আগামী ১১ জুন থেকে উত্তর আমেরিকায় পর্দা উঠতে যাচ্ছে ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপের জমকালো আসরের। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে ৪৮টি দলের অংশগ্রহণে ১৯ জুলাই পর্যন্ত চলবে এই মহাযজ্ঞ। আর ফুটবলের এই বিশ্বমঞ্চ প্রস্তুত হওয়ার ঠিক আগেই ফুটবলপ্রেমীদের, বিশেষ করে ব্রাজিল সমর্থকদের জন্য এক অনন্য উপহার নিয়ে হাজির হয়েছে বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম নেটফ্লিক্স। গত ২৯ মে বিশ্বজুড়ে পর্তুগিজ ভাষায় নির্মিত পাঁচ পর্বের স্পোর্টস ড্রামা সিরিজ ‘ব্রাজিল ৭০: দ্য থার্ড স্টার’-এর স্ট্রিমিং শুরু হয়েছে, যা ইতোমধ্যেই ১৬ বছর ঊর্ধ্বের দর্শকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের সেরা দল হিসেবে বিবেচনা করা হয় পেলের নেতৃত্বাধীন ১৯৭০ সালের ব্রাজিল দলকে। মেক্সিকো বিশ্বকাপে ফাইনালে ইতালিকে ৪-১ গোলে বিধ্বস্ত করে তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জিতে জুলে রিমে ট্রফি চিরতরে নিজেদের করে নিয়েছিল সেলেসাওরা। রবার্তো রিভেলিনো, টোস্টাও, কার্লোস আলবার্তো এবং জাইরজিনহোদের মতো কিংবদন্তিদের নিয়ে গড়া সেই জাদুকরী দলের ঐতিহাসিক বিশ্বকাপ জয়ের রোমাঞ্চকর নেপথ্য গল্প নিয়েই আবর্তিত হয়েছে এই ওয়েব সিরিজের কাহিনী। বিশ্বখ্যাত প্রযোজনা সংস্থা ওটু ফিল্মসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা পাওলো মোরেলি এবং তার ছেলে পেড্রো মোরেলি যৌথভাবে এটি পরিচালনা করেছেন। এর নেপথ্য ক্রিয়েটর হিসেবে নিপুণ হাতে কাজ করেছেন নানা জাভিয়ের ও রাফায়েল দোর্নেলাস।
সিরিজটিতে একঝাঁক প্রতিভাবান অভিনয়শিল্পীর সমাহার ঘটেছে। ফুটবল সম্রাট পেলের মতো আইকনিক চরিত্রে দুর্দান্ত অভিষেক হয়েছে নবাগত অভিনেতা লুকাস অ্যাগ্রিকোলার। ১৯৭০ সালের সেই দলের সাফল্যের নেপথ্যে ছিল গভীর মনস্তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক টানাপোড়েন। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে দলকে সফলভাবে নেতৃত্ব দেওয়া স্পষ্টবাদী সাংবাদিক ও তৎকালীন কোচ জোয়াও সালদানহাকে টুর্নামেন্ট শুরুর ঠিক আগেই বরখাস্ত করা হয় এবং তার জায়গায় দায়িত্ব নেন কিংবদন্তি মারিও জাগালো। সিরিজে সালদানহার চরিত্রে রদ্রিগো সান্তোরো এবং জাগালোর চরিত্রে ব্রুনো মাজ্জেওর অভিনয় সেই ঐতিহাসিক স্নায়ুযুদ্ধকে পর্দায় জীবন্ত করে তুলেছে। এছাড়াও ইউসেবিও তিসেইরার চরিত্রে মার্সেলো আদনেত, জাইরজিনহোর চরিত্রে গুই ফেররাজ এবং রোজমেরির চরিত্রে ব্রুনা মাসকারেনহাস অভিনয় করেছেন।
শুধুমাত্র মাঠের মোহনীয় ফুটবল নয়, তৎকালীন খেলোয়াড় ও কোচদের ড্রেসিংরুমের ভেতরের নানা অজানা কথাবার্তা, অন্তর্দ্বন্দ্ব এবং মনস্তাত্ত্বিক লড়াইয়ের চরম নাটকীয়তা অত্যন্ত নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এই স্পোর্টস ড্রামায়। ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপের মতো একটি বৈশ্বিক মহারণের ঠিক আগে এই সিরিজটি মুক্তি পাওয়ায়, তা বিশ্বজুড়ে ফুটবল ভক্তদের মনে এক নতুন উন্মাদনা ও নস্টালজিয়ার সৃষ্টি করেছে। আধুনিক ফুটবলের ডামাডোলের মাঝে পেলের সেই সোনালী প্রজন্মের স্মৃতি রোমন্থন প্রতিটি ব্রাজিল ভক্তের জন্যই এক বিশেষ আবেগের খোরাক জোগাচ্ছে।