শিরোনামঃ
সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ, এবার রামিসা হত্যা মামলার চূড়ান্ত যুক্তিতর্কে পালা সারাদেশে মৃদু তাপপ্রবাহ, কিছু অঞ্চলে বৃষ্টির পূর্বাভাস বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক এক নতুন মাইলফলকে: স্পিকার এলপিজি ও অটোগ্যাসের দাম কমলো ভোলায় চিরনিদ্রায় শায়িত তোফায়েল আহমেদ রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে নরওয়ের জোরালো ভূমিকা চান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব বাড়াতে ঢাকা ও বার্নের নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগ ২৩ ঘরোয়া ও ৪৭ আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট নিয়ে বাফুফের মেগা বর্ষপঞ্জি প্রকাশ পরীক্ষায় ভালো করার সিক্রেট: একজন সেরা ছাত্রের পরামর্শ গোহত্যা করলে মুসলিমদের চরম পরিণতি ভোগ করার হুমকি উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর
বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ০৩:৫৯ পূর্বাহ্ন

বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলে যুবলীগের অনুপ্রবেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৬ বার
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যকার দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নিয়েছে। তবে এই সংঘাতের সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর দিক হলো, এতে সরাসরি জড়িয়ে পড়েছে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠন যুবলীগের নেতাকর্মীরা। গত সোমবারের এই পৈশাচিক হামলায় অন্তত তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন এবং স্থানীয় দুটি ওয়ার্ডের বিএনপি কার্যালয়সহ অন্তত ১০টি সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাটের শিকার হয়েছে। চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর স্বৈরাচারী শাসনের পতনের পর থেকে যেখানে আওয়ামী লীগের রাজনীতি কোণঠাসা, সেখানে বিএনপির কোন্দলকে পুঁজি করে তাদের এই আকস্মিক আত্মপ্রকাশ স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে।

আহতদের মধ্যে ৭০ বছর বয়সী বৃদ্ধ মুসা, ৩৫ বছর বয়সী সুমন এবং ২৮ বছর বয়সী জিকু নামের তিনজনকে উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে সুমন ও জিকুর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য জরুরিভিত্তিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকেই এই বিরোধের সূত্রপাত। মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য ও বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কামরুজ্জামান রতনের সমর্থক মুসা গ্রুপের সাথে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ও স্থানীয় বিএনপি নেতা মোহাম্মদ মহিউদ্দিনের অনুসারী শাহর আলীর সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা চলছিল। সোমবার বিকেলে স্থানীয় একটি ঈদগাহ ময়দানের পাশে মুসা ও শাহর আলীর মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়। এর পরপরই শাহর আলীর সমর্থক হিসেবে পরিচিত গজারিয়া উপজেলা যুবলীগ নেতা নাজমুল ইসলাম এবং মুসার অনুসারী যুবদল নেতা আনোয়ার হোসেন প্রধানের সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়, যা পরবর্তীতে পুরো গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে।

সংঘর্ষের একপর্যায়ে হোসেন্দী ইউনিয়নের ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপি কার্যালয় এবং অন্তত ১০টি বাড়িঘরে হামলা চালানো হয়। যুবলীগ নেতা নাজমুলের অনুসারীরাই এই পরিকল্পিত তাণ্ডব চালিয়েছে বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, বেশ কিছু যুবক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সাধারণ মানুষের ঘরবাড়িতে বর্বর হামলা চালাচ্ছে। তবে যুবলীগ নেতা নাজমুল এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, যুবদল নেতার অনুসারীরাই প্রথমে তাদের ওপর হামলা করতে চেয়েছিল। গজারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ হাসান আলী জানিয়েছেন, এটি তাদের দীর্ঘদিনের গ্রুপভিত্তিক কোন্দল এবং তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে, মুন্সীগঞ্জ সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ ইমরান আহমেদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানান, এটি সরাসরি রাজনৈতিক সংঘাতের চেয়ে দলীয় উপদলীয় কোন্দলেরই বহিঃপ্রকাশ।

বিএনপির এই কোন্দলের সমান্তরালে দেশের অন্যান্য জেলাতেও নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের নেতাকর্মীরা আকস্মিক তৎপরতা শুরু করেছে। একই দিনে বন্দরনগরী চট্টগ্রামের জিইসি মোড় এলাকায় ছাত্র-জনতার ওপর নির্মম নৃশংসতার দায়ে নিষিদ্ধ হওয়া বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা একটি ঝটিকা মিছিল বের করে। ওমর গনি এমইএস কলেজ শাখার ব্যানারে বের হওয়া এই মিছিলটি ২ নম্বর গেট এলাকা থেকে শুরু হয়ে জিইসি মোড়ের দিকে অগ্রসর হয় এবং সংগঠনের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারসহ সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে স্লোগান দেয়। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের জনসংযোগ কর্মকর্তা আমিনুর রশিদ জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই মিছিলকারীরা পালিয়ে যায়, তবে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে জড়িতদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।

অনুরূপভাবে, সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার শহরেও সোমবার ভোরে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ব্যানারে একটি ঝটিকা মিছিল বের করা হয়। সমশেরনগর রোডে অনুষ্ঠিত এই মিছিল থেকে পুলিশ ধাওয়া করে ফেরদৌসুর রহমান বাপ্পী (৩০) এবং আরমানুর রহমান (২০) নামের দুই সক্রিয় কর্মীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। মৌলভীবাজার সদর থানার ওসি মোঃ সাইফুল ইসলাম জানান, আইনভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। অন্যদিকে, নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার ফকিরবাড়ী মাদ্রাসা এলাকাতেও সোমবার সকালে ১৫-২০ জন যুবলীগ কর্মী একটি আকস্মিক মিছিল বের করার চেষ্টা করলে স্থানীয় জাতীয় নাগরিক কমিটির কর্মীরা তাদের ধাওয়া দেয়, যার ফলে তারা দ্রুত ছত্রভঙ্গ হয়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং তার সুযোগ নিয়ে নিষিদ্ধ সংগঠনের এই চোরাগোপ্তা পুনরুত্থানের চেষ্টা দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য একটি নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তথ্যসূত্র: নিউ এজ


এ জাতীয় আরো খবর...