শিরোনামঃ
প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের জীবনাবসান পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রীর পদত্যাগ প্যারেন্ট- টিচার মিটিং : যা জিজ্ঞেস করা জরুরি রামিসা হত্যা: আদালতে তৃতীয় ব্যক্তি ‘ডলার’কে দুষলেন সোহেল ডিটেনশন ক্যাম্পের আতঙ্কে পশ্চিমবঙ্গ সীমান্ত ছাড়ছে হাজারো মানুষ স্থানীয় নির্বাচনে নিষিদ্ধ দলের অংশগ্রহণ ঠেকাতে ইসির খসড়া জঙ্গল সলিমপুরে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় এগারো বাহিনীর রামরাজত্ব এক দশক পর বিএনপির কাউন্সিলে আসছে নতুন নেতৃত্ব সাগরতলের নিরাপত্তা রক্ষায় চালকবিহীন অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র বানাচ্ছে আকুস কুমিল্লায় এনসিপি নেতাদের বিরুদ্ধে বিশেষ অর্থ বরাদ্দের অভিযোগ
সোমবার, ০১ জুন ২০২৬, ১১:২৩ অপরাহ্ন

অসম মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির চাপে কতটা হুমকিতে দেশের অর্থনীতি

নিজস্ব প্রতিবেদক / ১০ বার
প্রকাশ: সোমবার, ১ জুন, ২০২৬

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে দুটি স্বাধীন দেশের মধ্যে যখন কোনো চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, তখন তার মূল ভিত্তি হওয়া উচিত পারস্পরিক স্বার্থরক্ষা এবং ন্যূনতম ভারসাম্য। রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক শক্তির পার্থক্য থাকাটা অত্যন্ত স্বাভাবিক একটি বিষয়। কিন্তু সেই শক্তির পার্থক্য যদি এমন এক চরম পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছায় যেখানে একটি শক্তিশালী দেশ কেবল নিজের সুবিধাই আদায় করে নেয় এবং অপর দুর্বল দেশটিকে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ও নীতিগত দায়ভার বহন করতে বাধ্য করে, তখন তাকে আর কোনোভাবেই স্বাভাবিক বা মুক্ত বাণিজ্য বলা চলে না। বরং সেটি হয়ে ওঠে নব্য ঔপনিবেশিক অর্থনৈতিক আধিপত্য বিস্তারের একটি সুকৌশলী কাঠামো। বাংলাদেশ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তিটিকে ঘিরে বর্তমানে দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অঙ্গনে ঠিক এই গভীর শঙ্কা ও প্রশ্নগুলোই জোরালোভাবে উত্থাপিত হচ্ছে। দেশের শীর্ষস্থানীয় অর্থনীতিবিদ ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি কোনোভাবেই দুটি সমকক্ষ রাষ্ট্রের মধ্যে সমান অংশীদারিত্বের কোনো চুক্তি নয়, বরং এটি হলো একটি উদীয়মান ও উন্নয়নশীল অর্থনীতির ওপর বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক পরাশক্তির একতরফা ও কৌশলী চাপ প্রয়োগের এক নিকৃষ্ট উদাহরণ।

চুক্তির সম্পাদনে চরম গোপনীয়তা ও অস্বচ্ছতা

যেকোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রাষ্ট্রের সামষ্টিক অর্থনীতি ও ভবিষ্যৎ নির্ধারণকারী এত বড় মাপের একটি চুক্তি সম্পাদনের আগে সুনির্দিষ্ট কিছু ধাপ অনুসরণ করা হয়। সাধারণত এ ধরনের চুক্তির আগে জাতীয় সংসদে দীর্ঘ আলোচনা হয়, নীতিগত বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয় এবং সুশীল সমাজ, ব্যবসায়ী মহল ও সাধারণ নাগরিকদের পর্যালোচনার জন্য চুক্তির খসড়া উন্মুক্ত করা হয়। কিন্তু বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার এই চুক্তির ক্ষেত্রে প্রক্রিয়াটি হয়েছে সম্পূর্ণ উল্টো। অত্যন্ত বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, দেশে একটি বহুল আলোচিত জাতীয় নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে চরম গোপনীয়তার অন্ধকারে এই মেগা চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। কেন এত তাড়াহুড়ো করে এবং দেশের মানুষকে অন্ধকারে রেখে এমন একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো, তা নিয়ে জনমনে তীব্র সন্দেহ তৈরি হয়েছে।

চুক্তির খুঁটিনাটি শর্তগুলো যখন ধীরে ধীরে প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে, তখন দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিবিদদের মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণত অর্থনৈতিক নীতি ও সিদ্ধান্ত নিয়ে অর্থনীতিবিদদের মধ্যে নানা ধরনের মতভেদ দেখা যায়, কিন্তু এই চুক্তির নেতিবাচক দিকগুলোর বিষয়ে তাদের মধ্যে এক অদ্ভুত ঐকমত্য পরিলক্ষিত হচ্ছে। এখন পর্যন্ত দেশের কোনো স্বনামধন্য অর্থনীতিবিদ বা গবেষক প্রকাশ্যে এই চুক্তির পক্ষে একটি কথাও বলেননি। এমনকি দেশের বড় বড় রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতারাও এত বড় অসম চুক্তির দায় নিজেদের কাঁধে নিতে একেবারেই আগ্রহী নন। কারণ চুক্তির গভীরতা বিশ্লেষণ করলে এটি একদম স্পষ্ট হয়ে যায় যে, এটি নিছক কোনো পণ্য কেনাবেচার বাণিজ্যিক চুক্তি নয়; বরং এটি বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা, নিজস্ব বাজার ব্যবস্থাপনা এবং নীতিগত সক্ষমতার ওপর এক সরাসরি ও নগ্ন হস্তক্ষেপ।

ঐতিহ্যবাহী আমদানি কাঠামো ভেঙে পড়ার শঙ্কা

এই চুক্তির সবচেয়ে বড় ও ভয়ংকর দিকটি হলো, এটি বাংলাদেশের দশকের পর দশক ধরে গড়ে ওঠা সাশ্রয়ী ও সুবিধাজনক আমদানি কাঠামোকে সম্পূর্ণ ভেঙে দিচ্ছে। এতদিন ধরে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বাজার যাচাই করে যেখান থেকে পণ্যের দাম কম পেত, পরিবহনের সময় ও খরচ কম হতো এবং শর্তাবলি নিজেদের অনুকূলে থাকত, সেখান থেকেই গম, সয়াবিন, তুলা বা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি করত। কিন্তু এই নতুন চুক্তির ফলে এখন নির্দিষ্টভাবে যুক্তরাষ্ট্র থেকেই একটি বিশাল পরিমাণ পণ্য কেনার একতরফা বাধ্যবাধকতা বাংলাদেশের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।

চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশকে প্রতি বছর যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৭ লাখ টন গম এবং প্রায় ১২৫ কোটি ডলার মূল্যের সয়াবিন পণ্য আমদানি করতে হবে। বর্তমান বৈশ্বিক বাজারদর হিসাব করলে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্র থেকে এই নির্দিষ্ট কৃষিপণ্য আমদানির বার্ষিক ব্যয় প্রায় ৩৫০ কোটি ডলারে গিয়ে ঠেকতে পারে। অথচ বাস্তব চিত্র হলো, বাংলাদেশ বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বছরে এক বিলিয়ন ডলার বা ১০০ কোটি ডলারেরও কম মূল্যের কৃষিপণ্য আমদানি করে থাকে। অর্থাৎ, দেশের প্রকৃত চাহিদার চেয়েও বহুগুণ বড় একটি আমদানির কৃত্রিম দায় বাংলাদেশের ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।

সমস্যাটি কেবল অর্থের অঙ্কেই সীমাবদ্ধ নেই। ভৌগোলিক বাস্তবতায় বাংলাদেশ সাধারণত কৃষ্ণসাগর অঞ্চল, রাশিয়া, ইউক্রেন বা পার্শ্ববর্তী দেশগুলো থেকে অত্যন্ত কম দামে এবং স্বল্প সময়ে এই কৃষিপণ্যগুলো সংগ্রহ করে থাকে। কিন্তু পৃথিবীর অপর প্রান্ত যুক্তরাষ্ট্র থেকে কার্গো জাহাজে করে এসব পণ্য দেশে আনতে পরিবহন ব্যয় যেমন কয়েক গুণ বেড়ে যাবে, তেমনি সময়ও লাগবে অনেক বেশি। এই বাড়তি আমদানি খরচ এবং পরিবহন ব্যয়ের চূড়ান্ত বোঝা শেষ পর্যন্ত দেশের সাধারণ ও খেটে খাওয়া মানুষের কাঁধেই পড়বে অতিরিক্ত কর, লাগামহীন মূল্যস্ফীতি বা ভর্তুকির মাধ্যমে। এখানে মার্কিন নীতির একটি বড় স্ববিরোধিতাও উন্মোচিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক মঞ্চে যুক্তরাষ্ট্র সবসময় বলে থাকে যে, রাষ্ট্রীয় ভর্তুকি মুক্ত বাজারের প্রতিযোগিতাকে নষ্ট করে দেয়। অথচ এই চুক্তিতে মার্কিন পণ্যকে বাংলাদেশের বাজারে প্রতিযোগিতামূলক করে তোলার জন্য খোদ বাংলাদেশ সরকারকেই পরোক্ষভাবে ভর্তুকি প্রদানে উৎসাহিত করা হচ্ছে। অর্থাৎ, মুখে মুক্ত বাজারের বুলির কথা বলা হলেও বাস্তবে নিজেদের শক্তিশালী অর্থনীতির জন্য অন্যায্য সুবিধা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

কৌশলগত খাতগুলোতে একতরফা শর্তের বোঝা

চুক্তির আরও বেশ কয়েকটি নির্দিষ্ট ধারা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নীতিমালার জন্য গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। এর মধ্যে প্রধান কয়েকটি খাত হলো:

  • অ্যাভিয়েশন বা বিমান খাত: চুক্তি অনুযায়ী, রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১৪টি নতুন বোইং বিমান এবং এর আনুষঙ্গিক যন্ত্রাংশ ক্রয় করতে হবে। ইতোমধ্যে প্রায় ৩৭০ কোটি ডলার বা দেশীয় মুদ্রায় প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকার এই বিশাল চুক্তিটি চূড়ান্ত করা হয়েছে। অথচ এর আগে বহর আধুনিকায়নে ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসের কাছ থেকে বিমান কেনার বিষয়ে নীতিগত আলোচনা অনেক দূর এগিয়েছিল। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি ওয়াশিংটনের বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক চাপের কারণেই বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত এয়ারবাসের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে বোইংয়ের দিকে ঝুঁকতে বাধ্য হয়েছে।

  • জ্বালানি নিরাপত্তা: আগামী ১৫ বছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলারের এলএনজি আমদানিতে সহায়তা করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে এই চুক্তিতে। এর সহজ অর্থ হলো, বাংলাদেশের মতো একটি উন্নয়নশীল দেশের সামগ্রিক জ্বালানি নিরাপত্তা এবং জ্বালানি আমদানি নীতি ধীরে ধীরে একটি নির্দিষ্ট মার্কিন উৎসের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল হয়ে পড়বে, যা দীর্ঘমেয়াদে কৌশলগত ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

  • প্রতিরক্ষা ও সামরিক সরঞ্জাম: চুক্তিটিতে স্পষ্ট ইঙ্গিত রয়েছে যে, বাংলাদেশকে এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও বেশি পরিমাণে সামরিক সরঞ্জাম ও অস্ত্র কিনতে উৎসাহিত করা হবে। এর পাশাপাশি অন্য কিছু নির্দিষ্ট দেশ (যেমন চীন বা রাশিয়া) থেকে অস্ত্র কেনার পরিমাণ কমিয়ে আনতে হবে। এটি কেবল একটি সাধারণ অর্থনৈতিক শর্ত নয়, বরং এটি সরাসরি বাংলাদেশের জাতীয় প্রতিরক্ষা কৌশল, স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি এবং ভূ-রাজনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত।

  • ভর্তুকি সীমিতকরণের আন্তর্জাতিক চাপ: চুক্তির অন্যতম একটি কঠোর শর্ত হলো, এটি কার্যকরের মাত্র ছয় মাসের মধ্যে বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানাতে হবে যে সরকার ঠিক কোন কোন খাতে এবং কী পরিমাণ রাষ্ট্রীয় ভর্তুকি প্রদান করছে। এর ফলে সরকার ভবিষ্যতে নিজস্ব কৃষকদের বাঁচাতে, খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালে রাখতে প্রয়োজনীয় ভর্তুকি দিতে গিয়েও আন্তর্জাতিক মহলের তীব্র চাপের মুখে পড়বে।

কার্যকরের আগেই কেনাকাটার অস্বাভাবিক হিড়িক

এই পুরো প্রক্রিয়ার সবচেয়ে বিস্ময়কর ও সন্দেহজনক দিকটি হলো, চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে ও পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর হওয়ার আগেই মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বড় বড় কেনাকাটার হিড়িক পড়ে গেছে। প্রাপ্ত তথ্যমতে, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে মার্কিন কোম্পানি আর্জেন্ট এলএনজির সঙ্গে একটি প্রাথমিক সমঝোতা স্বাক্ষরিত হয়। এরপর গত ৩০ এপ্রিল বোইংয়ের সঙ্গে বিশাল অঙ্কের চুক্তি সম্পন্ন হয়। সরকার বা প্রশাসনের পালাবদল ঘটলেও এসব কেনাকাটার গতি রহস্যজনকভাবে অব্যাহত ছিল। রয়টার্সের মতো আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো এই অস্বাভাবিক তাড়াহুড়োকে সরাসরি ‘ওয়াশিংটনের বাণিজ্যিক চাপ’ বা অর্থনৈতিক বলপ্রয়োগ হিসেবেই আখ্যায়িত করেছে।

শুল্ক বৈষম্যের একতরফা ফাঁদ

এই চুক্তির সবচেয়ে অসম, বৈষম্যমূলক এবং ধ্বংসাত্মক অংশটি লুকিয়ে আছে এর শুল্ক কাঠামোর ভেতরে। চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশকারী বাংলাদেশি পণ্যের ওপর পাল্টা শুল্ক বা রিট্যালিয়েটরি ট্যারিফের হার হবে ১৯ শতাংশ। অনেক ক্ষেত্রে এটি যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান এমএফএন (মোস্ট ফেভারড নেশন) শুল্কের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হবে। ফলে পারস্পরিক শুল্ক ছাড়ের আওতার বাইরে থাকা বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্যগুলোর (যেমন তৈরি পোশাক) ওপর যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে মোট গড় শুল্ক গিয়ে দাঁড়াতে পারে প্রায় ৩৪ শতাংশে (১৫% এমএফএন শুল্ক + ১৯% পাল্টা শুল্ক)। এত বিপুল পরিমাণ শুল্কের বোঝা মাথায় নিয়ে বাংলাদেশের পণ্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে কোনোভাবেই অন্যান্য দেশের সস্তা পণ্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে পারবে না।

ঠিক এর বিপরীতে, বাংলাদেশের বাজারে প্রবেশকারী যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপর গড় আমদানি শুল্ক বর্তমানে রয়েছে মাত্র ৬.২ শতাংশের আশপাশে। এর সঙ্গে বিভিন্ন কর রেয়াত ও ছাড় বিবেচনা করলে মার্কিন পণ্যের ওপর বাংলাদেশের কার্যকর গড় শুল্ক দাঁড়ায় মাত্র ২.২ শতাংশ। নতুন এই চুক্তি যদি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়, তবে বাংলাদেশের বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ পণ্য প্রবেশের ক্ষেত্রে এই সামান্য শুল্কও প্রায় শূন্যের কাছাকাছি নেমে আসবে।

চূড়ান্ত বাস্তবতা দাঁড়াবে ঠিক এ রকম—বাংলাদেশ নিজের দেশের বাজার মার্কিন কোম্পানিগুলোর জন্য পুরোপুরি উন্মুক্ত করে দেবে, কিন্তু নিজেদের পণ্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বিক্রি করতে গিয়ে ৩৪ শতাংশের মতো এক বিশাল শুল্ক বাধার পাহাড়ের মুখোমুখি হবে। এখানেই সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি জাতির সামনে এসে দাঁড়ায়। এটিকে কি কোনোভাবেই মুক্ত বাণিজ্য বা ফ্রি ট্রেড বলা যায়? নাকি এটি এমন এক নব্য বিশ্বব্যবস্থার নির্লজ্জ প্রতিফলন, যেখানে শক্তিশালী পশ্চিমা অর্থনীতিগুলো চুক্তির সুন্দর সুন্দর ভাষা ব্যবহার করে দুর্বল ও উন্নয়নশীল রাষ্ট্রগুলোর নীতিগত স্বাধীনতা, অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব এবং নিজস্ব সক্ষমতাকে চিরতরে পঙ্গু করে দেয়?

তথ্যসূত্র: দ্যা পোস্ট


এ জাতীয় আরো খবর...