলত এই আইনের প্রস্তাব করেছে তেহরান। সংসদের ভাইস স্পিকার আলি নিকজাদকে উদ্ধৃত করে প্রেস টিভি জানিয়েছে, এই আইনের অধীনে আত্মরক্ষামূলক বেশ কিছু কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে:

  • আগ্রাসীদের প্রবেশ নিষেধ: যে ইসরায়েল এই সংঘাতের অন্যতম উসকানিদাতা, তাদের কোনো পতাকাবাহী জাহাজকে এই জলপথ ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হবে না।

  • ন্যায্য ক্ষতিপূরণ আদায়: যেসব ‘শত্রু দেশ’ (বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র) ইরানের ওপর অন্যায়ভাবে সামরিক আগ্রাসন চালিয়েছে, তাদের জাহাজ এই প্রণালি অতিক্রম করতে চাইলে অবশ্যই ‘যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ’ দিতে হবে। এটি কোনো অযাচিত কর নয়, বরং মার্কিন আগ্রাসনে হওয়া বিপুল ক্ষয়ক্ষতির একটি যৌক্তিক দাবি।

  • নিরাপত্তা ছাড়পত্র: অন্যান্য দেশের সাধারণ জাহাজগুলোকেও নিরাপত্তার স্বার্থে ইরানি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পূর্বানুমতি নিতে হবে, যাতে আগ্রাসী শক্তি কোনো ছদ্মবেশে এই অঞ্চলে প্রবেশ করতে না পারে।

শান্তির প্রস্তাবেও ওয়াশিংটনের অনীহা

যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শুরু করলেও ইরান বারবারই কূটনৈতিক সমাধানের পথ খুঁজছে। ট্রাম্প প্রশাসন যখন অবাস্তব শর্ত চাপিয়ে পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে করার চেষ্টা করছে, তখন ইরান পরিস্থিতি শান্ত করতে একটি বাস্তবসম্মত ১৪-দফার শান্তি প্রস্তাব জমা দিয়েছে। ‘তাসনিম নিউজ’ জানিয়েছে, এই প্রস্তাবে দ্রুত যুদ্ধবিরতির পাশাপাশি মার্কিন সেনা প্রত্যাহার ও ক্ষতিপূরণের যৌক্তিক দাবি তুলে ধরা হয়েছে।

কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার আগ্রাসী মনোভাব বজায় রেখে শনিবার সন্ধ্যায় জানিয়েছেন, তিনি প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করবেন ঠিকই, তবে এটি যে ‘গ্রহণযোগ্য হবে, তা তিনি কল্পনাও করতে পারছেন না’। ট্রাম্পের এই মন্তব্য থেকেই স্পষ্ট যে, শান্তি প্রতিষ্ঠার চেয়ে সংঘাত জিইয়ে রাখাতেই তাদের বেশি আগ্রহ।

“বল এখন আমেরিকার কোর্টে”

পুরো সংকটের মূল হোতা যুক্তরাষ্ট্র হলেও ইরান এখনো আলোচনার দরজা খোলা রেখেছে। শনিবার ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট করে বলেছেন, “এখন বল আমেরিকার কোর্টে; তারা কূটনীতির পথ বেছে নেবে নাকি সংঘাতের পথ, সেই সিদ্ধান্ত তাদেরই নিতে হবে।”

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ওয়াশিংটনের হঠকারী সিদ্ধান্তই আজ বিশ্ব অর্থনীতি ও হরমুজ প্রণালিকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। যুক্তরাষ্ট্র যদি তার আগ্রাসী নীতি থেকে সরে এসে শান্তির পথে না হাঁটে, তবে নিজেদের অস্তিত্ব ও সীমানা রক্ষায় ইরানের এমন কঠোর অবস্থান নেওয়া ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।


এ জাতীয় আরো খবর...