শিরোনামঃ
‘দ্য রিং’ খ্যাত মার্কিন অভিনেত্রী ডেভেই চেজ আর নেই অতীত সাগরে ডুবসাঁতার- হাতে তিনটি স্বর্ণপদ্ম আধুনিক যুদ্ধের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সেনাবাহিনীর উন্নয়ন পরিকল্পনা চলছে: সেনাপ্রধান আদালতের সমন উপেক্ষা: সময় টিভির সাবেক এমডি আহমেদ জোবায়ের কারাগারে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন না করে নিরাপত্তা নিশ্চিতে ভারসাম্য রক্ষার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর সাগর-রুনি হত্যা মামলা: তদন্ত প্রতিবেদন জমার তারিখ পেছাল ১২৭ বার ইতিহাসের সর্বোচ্চ লোকসানে দেশের ব্যাংক খাত পুশইনে বিএসএফের নতুন কৌশল ও রুট পঞ্চগড়ে সেনানিবাস স্থাপনের দাবি তুললেন সারজিস আলম মাতারবাড়ী সংযোগ সড়ক প্রকল্পে সাড়ে৪শ কোটি টাকার হরিলুট
বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ১০:৩৭ অপরাহ্ন

চীনে ১২ হাজার ডিগ্রি বাতিল, অগ্রাধিকার পাচ্ছে এআই শিক্ষা

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৮ বার
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬

বিশ্বজুড়ে কর্মসংস্থান ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রাকে ওক্টোপাসের মতো গ্রাস করে চলেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (Artificial Intelligence) প্রযুক্তি। প্রযুক্তির এই অতি-দ্রুত বিকাশের সরাসরি প্রভাব এবার পড়েছে শিক্ষাখাতে। যুগের সাথে তাল মেলাতে চীনের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে প্রায় ১২ হাজার প্রথাগত কলা (Arts), মানবিক (Humanities) এবং ভাষাভিত্তিক (Language) ডিগ্রি সম্পূর্ণ বাতিল করেছে দেশটির সরকার। এর পরিবর্তে তারা এখন সম্পূর্ণ প্রযুক্তি ও এআই-নির্ভর আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

চীনের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে হংকং-ভিত্তিক গণমাধ্যম ‘সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট’-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়েছে।

বাজারের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ পুরোনো পাঠ্যক্রম

চীনা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, অনেক পুরোনো, ঐতিহ্যবাহী ও প্রচলিত শিক্ষাবিষয় বর্তমান আধুনিক বৈশ্বিক চাকরির বাজারের বাস্তব চাহিদার সঙ্গে বিন্দুমাত্র সামঞ্জস্য রাখতে পারছে না। এসব তত্ত্বীয় ও মানবিক ডিগ্রি নিয়ে পড়াশোনা শেষ করে শিক্ষার্থীরা চাকরির বাজারে গিয়ে তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে পড়ছেন এবং আশানুরূপ কর্মসংস্থান পাচ্ছেন না। এই কারণে ডিগ্রিগুলো ধীরে ধীরে স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে।

এর বিপরীতে চীনের নতুন শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যক্রমে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে— কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডেটা সায়েন্স, রোবোটিকস এবং ‘এমবডিড ইন্টেলিজেন্স’ (শারীরিক বা যান্ত্রিক রূপযুক্ত এআই)-এর মতো ভবিষ্যৎমুখী বিষয়গুলোকে। এসব আধুনিক প্রযুক্তিভিত্তিক ডিগ্রি চীনের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা এবং বৈশ্বিক প্রযুক্তি বাজারে আধিপত্য বজায় রাখতে সরাসরি সহায়ক হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছে দেশটির সরকার। বিগত মাত্র পাঁচ বছরে চীনে ১০ হাজারেরও বেশি নতুন ডিগ্রি ও ফলিত কোর্স চালু করা হয়েছে, যার সিংহভাগই এআই ও রোবোটিকস সংশ্লিষ্ট।

সৃজনশীল পেশাতেও মানুষের কাজ কেড়ে নিচ্ছে এআই

উদ্বিগ্ন শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, আগে ধারণা করা হতো এআই শুধু ডেটা এন্ট্রি বা গাণিতিক কাজ করবে, কিন্তু বর্তমান উন্নত এআই সৃজনশীল কাজও মানুষের চেয়ে দ্রুত করতে পারছে। ডিজিটাল ডিজাইন তৈরি, থ্রিডি মডেল নির্মাণ, কনটেন্ট রাইটিং, নিখুঁত ছবি আঁকা থেকে শুরু করে যেকোনো ভাষার অনুবাদ—সবই এখন এআই দিয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন হচ্ছে। এর ফলে কর্পোরেট সেক্টরে প্রচলিত কলা বা ভাষা শিক্ষা থেকে গ্র্যাজুয়েশন করা শিক্ষার্থীদের চাকরির সুযোগ মারাত্মকভাবে সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই শিক্ষাগত ও কাঠামোগত রূপান্তর শুধু চীনে সীমাবদ্ধ নেই। চীনকে অনুসরণ করে ভারত, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), যুক্তরাজ্য এবং স্পেনের মতো বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় অর্থনীতির দেশগুলোও তাদের নিজস্ব শিক্ষাব্যবস্থায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে বাধ্যতামূলকভাবে যুক্ত করছে। ভবিষ্যতের শ্রমবাজারের আধুনিক চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন প্রজন্মকে একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার উপযোগী করে গড়ে তোলাই এই বৈশ্বিক পরিবর্তনের মূল লক্ষ্য।


এ জাতীয় আরো খবর...