শিরোনামঃ
সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ, এবার রামিসা হত্যা মামলার চূড়ান্ত যুক্তিতর্কে পালা সারাদেশে মৃদু তাপপ্রবাহ, কিছু অঞ্চলে বৃষ্টির পূর্বাভাস বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক এক নতুন মাইলফলকে: স্পিকার এলপিজি ও অটোগ্যাসের দাম কমলো ভোলায় চিরনিদ্রায় শায়িত তোফায়েল আহমেদ রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে নরওয়ের জোরালো ভূমিকা চান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব বাড়াতে ঢাকা ও বার্নের নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগ ২৩ ঘরোয়া ও ৪৭ আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট নিয়ে বাফুফের মেগা বর্ষপঞ্জি প্রকাশ পরীক্ষায় ভালো করার সিক্রেট: একজন সেরা ছাত্রের পরামর্শ গোহত্যা করলে মুসলিমদের চরম পরিণতি ভোগ করার হুমকি উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর
বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ০৩:৫৯ পূর্বাহ্ন

ক্যানসার চিকিৎসায় যুগান্তকারী ইনজেকশন, পুরোপুরি নির্মূল হচ্ছে টিউমার

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৩ বার
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬

ক্যানসারের মতো মারণব্যাধির চিকিৎসায় চিকিৎসাবিজ্ঞানে এক অভাবনীয় সাফল্যের দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। বিশ্বজুড়ে ১১টি দেশে পরিচালিত একটি আন্তর্জাতিক ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে সম্পূর্ণ নতুন ধরনের একটি ইনজেকশন প্রয়োগ করে চিকিৎসকরা বিস্ময়কর ও অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক ফলাফল পেয়েছেন। ‘অ্যামিভান্টাম্যাব’ নামের এই অত্যাধুনিক ইনজেকশনটি এমন সব ক্যানসার রোগীদের ওপর প্রয়োগ করা হয়েছিল, যাদের ক্যানসার শরীরের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়েছিল কিংবা পুনরায় ফিরে এসেছিল এবং কেমোথেরাপিসহ প্রচলিত অন্য কোনো চিকিৎসাতেই আর কাজ হচ্ছিল না। এই ইনজেকশনটি প্রয়োগের মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই রোগীদের টিউমারের আকার নাটকীয়ভাবে ছোট হতে শুরু করে এবং এক-তৃতীয়াংশের বেশি রোগীর ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। এমনকি ১৫ জন রোগীর ক্ষেত্রে চিকিৎসকরা দেখতে পান যে, ওষুধটির প্রভাবে তাদের টিউমার সম্পূর্ণভাবে গলে গিয়ে নির্মূল হয়ে গেছে।

জনসন অ্যান্ড জনসন কোম্পানির উদ্ভাবিত এই ‘স্মার্ট’ ইনজেকশনটি মূলত ত্রিমুখী কার্যক্ষমতাসম্পন্ন, যা ক্যানসারের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কার্যকরভাবে লড়াই করতে পারে। প্রথমত, এটি টিউমারের দ্রুত বৃদ্ধিতে সহায়ক ‘ইজিএফআর’ (এপিডার্মাল গ্রোথ ফ্যাক্টর রিসেপ্টর) নামের একটি বিশেষ প্রোটিনকে আটকে দেয়। দ্বিতীয়ত, এটি ‘এমইটি’ নামের একটি পথকে সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ করে দেয়, যে পথ ব্যবহার করে ক্যানসার কোষগুলো অনেক সময় চিকিৎসার প্রভাব থেকে বেঁচে যাওয়ার চেষ্টা করে। তৃতীয়ত এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, এটি রোগীর শরীরের নিজস্ব রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে দারুণভাবে সক্রিয় করে তোলে, যাতে শরীর নিজেই টিউমারের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারে। প্রচলিত ক্যানসার চিকিৎসার মতো শিরায় স্যালাইনের মাধ্যমে দীর্ঘ সময় নিয়ে এটি দিতে হয় না; বরং ত্বকের নিচে ছোট্ট ইনজেকশনের মাধ্যমে প্রতি তিন সপ্তাহে মাত্র একবার এটি পুশ করা হয়। এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও অত্যন্ত মৃদু; ফলে এই চিকিৎসা পদ্ধতিটি রোগীদের জন্য অনেক বেশি দ্রুত, সহজ এবং স্বস্তিদায়ক।

এই অভাবনীয় সাফল্যের বিষয়ে লন্ডনের স্বনামধন্য ‘ইনস্টিটিউট অব ক্যানসার রিসার্চ’-এর বায়োলজিক্যাল ক্যানসার থেরাপিবিষয়ক অধ্যাপক কেভিন হ্যারিংটন উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, যেসব রোগীর অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন এবং যাদের চিকিৎসার সুযোগ একেবারেই সীমিত, তাদের ক্ষেত্রে এমন জাদুকরী ফলাফল সত্যিই নজিরবিহীন। মাথা ও গলার ক্যানসারে আক্রান্ত ১০২ জন রোগীর ওপর পরীক্ষামূলকভাবে এটি প্রয়োগ করার পর দেখা যায়, ৪৩ জন রোগীর টিউমার হয় ছোট হয়ে গেছে অথবা পুরোপুরি অদৃশ্য হয়ে গেছে। এর মধ্যে ২৮ জনের টিউমারের আকার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে এবং ১৫ জনের টিউমার শতভাগ নির্মূল হয়েছে। গবেষকরা জানিয়েছেন, ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রেও এটি সমানভাবে কার্যকর। বর্তমানে মলাশয়, মস্তিষ্ক ও পাকস্থলীর ক্যানসারের ক্ষেত্রে এর কার্যকারিতা যাচাই করতে বিশ্বব্যাপী প্রায় ৬০টি ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চলমান রয়েছে। এই গবেষণার পূর্ণাঙ্গ ফলাফল যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে অনুষ্ঠেয় বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্যানসারবিষয়ক সম্মেলন ‘আমেরিকান সোসাইটি অব ক্লিনিক্যাল অনকোলজি’-এর (অ্যাসকো) বার্ষিক সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করা হবে।

এই নতুন চিকিৎসার সুফল পেয়ে নিজেদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে শুরু করেছেন অনেক রোগী, যাদের মধ্যে ৫৬ বছর বয়সি কার্ল ওয়ালশ অন্যতম। ২০২৪ সালের মে মাসে জিহ্বায় ক্যানসার ধরা পড়ার পর তিনি যুক্তরাজ্যের রয়্যাল মার্সডেন হাসপাতালে ‘অরিগ্যামি-৪’ নামের ওই ট্রায়ালে অংশ নেন। চিকিৎসা শুরুর আগে তীব্র ব্যথা ও ফোলার কারণে তিনি ঠিকমতো কথা বলতে বা খেতে পারতেন না। কিন্তু এই ইনজেকশন নেওয়ার পর তার ব্যথা ও ফোলা প্রায় মিলিয়ে গেছে এবং প্রচলিত কেমোথেরাপির মতো কোনো যন্ত্রণাদায়ক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও তাকে পোহাতে হয়নি। মাত্র দুটি চক্র পার হওয়ার পরই তার খাদ্যাভ্যাস স্বাভাবিক হয়ে আসে এবং ছয় মাসের মাথায় তিনি পছন্দের স্টেকসহ সব ধরনের খাবার স্বাভাবিকভাবে খেতে পারছেন। বর্তমানে তিনি পুরোপুরি সুস্থ মানুষের মতো জীবনযাপন করছেন এবং কর্মক্ষেত্রে হেডসেট ব্যবহার করে অনায়াসেই কথা বলতে পারছেন। এই যুগান্তকারী আবিষ্কার ক্যানসার চিকিৎসায় আগামী দিনে হাজার হাজার মুমূর্ষু রোগীর জীবনে নতুন আশার আলো হয়ে দেখা দেবে বলে চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন।


এ জাতীয় আরো খবর...