শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ০৮:০১ অপরাহ্ন

ফ্রিজ ছাড়াই দীর্ঘদিন আম তাজা রাখার দারুণ কিছু কৌশল

নিজস্ব প্রতিবেদক / ২ বার
প্রকাশ: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬

বাজারে এখন হিমসাগর, ল্যাংড়া, আম্রপালি সহ নানা জাতের সুস্বাদু আমের সমাহার। ভরা মৌসুমে দাম কিছুটা সাধ্যের মধ্যে থাকায় অনেকেই একবারে বেশি পরিমাণে আম কিনে রাখছেন। তবে বিপত্তি ঘটছে সংরক্ষণে নিয়ে। ফ্রিজে জায়গার অভাব, আবার প্রচণ্ড গরমে ঘরের সাধারণ তাপমাত্রায় রাখলেও আম দ্রুত মজে যাওয়া কিংবা পচে যাওয়ার ভয় থাকে। এই সমস্যার সমাধানে ভারতীয় গণমাধ্যম ‘আনন্দবাজার’-এর এক প্রতিবেদনে ফ্রিজ ছাড়াই আম ভালো রাখার চমৎকার কিছু ধাপের কথা জানানো হয়েছে:

১. ঠান্ডা পানিতে ডুবিয়ে রাখা

বাজার থেকে আম কিনে আনার পর প্রথম কাজ হলো সেগুলোকে অন্তত ২ থেকে ৩ ঘণ্টা একটি বড় বালতি বা গামলাভর্তি ঠান্ডা পানিতে ডুবিয়ে রাখা। এই প্রক্রিয়ায় আমের ভেতরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা বা ‘ফিল্ড হিট’ দ্রুত কমে যায়। ফলে আম অতিরিক্ত পাকার প্রক্রিয়াটি ধীর হয়ে আসে। পানি থেকে তোলার পর প্রতিটি আম সুতির শুকনো ও নরম কাপড় দিয়ে খুব ভালোভাবে মুছে নিতে হবে, যেন গায়ে বিন্দুমাত্র পানি লেগে না থাকে।

২. সাধারণ কাগজে মুড়িয়ে রাখা

আমের ভেতরের আর্দ্রতা ধরে রাখতে এবং বাইরের অতিরিক্ত গরম হাওয়া থেকে রক্ষা করতে প্রতিটি আম আলাদাভাবে যেকোনো সাধারণ কাগজ বা খবরের কাগজ দিয়ে মুড়িয়ে রাখুন। এরপর একটি পিচবোর্ডের কার্টন (বাক্স) বা বড় ঝুড়িতে সেগুলো পাশাপাশি সাজিয়ে রাখুন। এই কৌশলে আমে সহজে মজে যাবে না কিংবা কোনো কুৎসিত কালো দাগও পড়বে না।

৩. প্লাস্টিকের ব্যাগ বর্জন ও ছড়ানো মেঝে

আম সংরক্ষণের জন্য প্লাস্টিকের ব্যাগ বা পলিথিন পুরোপুরি বর্জন করতে হবে। প্লাস্টিকের ভেতরে বাতাস চলাচল করতে না পারায় আম দ্রুত পচে যায়। যদি ঘরে রাখার মতো পিচবোর্ডের বাক্স না থাকে, তবে ঘরের মেঝেতে চট অথবা খবরের কাগজ বিছিয়ে তার ওপর আমগুলো সুন্দর করে ছড়িয়ে রাখতে পারেন।

৪. সঠিক স্থান নির্বাচন

আম রাখার জন্য ঘরের এমন একটি কোণ বা জায়গা বেছে নিন যা তুলনামূলকভাবে ঠান্ডা এবং যেখানে সরাসরি রোদ বা রান্নাবাড়ির তাপ আসে না। তবে স্থানটিতে যেন পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের (Ventilation) ব্যবস্থা থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি।

৫. দূরত্ব বজায় রাখা

সংরক্ষণের সময় আম কখনোই একটির ওপর আরেকটি গাদাগাদি করে স্তূপ বানিয়ে রাখা যাবে না। একটি আম থেকে আরেকটি আমের মাঝে সামান্য দূরত্ব বা ফাঁকা জায়গা বজায় রেখে সাজাতে হবে। এতে প্রতিটি আমে বাতাস পৌঁছাবে এবং কোনো একটি আম পচতে শুরু করলেও অন্য আমে ছড়াবে না।

৬. নিয়মিত পর্যবেক্ষণ

ঝুড়ি বা মেঝেতে রাখা আমগুলো প্রতিদিন অন্তত একবার উল্টেপাল্টে পরীক্ষা করুন। যদি কোনো আমে হালকা কালো দাগ দেখা যায় কিংবা কোনো একটি আম বেশি নরম হতে শুরু করেছে বলে মনে হয়, তবে সেটিকে অবিলম্বে বাকি ভালো আমগুলোর কাছ থেকে সরিয়ে ফেলুন এবং দ্রুত খেয়ে নিন।


এ জাতীয় আরো খবর...